বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার তিরাইল গ্রামটি এখন পরিযায়ী পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। স্থানীয়দের উদ্যোগে শিকারমুক্ত পরিবেশ গড়ে ওঠায় গ্রামটি ‘পাখিদের গ্রাম’ নামে খ্যাতি পেয়েছে। এক সময় কেবল শীত মৌসুমেই এসব পরিযায়ীরা আসত। এখন পুরো বছরই অতিথি পাখিরা এখানে অবস্থান করছে। ফলে সারা বছরই পাখিদের কোলাহলে মুখর থাকে পুরো গ্রামটি।
গত রোববার সরেজমিন দেখা যায়, তিরাইল বাজারসংলগ্ন প্রায় ১২ বিঘা জমির একটি বড় বাঁশঝাড়ে এবং আশপাশের আরো অনেক গাছে হাজারো পাখি বাসা বেঁধে আছে। ভোর হতেই বাঁশঝাড়ে শুরু হয় পাখিদের কলতান। ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে বেড়ানো কিংবা ডালে ডালে তাদের কিচিরমিচির শব্দ প্রকৃতিকে প্রাণবন্ত করে রাখে। স্থানীয়দের ভাষ্য, খাদ্যের সন্ধানে সুদূর সাইবেরিয়া থেকে আসা এসব পাখি এখন তিরাইলেই স্থায়ী আবাস গড়ে তুলেছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরাও ভিড় করছেন পাখিদের দেখার জন্য।
স্থানীয় শিক্ষার্থী সিনথিয়া মুস্তারিন জানায়, এখানে বক, সারস, বুনো হাঁস, বালি হাঁস, পানকৌড়ি, শামুকখোল, হড়িয়াল ও হাড়গিলাসহ নানা প্রজাতির পরিযায়ী পাখি দেখতে পাওয়া যায়। এর মধ্যে শামুকখোল ও হাড়গিলার সংখ্যাই বেশি। পাখিগুলো আশপাশের বিল থেকে শামুক ও ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানায় পাখিপ্রেমীরা। দিনের বেলায় বিলজুড়ে তাদের দলবদ্ধ বিচরণ প্রকৃতিপ্রেমীদেরকে আরো মুগ্ধ করে।
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক হাবিবুর রহমান বলেন, আগে পাখিরা শীতকালে আসত এবং গরম শুরু হলেই চলে যেত। কিন্তু এলাকাবাসী কোনোভাবে তাদেরকে বিরক্ত না করায় এখন প্রায় এক যুগ ধরে পাখিরা এখানেই স্থায়ী আবাস গড়ে তুলেছে। বাঁশঝাড় ও বড় গাছে বাসা বাঁধছে, ডিম পাড়ছে, বাচ্চা ফোটাচ্ছে।
তিরাইলের মাদরাসা শিক্ষক আফজাল হোসেন জানান, এলাকাবাসী পাখি শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। তবে মাঝে মধ্যে রাতের আঁধারে কেউ কেউ বাচ্চাসহ পাখি চুরি করে নিয়ে যায়। প্রশাসনের আরো তৎপরতা বাড়াতে হবে। এখানে আনুষ্ঠানিকভাবে অভয়াশ্রম ঘোষণা করে পর্যটনকেন্দ্রও গড়ে তোলা সম্ভব।
স্থানীয় উদ্যোক্তা শাকিল আহমেদ বলেন, ভোরে পাখিদের কলতানে আমাদের ঘুম ভাঙে। সূর্য ওঠার সাথে সাথে শুরু হয় তাদের উড়াউড়ি। এ দৃশ্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর।
পাখি দেখতে আসা দর্শনার্থী সোহেল রানা বলেন, দেশে অনেক দেশীয় পাখি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তিরাইলে এত পাখির সমাবেশ দেখে সত্যিই ভালো লাগছে।
রাজশাহী বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, স্থানীয়দের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। সচেতনতা বৃদ্ধিতে সভা-সেমিনার ও বিলবোর্ড স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হলে আরো ভালো হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, পাখিদের অবাধ বিচরণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনেরও নজরদারি রয়েছে। কেউ শিকার করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়।



