ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ কর্তৃত্ববাদী একদলীয় পথে হাঁটছে। একটি ইলেক্টেড সরকার এসে সিলেক্টেড লোকদের দিয়ে স্থানীয় সরকার চালাবেন। সেগুলো আবার দলীয় লোক, সব বিএনপির। সবার আগে নাকি বাংলাদেশ, প্রধানমন্ত্রীকে আমরা বলেছি, বিএনপি ছাড়া বাংলাদেশে আর কোনো দল পাইলেন না? যতগুলো সিটি করপোরেশনে, জেলা পরিষদে প্রশাসক দিলেন সব কয়জন বিএনপির। এর আগে যারা ছিলেন, তারাওতো প্রশাসকই ছিলেন। আপনি দিলে সরাসরি নির্বাচন দিয়ে দেন, এটা আপনার অধিকার। কিন্তু তারা নির্বাচন দিলেন না। সরকার এসব আচরণের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের পথে হাঁটছেন না, বরং একদলীয় কর্তৃত্ববাদী একদলীয় পথে হাঁটছে। সেটা ধীরে ধীরে প্রমাণ দিয়েছে। গতকাল শনিবার ঠাকুরগাঁও শহরের মানবকল্যাণ পরিষদে জেলা জামায়াত আয়োজিত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী স্থানীয় সরকার জোটগতভাবে হবে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আট দল থেকে পরবর্তীতে হয়েছে এগারো দল। এটি মূলত নির্বাচনী ঐক্য। স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। সুতরাং জোটের শরিক দলগুলো আলাদাভাবে স্থানীয় নির্বাচনে তাদের প্রার্থী দিবে। আপনারা জানেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অনেক জায়গায় ইতোমধ্যে প্রার্থীও ঘোষণা করেছে। ভবিষ্যতে যদি স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে জোটগত কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয় তাহলে তখন সেটা জানতে পারবেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই সনদ কার্যকর করার দাবি প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করাসহ ৭০ ভাগ ভোটার যে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়ে যে রায় দিয়েছেন তা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এবং আমাদের আন্দোলন পরিণত জায়গায় না যাওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ এবং সংসদ উভয় জায়গায়ই আন্দোলন চালিয়ে যাবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং আইনমন্ত্রী যে সংসদে উল্টা কথা বলছেন, তারাও হ্যাঁ-তে ভোট দিয়েছেন। হ্যাঁ-তে ভোট দেয়ার অর্থ হলো কোনো রকম নোট অব ডিসেন্ট ব্যতীত সব সংস্কারকে মেনে নেয়া। জুলাই সনদের কথা দেখিয়ে উনারা বলেন যে অরে অরে মানবো, এটার মধ্যে ফাঁকি আছে। আট দশটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উনারা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন, মানবেন অর্থ হলো উনারা নোট অব ডিসেন্টসহ মানবেন। তাতে এদেশে সাংবিধানিক সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরিবর্তন হবে না। কর্তৃত্ববাদী শাসনই থেকে যাবে। আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করার। কিন্তু সরকার জুলাই সনদের কথা বললেও কখনো গণভোটের রায় নিয়ে কথা বলে না। তারা জুলাই সনদ আর গণভোট আলাদা করে ফেলেছে। কারণ, জুলাই সনদে নোট অব ডিসেন্ট আছে, কিন্তু গণভোটে কোনো নোট অব ডিসেন্ট নেই।
তিনি আরো বলেন, আমরা কোনো জাতীয় সঙ্কটকে জিইয়ে রাখতে চাই না। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কোনো সঙ্কটকে আমরা ইস্যু হিসেবে তৈরি করতে চাই না। জামায়াতে ইসলামীকে মোকাবেলা করার জন্য যখন কোন যুক্তি, নৈতিকতা, কোনো আদর্শ যখন হারিয়ে গেছে, তখন সরকার দলের লোকেরা জাতির সামনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমরা দেশের স্বার্থে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার স্বার্থে সরকারকে সহযোগিতা করব। যা আমাদের আমিরে জামায়াত ঘোষণা করেছেন।
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই উল্লেখ করে, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আমরা জাতিকে বিভক্ত করতে চাই না। পৃথিবীর কোন দেশে দেখবেন না যে, পঞ্চাশ, ষাট, আশি বা দশ বিশ বছরের কোনো ইস্যু নিয়ে তারা দেশকে, জাতিকে বিভক্ত করে। এখন সরকারের কিছু কিছু লোক, মন্ত্রীরা, যারা পলিসি মেকার, তারা বলছেন আমরা আর কোন ইস্যু নিয়ে দেশকে আর বিভক্ত করতে চাই না, ঐক্যবদ্ধ থাকতে চাই। এ জন্য আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। আগামী ৭ জুন সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। আমাদের আমিরে জামায়াত ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে , দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির জন্য, বিদেশী ঋণমুক্ত হয়ে একটি উন্নয়নশীল দেশ গড়ার লক্ষ্যে যে বাজেট প্রস্তাবনা আসবে তাতে সহযোগিতা করব। আমরা সে লক্ষ্যে প্রি-বাজেট ডিসকাশন করছি। সেই সাথে সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেয়া ও পরামর্শ দেয়ার লক্ষ্যে আমাদের বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। শিগগিরই তা অফিসিয়ালি ঘোষণা করে দেশবাসীকে জানানো হবে।
ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধানের সভাপতিত্বে ও জেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলমগীরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় অ্যাসিট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম, সাবেক ঠাকুরগাঁও জেলা আমির ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলটিম সদস্য মাওলানা আব্দুল হাকিমসহ অন্য নেতৃবৃন্দ।
‘সরকার উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৈষম্য করছে’
সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা জানান, সরকার গণভোটের রায় নিয়ে যেমন প্রতারণা করছে তেমনি উন্নয়নের ক্ষেত্রে ব্যাপক বৈষম্য করছে। একইসাথে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে জনমতকে দাবিয়ে রাখার অপচেষ্টাও চালাচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এমন মন্তব্য করেছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় সৈয়দপুর বিমানবন্দরে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আমরা সরকারের উন্নয়নকার্যক্রমের বিরোধিতা বা আপত্তি করি না। বরং উৎসাহিত করি। কিন্তু উন্নয়নের ক্ষেত্রে আঞ্চলিকতা বা সরকারদলীয় এমপিকে প্রাধান্য দেয়াকে গ্রহণযোগ্য মনে করি না। বরং ন্যায্যতা ও সাম্যতার ভিত্তিতে উন্নয়ন করতে হবে। সরকার এক্ষেত্রেও চরম বৈষম্য শুরু করেছে। বিএনপির নির্বাচিত তাই একটা এলাকায় একাধারে সিটি করপোরেশন, নতুন উপজেলা সৃষ্টি, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করা হচ্ছে। অথচ সার্বিক গুরুত্ব বিবেচনা করে এসব উন্নয়ন ভিন্ন ভিন্ন স্থানে হওয়া উচিত। সেই ধারাবাহিকতায় সৈয়দপুর বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক করা সবচেয়ে যৌক্তিক।
এর আগে তিনি ঢাকা থেকে ইউএস বাংলা এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে সৈয়দপুরে এসে পৌঁছান। তার সফর সঙ্গী হিসেবে এসেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান ও সহসভাপতি গোলাম রব্বানী।



