ফুটো টিনের ঘর, বৃষ্টির পানিতে রাত কাটে বৃদ্ধ দম্পতির

Printed Edition

ফখর উদ্দিন ইমরান কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ফেকামারা গ্রামের হতদরিদ্র বৃদ্ধ দম্পতি নিন্দু মিয়া (৬৫) ও তার স্ত্রী কুলসুম (৪৬) মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জরাজীর্ণ ও নড়বড়ে টিনের ঘরে বছরের পর বছর ধরে বসবাস করলেও এখনো কোনো কার্যকর সহায়তা পাননি তারা। বৃষ্টি হলেই ঘরের ফুটো টিন দিয়ে পানি পড়ে, আর ঝড়ো বাতাস উঠলে ঘর ভেঙে পড়ার আতঙ্কে রাত কাটাতে হয় তাদের।

সরেজমিন দেখা যায়, ফসলি মাঠের মধ্যে ঝোপঝাড় ঘেরা একটি ছোট্ট বাঁশ ও টিনের ঘরে বাস করেন এই দম্পতি। ঘরের বিভিন্ন অংশে টিন খুলে গেছে, কোথাও আবার পলিথিন দিয়ে জোড়াতালি দেয়া হয়েছে। বৃষ্টির সময় পানি চুইয়ে পড়ায় ভেতরে শুকনো থাকার মতো কোনো জায়গা থাকে না। এমনকি ঘুমানোর সময়ও নিজেদের গায়ে পলিথিন মুড়িয়ে রাখতে হয়।

স্থানীয়রা জানান, নিন্দু মিয়া ও কুলসুমের তিন মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। বড় ছেলে আলাদা থাকেন এবং বাবা-মায়ের খোঁজখবর নেন না। ছোট ছেলেকে নিয়ে কোনো রকমে দিন পার করছেন তারা। ভিটেমাটি ছাড়া তাদের আর কোনো সম্পদ নেই। বয়স ও অসুস্থতার কারণে কাজ করার সক্ষমতাও হারিয়েছেন নিন্দু মিয়া।

নিন্দু মিয়া বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর পানি পড়ে। বিছানা ভিজে যায়, শরীরও ভিজে থাকে। ঝড় উঠলে ভয় হয়, এই বুঝি ঘরটা উড়ে গেল। আগে মানুষের জমিতে কাজ করে সংসার চালাতাম। এখন অসুস্থ শরীরে কাজ করতে পারি না। বয়স্ক ভাতাও পাই না।’

তার স্ত্রী কুলসুম বলেন, ‘আমাদের জীবনে সুখ বলতে কিছু নেই। ভালো খাবার খেতে পারি না, চিকিৎসা করাতে পারি না। সবসময় ভয় লাগে ঘরটা কখন ভেঙে পড়ে। কেউ আমাদের খোঁজও নেয় না।’ স্থানীয়দের দাবি, বৃদ্ধ দম্পতির জন্য একটি নিরাপদ ঘর ও সরকারি সহায়তা জরুরি। তাদের চিকিৎসা ও নিয়মিত ভাতার ব্যবস্থাও প্রয়োজন।

জালালপুর ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ফুটন্ত কলি সোশ্যাল অর্গানাইজেশন অ্যান্ড স্পোর্টস অ্যাকাডেমি’র চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান আল-আমিন বলেন, ‘নিন্দু মিয়া ও কুলসুমের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কষ্টকর। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো এগিয়ে এলে তাদের দুর্দশা অনেকটাই লাঘব হতে পারে। আমাদের সংগঠনও তাদের সহায়তায় উদ্যোগ নেয়ার চেষ্টা করছে।’

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল খায়ের বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। তারা যোগ্য হলে সরকারি বিধান অনুযায়ী বয়স্ক ভাতার আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মানবিক বিবেচনায় দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা পেলে জীবনের শেষ সময়ে অন্তত নিরাপদ আশ্রয় ও ন্যূনতম স্বস্তি পাবেন এই অসহায় বৃদ্ধ দম্পতি।