ক্রীড়া প্রতিবেদক
নিষিদ্ধ শক্তিবর্ধক ওষুধ বা ডোপ নেয়ার দায়ে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন দেশসেরা ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার। সাউথ এশিয়া রিজিওনাল অ্যান্টি ডোপিং অর্গানাইজেশন (সারাদো) তাদের রেজাল্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভায় বিশ্ব ডোপবিরোধী সংস্থা (ওয়াডা) কোড অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে মাবিয়াকে চিঠির মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানানো হয়েছিল। নিয়মানুযায়ী এই শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
মাদারীপুরের অতি সাধারণ একটি ঘর থেকে উঠে এসে দক্ষিণ এশিয়ার ভারোত্তোলনে রাজত্ব করেছিলেন মাবিয়া। ২০১৬ এসএ গেমসের পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে যখন দেশের জাতীয় সঙ্গীত শুনছিলেন, মাবিয়া আক্তার সীমান্তের সেই অশ্রুসজল চোখ নাড়িয়ে দিয়েছিল পুরো বাংলাদেশকে। চরম দারিদ্র্য আর প্রতিকূলতা জয় করে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ঢাকা শহরে ফ্ল্যাট পেয়ে আধুনিক জীবন যাপন করছিলেন। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে বিয়ে করেছিলেন সতীর্থ ভারোত্তোলক সাকায়েত হোসেন প্রান্তকে। সেই অদম্য অ্যাথলেটের ক্যারিয়ারে এবার নেমে এল বড় এক ধাক্কা।
গত বছরের সৌদি আরবের রিয়াদে হয়েছিল ইসলামিক সলিডারিটি গেমস। গেমস শুরুর আগে নিয়ম অনুযায়ী মাবিয়ার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ল্যাবরেটরিতে সেই নমুনায় নিষিদ্ধ ‘ডাইইউরেটিক্স’-এর উপস্থিতি পাওয়া যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বের করার জন্য ব্যবহৃত হয়, যা ‘ওয়াটার পিল’ নামে পরিচিত।
ভারোত্তোলনের মতো ওজনভিত্তিক খেলায় এটি অত্যন্ত কার্যকর হলেও আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে এর ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কারণ, এই ওষুধ শরীরে অন্য কোনো নিষিদ্ধ উপাদানের উপস্থিতি আড়াল করতে ‘মাসকিং এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করে। প্রথম দফার পরীক্ষার পর দ্বিতীয় দফার (বি-স্যাম্পল) পরীক্ষাতেও একই ফল আসায় মাবিয়ার বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়।
২০১০ সালে মামা শাহাদাৎ হোসেনের হাত ধরে ভারোত্তোলনের আঙিনায় পা রাখা মাবিয়া ২০১৩ সাল থেকেই ঘরোয়া আসরে ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ২০১৬ এসএ গেমসে ৬৩ কেজি বিভাগে স্বর্ণজয়, ২০১৯ এসএ গেমসে টানা দ্বিতীয়বারের মতো স্বর্ণপদক জয় এবং ২০১৮ কমনওয়েলথ গেমসে ১৮০ কেজি ওজন তুলে ষষ্ঠ হয়েছিলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে কোচদের সাথে দ্বন্দ্ব ও ফেডারেশনের অবহেলা নিয়ে মাবিয়া ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে। ২৬ বছর বয়সী একজন ভারোত্তোলকের জন্য দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা ক্যারিয়ারের বড় এক অনিশ্চয়তা তৈরি করল। দুই বছর ফেরাটা কি সুখের হবে স্বর্ণকন্যা মাবিয়া আক্তার সীমান্তর।



