ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের শর্তে সৌদি-পাকিস্তান তুরস্ক জোটে যোগ দিতে পারে ইসরাইল

Printed Edition

এএফপি

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত যে জোটের আলোচনা চলছে, ভবিষ্যতে তাতে শর্ত সাপেক্ষে যোগ দিতে পারে ইসরাইলও। শর্তটি হলো, ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুসারে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন।

জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ২৫ মে আঙ্কারায় দেয়া সাক্ষাৎকারে ফিদান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রেক্ষাপটে মধ্যম শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘তুরস্ক, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, সৌদি আরব, জার্মানি, ফ্রান্স এবং ব্রিটেনের মতো মধ্যম শক্তির দেশগুলোর আরো ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।’

চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার পর জাপান তুরস্কের তৃতীয় বৃহত্তম এশীয় বাণিজ্যিক অংশীদার। গত বছর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল জাপানের রফতানি। দুই দেশ এক দশকের বেশি সময় ধরে একটি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি এবং একটি সামাজিক নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে। সামাজিক নিরাপত্তা চুক্তি না থাকায় জাপানি প্রবাসীদের উভয় দেশেই প্রিমিয়াম পরিশোধ করতে হচ্ছে।

বর্তমান দায়িত্ব নেয়ার আগে এক দশকের বেশি সময় তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এমআইটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ফিদান। ২০২৩ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং আঙ্কারার পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান স্থপতি হিসেবে বিবেচিত হন। ইউক্রেন, গাজা ও ইরানকে ঘিরে চলমান বিভিন্ন সংঘাতে আঞ্চলিক কূটনীতির সামনের সারিতেও রয়েছেন তিনি।