নয়া দিগন্ত ডেস্ক
ঈদের ছুটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ২৭ জন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- বাবা-ছেলে, মা-মেয়ে ও তিন বন্ধু।
ময়মনসিংহ অফিস জানায়, ঈদের ছুটিতে ময়মনসিংহে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলেসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
গত শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ময়মনসিংহ-ফুলপুর সড়কের আলালপুর এলাকায় পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী- বাবা ও ছেলে নিহত হন। নিহতরা হলেন- ফুলপুর উপজেলার ডেফুলিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম (৪০) ও তার চার বছর বয়সী ছেলে রুহান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি ফুলপুরের দিকে যাচ্ছিল। পথে আলালপুর এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যান অটোরিকশাটিকে সামনে থেকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়।
একইদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার চরহোসেনপুর এলাকায় মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে আফতাব শাহরিয়ার মাহির (২০) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হন। তিনি নান্দাইল উপজেলার মুসল্লী গ্রামের আবদুল কাইয়ূম রেনু মিয়ার ছেলে এবং ঈশ্বরগঞ্জ সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
এর আগে, গত বুধবার রাত ১টার দিকে ময়মনসিংহ-শেরপুর মহাসড়কে আরেকটি দুর্ঘটনায় দুই অটোরিকশা যাত্রী নিহত হন এবং একজন গুরুতর আহত হন। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা হালুয়াগামী শ্যামলী বাংলা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে সজোরে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চিরিরবন্দর উপজেলার ফতেজংপুর ইউনিয়নের দশমাইল হাইওয়েতে একটি প্রাইভেটকারের সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দু’জন নিহত হয়েছে।
নিহতরা হলেন চিরিরবন্দরের বিশিষ্ট চক্ষু সার্জন ডা: খালেদ সাগরের একমাত্র ছেলে জাবির খালেদ এবং তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের বৈকুণ্ঠপুর গ্রামের শাহাপাড়া এলাকার মো: দুলাল হোসেনের ছেলে মো: রিয়াদ হোসেন। জানা গেছে, জাবির ও রিয়াদ দু’জনেই আমেনা-বাকি রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী। শনিবার বিকেলে তারা মোটরসাইকেলে করে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে গাড়োডাঙ্গি ব্রিজ এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেটকারের সাথে তাদের মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুন নবী দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। এ ঘটনায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে।
এ দিকেদিনাজপুরের ফুলবাড়ী মহাসড়কের আমবাড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বছরের শিশু নিহত হয়েছে। ঈদের আগের দিন ২৭ মে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার আমবাড়ী অবস্থিত মহাসড়কের জলপাইতলী নামক স্থানে অটোভ্যানের চাকার পড়ে শিশুটি গুরুতর আহত হয়। দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওসমানীনগর (সিলেট) সংবাদদাতা জানান, সিলেটের ওসমানীনগরে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে দ্রুতগতির একটি সিøপার কোচ ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই দু’জন নিহতসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। নিহত দু’জন হলেন- সড়কে দাঁড়ানো বাসের চালক ও নরসিংদী জেলার সাহেপ্রতাপ এলাকার মো: তাজুল ইসলামের ছেলে সোহেল মিয়া (৩০) ও বাস হেলপার ইমন আহমদ (২০)। গুরুতর আহতরা হলেন- মো: মাসুম মিয়া (৪৫), ফাহিম (২০), আনাজ (২০) ও জহির (২৫)। নিহত হেলপার ইমনের ঠিকানা জানা যায়নি। গত রোববার সকাল ৬টার দিকে উপজেলার তাজপুর কদমতলা সংলগ্ন এম এ আজিজ ইনডোর গ্রাউন্ডের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী যাতায়াত পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-০৬০২) যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে মহাসড়কের পাশে দাঁড় করিয়ে চালক ও হেলপার মেরামত কাজ শুরু করেন। এ সময় পেছন দিক থেকে আসা সেন্টমার্টিন পরিবহনের একটি সিøপার কোচ (ঢাকা মেট্রো-ব ১১-০২৪১) দ্রুতগতিতে এসে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাস দু’টি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দু’জনের মারা যান ও ১৫ জন আহত হন। খবর পেয়ে শেরপুর হাইওয়ে থানার পুলিশ ও তাজপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ও নিহতদের ময়নাতদন্তের জন্য একই হাসপাতাল মর্গে পাঠান।
ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বাস-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে সুরুজ আকন্দ (৪৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে মোটরসাইকেল চালক আলম। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার পশ্চিম ভূঞাপুর নতুন বাইপাস রোডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সুরুজ আকন্দ পশ্চিম ভূঞাপুর গ্রামের কালু আকন্দের ছেলে।
প্রত্যদর্শীরা জানান, ভূঞাপুর বাজার থেকে আলম ও সুরুজ আকন্দ মোটরসাইকেলে নিজ বাড়ি পশ্চিম ভূঞাপুরে যাচ্ছিলেন। এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা তারাকান্দিগামী একটি বাসের সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সুরুজ আকন্দ নিহত হন। আহত হন মোটরসাইকেল চালক আলম। তাকে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেভর্তি করা হয়েছে।
বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা জানান, নাটোরের বড়াইগ্রামে মোটরসাইকেল ও মাছবাহী মিনি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে রাহিক ইসলাম (২০) নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার আইড়মারি ব্রিজ এলাকায় বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রাহিক ইসলাম জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার শিধুলী গ্রামের হাসব আলীর ছেলে। তিনি গুরুদাসপুর বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা সরকারী কলেজ থেকে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আইড়মারি ব্রিজ এলাকায় ঢাকাগামী মাছবোঝাই ট্রাকের সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে মোটরসাইকেলের চালক রাহিক গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান।
নগরকান্দা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা জানান, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার পার্শ্ববর্তী নগরকান্দা উপজেলার ঝাটুরদিয়া এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে উল্টে পড়লে অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। এই আহতদের মধ্যে ২৩ জনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
নগরকান্দা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো: শাহিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঢাকা থেকে খুলনাগামী রাজিব পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত যাত্রীদের উদ্ধারের কার্যক্রম শুরু করেন এবং তাদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা জানান, সাতক্ষীরার শ্যামনগরে শংকরকাটিতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আনছার আলী মোড়ল (৯২) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালকসহ দু’জনকে পুলিশ আটক করেছে । গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শ্যামনগর-কাশিমাড়ী সড়কের শংকরকাটি জেলেপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আনছার আলী মোড়ল শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ী ইউনিয়নের শংকরকাটি এলাকার মৃত একিম আলী মোড়লের ছেলে।
আটককৃতরা হলেন, কাশিমাড়ী ইউনিয়নের শহীদুল্লাহর ছেলে সোহেল রানা বাবু (১৭) এবং একই এলাকার আবদুল হামিদের ছেলে সেলিম হোসেন (১৭)। নিহতের ছেলে নূর হোসেন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আনছার আলী মোড়ল স্থানীয় মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করে বাড়িতে আসার সময় শ্যামনগর সদর থেকে কাশিমাড়ীগামী একটি মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দিলে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে তাকে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।
বাসস জানায়, জেলার পলাশবাড়ী-গাইবান্ধা সড়কের থুটিয়াপুকুর এলাকায় একটি বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অন্তত একজন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। গত রোববার সকালে ঢাকা থেকে গাইবান্ধাগামী একটি বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে গাইবান্ধাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের চালক বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে বাসটি রাস্তার পাশের খাদে পড়ে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই এক নারী যাত্রী নিহত এবং আরো ১২ জন যাত্রী আহত হন।
খবর পেয়ে স্থানীয় দমকল ও বেসামরিক প্রতিরা স্টেশনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং মৃতদেহ উদ্ধার করে। আহতদের গাইবান্ধা সদর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুই আহত যাত্রীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। নিহত রিক্তা খাতুন (২৭) জেলার সদর উপজেলার সাহারবাজার এলাকার বাসিন্দা আজিজাল হকের স্ত্রী। তবে আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, নেত্রকোনায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা, মা দুই মেয়েসহ একই পরিবারের চারজন নিহত ও দুজন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। রোববার দুপুরে নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চল্লিশা বাইপাস সড়ক মোড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, নেত্রকোনা সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের আমলি কেশবপুর গ্রামের আইনুল হক (৫৬), স্ত্রী নূরজাহান বেগম (৪১) মেয়ে ইতি আক্তার (১৮) ও স্মৃতি আক্তার (১৩)। গুরুতর আহত হৃদয় (৩৯) ও মুস্তাকিম (২৭) এখন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কাতরাচ্ছেন। আহতরা একই এলাকার।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নেত্রকোনা থেকে ছেড়ে যাওয়া ময়মনসিংহগামী রুবি এন্টারপ্রাইজের একটি যাত্রীবাহী বেপরোয়াগামী বাস নেত্রকোনা শহর থেকে ৪ কিলোমিটার পশ্চিমে নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চল্লিশা নির্মাণাধীন বাইপাস মোড়ে পৌঁছলে কুমড়ি থেকে ছেড়ে আসা একটি অটোরিকশা বাক নেয়ার সময় মুখোমুখি সংঘর্ষে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রথমে দুর্ঘটনাস্থলে একজন, হাসপাতালে নেয়ার পথে ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজন মারা যান।
পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলী শিকলবাহা এলাকায় ঈগল পরিবহনের (চট্টগ্রাম-জ-১১-০১১৬) একটি বাস ও যাত্রী বোঝাই ((চট্টগ্রাম-ছ-১১-০১১৫) লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে লেগুনার চার যাত্রী নিহত ও অপর আট যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিনজনের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার পৃথক পৃথক স্থানে এবং অন্যজনের বাড়ি কর্ণফুলী উপজেলায়। গত ২৮ মে ঈদুল আজহার দিন রাত সাড়ে ৮টায় মুখোমুখি সংঘর্ষে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হচ্ছে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা খরনা ইউনিয়নের দুলা মিয়ার ছেলে মো: ইউসুফ (৫৩), একই উপজেলার আশিয়া ইউনিয়ন মোল্লাপাড়া খন্দকার বাড়ির মবিনুল ইসলামের ছেলে মো: রুবেল (২৬) ও পটিয়া পৌরসভার গোবিন্দারখিলের বাদশা মিয়ার ছেলে হারুনর রশিদ (৫১)। ও কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের খুরাইশ চৌধুরী বাড়ির নূর হোসেনের ছেলে মো: সজিব হোসেন (২৬)। ওই দুর্ঘটনায় আহত যাত্রীরা হচ্ছে আজগর আলী (৪৬), মো: ফরহাদ (৩০), মো: জমির উদ্দিন মো: মোস্তফা (৩০), মো: জসিম উদ্দিন (৬৫), মো: রিফাত (২৪) ও বাবুল। আহতরা বর্তমানে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
নিহত পটিয়ার ইউসুফের মো: মুছা বাদি হয়ে কর্ণফুলী থানায় ২৯ মে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন বলে নিশ্চিত করেছেন কর্ণফুলীর থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক বাবু পরিতোষ।
বগুড়া অফিস জানায়, বগুড়ার কাহালু উপজেলায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন বন্ধু নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বীরকেদার ইউনিয়নের বারোমাইল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- নওগাঁ জেলার খাস নওগাঁর আবুল কালাম আজাদের ছেলে মো: রাহিম (২১), চকদেব নুনিয়াপট্টি এলাকার ইউসুফের ছেলে অপূর্ব (১৮) এবং একই এলাকার সুরুজের ছেলে প্রেম (২০)। এরা তিনজনই একে অপরের বন্ধু ছিল। এ ঘটনায় আরো দুজন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী এক যুবক জানান, যখন হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল তখন নওগাঁ থেকে একটা বাইক নিয়ে তিন বন্ধু বগুড়ার দিকে যাচ্ছিল। তাদের বাইকের গতি ৮০ এর উপরে ছিল এবং সাইলেন্সের লাগানোর কারণে বিকট শব্দে তারা আঁকাবাঁকা করে চালিয়ে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে বারোমাইল এলাকায় পৌঁছলে নওগাঁগামী আরেকটা মোটরসাইকেলের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন বন্ধু মারা যান এবং অপর মোটরসাইকেলে থাকা দুজন আহত হন।
বীরকেদার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম উদ্দীন বলেন, দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান। আহত দুজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
এদিকে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় বিল্লাল হোসেন (৪৮) নামে এক দারোয়ানের মৃত্যু হয়েছে।
রোববার সকাল ৮টার দিকে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কের হাজীগঞ্জ টোরাগড় মনির ফিলিং স্টেশনের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত বিল্লাল হোসেন পার্শ্ববর্তী শাহরাস্তি উপজেলার টামটা উত্তর ইউনিয়নের মুড়াগাঁও গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির সাহেব আলী ভুঁইয়ার ছেলে। তিনি হাজীগঞ্জ বাজারের ডক্টরস্ সিটি স্ক্যান হাসপাতালের দারোয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় লোকজন সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জানান, সকালে কুমিল্লা থেকে চাঁদপুরের দিকে যাচ্ছিল আইদি পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস। ঠিক তার পেছনে ছিল বোগদাদ পরিবহনের আরেকটি বাস। বোগদাদ আইদি বাসটি অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু আইদি পরিবহনের বাসটি বোগদাদকে অতিক্রম করার সুযোগ না দিলে বোগদাদ বাসটি রং সাইডে প্রবেশ করে। এ সময় সড়কের পাশে থাকা দারোয়ান বিল্লাল হোসেনকে চাপা দেয় বোগদাদ। এতে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।
সেন্টু নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, দুইটি বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণে অসহায় ও দরিদ্র লোকটির মৃত্যু হয়েছে। এটি তারা ইচ্ছাকৃতভাবে করেছে। ঘটনার পরেই বাস দু’টি রেখে চালক ও সুপারভাইজার পালিয়ে গেছে।
নিহত বিল্লাল হোসেনের চাচা আবদুল মান্নান ভুঁইয়া বলেন, নিহত বিল্লালের তিন সন্তান রয়েছে। বাড়ি থেকে প্রতিদিন হাসপাতালে এসে কাজ করতেন তিনি।
চাঁদপুর সদর উপজেলায় ট্রাকের ধাক্কায় সড়কে ছিটকে পড়ে মো: জোহা (১৭) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।
রোববার বেলা দেড়টার দিকে সদর উপজেলায় চাঁদপুর-রায়পুর সড়কের ইসলামপুর গাছতলা বাদামতলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মো: জোহা জেলার শাহরাস্তি উপজেলার বাসিন্দা মিরাজ সালেহ উদ্দিন তছলিমের ছেলে। জোহা এ বছর চাঁদপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে মো: জোহা ও তার বন্ধু সাজ্জিল ফরিদগঞ্জ সড়ক (চাঁদপুর-রায়পুর সড়ক) দিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ইসলামপুর গাছতলা বাদামতলী এলাকায় পৌঁছালে একটি ট্রাক পিছন থেকে তাদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন মো: জোহা। পরে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোটরসাইকেল আরোহী মো: জোহাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: আসিবুল হাসান জানান, হাসপাতালে আনার পূর্বেই জোহার মৃত্যু হয়েছে।



