অপহৃত ৬ জেলে মুক্তিপণে ফিরলেন

Printed Edition

শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা

সুন্দরবনে বনদস্যুদের কবলে ১৩ দিন জিম্মি থাকার পর অবশেষে মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছেন ছয় জেলে। গতকাল শনিবার ভোররাতে তারা বাগেরহাটের শরণখোলার নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছান। গত ২০ এপ্রিল পূর্ব সুন্দরবনের কোকিলমনি ও চাতরা এলাকা থেকে বনদস্যু শরীফ বাহিনী ও নানা ভাই বাহিনীর সদস্যরা তাদের অপহরণ করে গভীর বনে নিয়ে আটক রাখে।

মুক্তি পেয়ে ফিরে আসা জেলেরা হলেন, শরণখোলার পানিরঘাট এলাকার কালাম ফরাজী, শরণখোলা গ্রামের আনোয়ার বয়াতী, কিবরুল এবং পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার হরিণটানা গ্রামের মহসিন ও আবদুস সালাম। অন্য আরেক জেলের নাম জানা যায়নি।

জেলে কালাম ফরাজীর স্ত্রী নাজমা বেগম মোবাইল ফোনে জানান, বনদস্যুদের দাবিকৃত মুক্তিপণ পরিশোধ করার পর তার স্বামীসহ অন্য জেলেরা শনিবার ভোরে বাড়ি ফিরেছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শরণখোলা বাজারের এক মৎস্যব্যবসায়ী (মহাজন) জানান, তার অধীনে থাকা এই জেলেদের অপহরণ করে দস্যুরা সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখেছিল। পরে দস্যুদের চাহিদা অনুযায়ী বিকাশের মাধ্যমে লক্ষাধিক টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে আনা হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বর্তমানে সুন্দরবনে বনদস্যুদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি চলছে। এতে সাধারণ জেলে ও মৌয়ালরা চরম অসহায় হয়ে পড়েছেন। পুনরায় দস্যুদের কবলে পড়ার ভয়ে অনেক সময় জেলেরা মুখ খুলতে সাহস পান না। এখনো বেশ কয়েকজন মৌয়াল দস্যুদের কবজায় আটকে রয়েছেন বলে জানান সদ্য মুক্তি পাওয়া জেলেরা।

এ বিষয়ে শরণখোলা থানার ওসি শামিনুল হক বলেন, সুন্দরবনে মুক্তিপণ দিয়ে জেলেদের ফিরে আসার বিষয়টি জানা নেই। এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।