ড্রেনেজ সঙ্কটে মাওনা চৌরাস্তায় সড়কে শৌচাগারের বর্জ্য

Printed Edition

আবুল কালাম আজাদ শ্রীপুর (গাজীপুর)

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার প্রাণকেন্দ্র মাওনা চৌরাস্তার পুরাতন কাঁচাবাজার এলাকায় দীর্ঘদিনের ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন সঙ্কট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শৌচাগারের বর্জ্য সরাসরি সড়ক ও ড্রেনে মিশে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি করছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়ায় দুর্গন্ধ, পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন হাজারো মানুষ।

সরেজমিন দেখা যায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক সংলগ্ন তেলিহাটি-মুলাইদ সড়কের দুই পাশে অবস্থিত পুরাতন কাঁচাবাজার এলাকায় বিভিন্ন স্থানে পয়ঃবর্জ্য মিশ্রিত পানি জমে রয়েছে। কোথাও কোথাও সেই পানি সরাসরি সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে পথচারী, শিক্ষার্থী, মুসল্লি ও যানবাহন চালকদের চলাচল দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বাজার থেকে মহাসড়ক পর্যন্ত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি ও ড্রেনের ময়লা জমে থাকে। অনেক আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের শৌচাগারের লাইন ড্রেনের সাথে সংযুক্ত থাকায় পয়ঃবর্জ্যও সড়কে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে দুর্গন্ধের পাশাপাশি বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। কাঁচামাল ব্যবসায়ী রাকিব বলেন, বছরের পর বছর ধরে এ দুর্ভোগ চলছে। দোকানের সামনে ময়লা পানি জমে থাকায় ক্রেতা কমে গেছে এবং ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে। চাউল ব্যবসায়ী সামছুল হক জানান, কাঁচাবাজার থেকে শফিক মোড় পর্যন্ত সড়কের দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার হয়নি। পাশের মাদরাসা ও মসজিদে যাতায়াতকারী শত শত মানুষ প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজার এলাকায় নির্দিষ্ট কোনো বর্জ্য ফেলার স্থান নেই। ফলে কঠিন বর্জ্য ও পয়ঃবর্জ্য মিলিয়ে ড্রেনগুলো প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও হাঁটুপানি জমে থাকায় পরিস্থিতি আরো খারাপ হচ্ছে। মিজান সিটি গার্ডেনের মালিক মিজান অভিযোগ করেন, ২০২০ সালে একটি ড্রেন নির্মাণ করা হলেও পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ড্রেনে সংযোগ দেয়া হলেও বর্জ্য নিষ্কাশনের স্থায়ী সমাধান না থাকায় এখন তা সড়কে ছড়িয়ে পড়ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্মুক্ত স্থানে পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়লে ডায়রিয়া, আমাশয়, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলতে থাকলে জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সমন্বিত ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, অবৈধ সংযোগ চিহ্নিত করা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা হোক।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভুঁইয়া বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।