দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট
ভারতের সাথে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন ও সীমান্ত বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ নীরবতার পর গত রোববার পার্লামেন্টে সীমান্ত প্রশ্নে তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা পরিস্থিতিকে নতুন করে জটিল করে তুলেছে।
লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা ও কালাপানি অঞ্চলের মতো সংবেদনশীল সীমান্ত ইস্যু নিয়ে সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, কেবল ভারতই নেপালের জমি নেয়নি, নেপালও ভারতের বেশ কিছু অঞ্চল ‘দখল’ করে রেখেছে। তার এই মন্তব্যের পরপরই অধিবেশনে তুমুল হট্টগোল শুরু হয় এবং বিরোধী দলগুলো এই বক্তব্য পার্লামেন্টারি রেকর্ড থেকে বাদ দেয়ার দাবি জানায়। পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী শাহ বলেন, বিষয়টি আপনাদের কাছে অদ্ভুত লাগলেও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনিও সম্প্রতি জানতে পেরেছেন যে শুধু ভারত নয়, নেপালও অনেক জায়গায় ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং ‘প্রযুক্তিগতভাবে ভুল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন নেপালের সাবেক কূটনীতিক ও সীমান্ত বিশেষজ্ঞরা। তারা স্পষ্ট করেছেন যে, রাষ্ট্রগতভাবে নেপাল কখনোই ভারতের কোনো ভূমি দখল করেনি। মূলত নদী অববাহিকার গতিপথ বদলানো এবং সীমান্ত পিলার হারিয়ে যাওয়ার কারণে নো ম্যানস ল্যান্ড বা ‘দশগজা’ এলাকায় এক দেশের নাগরিক অন্য দেশের জমিতে চাষাবাদ বা বসবাস করছেন। এটি মূলত ‘ক্রস-বর্ডার অকুপেশন’ বা পারস্পরিক জমি ব্যবহারের আওতাভুক্ত, একে কোনোভাবেই রাষ্ট্রীয় ‘দখলদারত্ব’ বলা চলে না।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এই সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে নেপাল সরকার ইতোমধ্যে দিল্লি ও বেইজিংয়ের কাছে কূটনৈতিক নোট পাঠিয়েছে এবং ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তির সূত্র ধরে ব্রিটিশ সরকারের মধ্যস্থতাও কামনা করেছে।
তবে এই মন্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হওয়ায় এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ক্ষুণœ হওয়ার অভিযোগ ওঠায় পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের নাগরিকদের সীমান্ত পেরিয়ে জমি চাষের প্রযুক্তিগত বাস্তবতাকে তুলে ধরা, কোনো রাষ্ট্রীয় ভূখণ্ড দখল করা নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেপালি ও ভারতীয় নাগরিকদের একাংশের জমি সীমান্ত পেরিয়ে একে-অপরের দিকে পড়ে থাকার এই সংবেদনশীল বিষয়টিকে ভুল শব্দ চয়নে উপস্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী এখন ঘরে-বাইরে তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন।



