ক্রীড়া প্রতিবেদক
সিলেটের মাঠে তানজিদ হাসান তামিমের টেস্ট অভিষেক ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র! পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগেই বাংলাদেশের টেস্ট ব্যাটিংয়ে পরিবর্তনের আভাস দেন বিসিবির প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই প্রথমবারের মতো টেস্ট দলে সুযোগ পান তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ঢাকা টেস্টে একাদশে সুযোগ না পেলেও সিলেট টেস্টেই অভিষেক হয়ে যায় এই বাঁহাতি ব্যাটারের।
সচরাচর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত তামিম অভিষেক টেস্টেও নিজের স্বভাবসুলভ খেলাই খেলতে চেয়েছিলেন। শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করেন। তবে ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেননি এই ওপেনার। পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আব্বাসের বলে আউট হওয়ার আগে ৩৪ বলে ২৬ রান করেন তামিম। তার ইনিংসে ছিল তিনটি চার। দশম ওভারের শেষ বলে অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিটি মিড অন অঞ্চলে খেলতে গিয়ে টাইমিং করতে ব্যর্থ হন। বল সরাসরি ফিরে যায় আব্বাসের হাতেই।
চোটের কারণে সাদমান ইসলাম ছিটকে যাওয়ায় অভিষেকের সুযোগ আসে তামিমের সামনে। শেষ মুহূর্তে দলে ডাকা হলেও একাদশে জায়গা হয়নি জাকির হাসানের। সিলেট টেস্টে মাহমুদুল হাসান জয়ের সাথে ইনিংস উদ্বোধন করতে নামেন তামিম। তবে ইনিংসের শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। আব্বাসের করা ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই স্লিপে সালমান আলী আগার হাতে ক্যাচ দিয়ে শূন্য রানে ফেরেন জয়।
তামিমের অভিষেক টেস্টের দিনে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেছেন হাবিবুল বাশার সুমন। বিসিবির প্রধান এই নির্বাচক জানিয়েছেন তামিমের ইনিংসটি বড় হলে ভালো হতো। ‘তানজিদের ইনিংসটা বড় হলে ভালো হতো। ভালো শুরু করেছিল। অবশ্যই ওর এখনো অনেক দূর যেতে হবে। আমার বিশ্বাস ও অনেক দূর যেতে পারবে। প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে একটু মানসিক চাপ হয়তো কাজ করছিল। কিন্তু সে ভালো খেলোয়াড়। আশা করি ভবিষ্যতে ওর ইনিংসগুলো বড় হবে। কারণ শুরু থেকে বড় রান করাটা খুব দরকার।’
তিনি যোগ করেন, ‘তানজিদ আসলে এই ধরনের ব্যাটার এবং আমরা যখন ওকে দলে নির্বাচন করেছিলাম, ওকে বলাই হয়েছিল ওর মতো করে ব্যাটিং করতে। সকালে কিন্তু কন্ডিশন সহজ ছিল না। একটু পাল্টা আক্রমণ দরকারও ছিল। যদিও সকালে আমাদের অনেক উইকেট পড়ে গেছে, এটা আদর্শ ছিল না। কিন্তু আমরা ওকে যেভাবে ব্যাটিং করতে দেখতে চেয়েছি, ও সেভাবেই ব্যাটিং করেছে। অবশ্যই টেস্ট ম্যাচে তাকে ইনিংসটা বড় করতে হবে এবং আমি আশাবাদী।’



