যুক্তরাষ্ট্রের অনুদানে ঢাবির মুসা খান মসজিদ সংস্কার শুরু

Printed Edition
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মুসা খান মসজিদের সংস্কারে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের অ্যাম্বাসেডর ফান্ড ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন  : পিআইডি
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মুসা খান মসজিদের সংস্কারে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের অ্যাম্বাসেডর ফান্ড ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন : পিআইডি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের কার্জন হলসংলগ্ন ঐতিহাসিক মুঘল মুসা খান মসজিদ সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন করেছে প্রতœতত্ত্ব অধিদফতর। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন এ অধিদফতর যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশন (এএফসিপি) কর্মসূচির আর্থিক সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রকল্পের কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের মহাপরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক সাবিনা আলম।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে চলতি এপ্রিল থেকে ২০২৯ সালের মার্চ পর্যন্ত। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে দুই লাখ ৩৫ হাজার ৩০০ মার্কিন ডলার।

প্রতœতত্ত্ব অধিদফতর জানিয়েছে, প্রকল্পের আওতায় মসজিদটিতে আধুনিক ও উপযোগী সংরক্ষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুনরুদ্ধার কাজ করা হবে। একই সাথে মূল মুঘল স্থাপত্যরীতি ও নির্মাণসামগ্রীর স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণœ রাখার উদ্যোগ নেয়া হবে। এ ছাড়া বিস্তারিত স্থাপত্য নথি প্রস্তুত, ফটোরিয়ালিস্টিক থ্রিডি মডেল তৈরি, হেরিটেজ ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (এইচআইএ), দর্শনার্থী সুবিধা উন্নয়ন এবং আশপাশের পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ১৭ শ’ শতাব্দীর মুসা খান মসজিদের সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, এবং এর অংশ হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উদার সহায়তার জন্য আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে যে সংস্কৃতি সংরক্ষণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অদৃশ্য সম্পদ, এবং গত দুই দশকে অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি সংরক্ষণে সহায়তা করতে পেরে আমরা গর্বিত। বাংলাদেশে এ তহবিলের আওতায় এটি আমাদের ১৩তম প্রকল্প।

রাষ্ট্রদূত বলেন, এ সংস্কার কাজের জন্য যুক্তরাষ্ট্র দুই লাখ ৩৫ হাজার ডলার প্রদান করবে, যা প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি, সংস্কার কাজে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি দক্ষতাও প্রদান করা হবে। গত ২০ বছরে বাংলাদেশে প্রায় আট লাখ ৩৫ হাজার ডলার ব্যয়ে ১৩টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, মসজিদ সংরক্ষণ উদ্যোগে প্রতœতত্ত্ব অধিদফতর এবং মার্কিন দূতাবাসের সাথে যৌথভাবে কাজ করতে পেরে আমরা আনন্দিত। এ প্রকল্প একদিকে যেমন একাডেমিক গবেষণা, শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা, সাংস্কৃতিক সচেতনতা এবং ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে, তেমনি শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন একাডেমিক বিভাগের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এটি শুধুমাত্র একটি পুনরুদ্ধার প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি জ্ঞান ও প্রেরণার একটি কেন্দ্রে পরিণত হবে।