‘ফাঁসির মঞ্চ’ থেকে ফিরে সংসদের পথে বাবর-পিন্টু-আজহার

Printed Edition
বাঁ থেকে বিএনপির মো: লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু ও জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম : নয়া দিগন্ত
বাঁ থেকে বিএনপির মো: লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু ও জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম : নয়া দিগন্ত

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

ফাঁসির মঞ্চ থেকে ফিরে সংসদসদস্য নির্বাচিত হলেন বিএনপির মো: লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু ও জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ তিন নেতা বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।

তাদের মধ্যে নেত্রকোনা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন মো: লুৎফুজ্জামান বাবর। এ ছাড়া রংপুর-২ আসন থেকে এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও টাঙ্গাইল-২ আসন থেকে আবদুস সালাম পিন্টু নির্বাচিত হয়েছেন। অথচ গণ-অভ্যুত্থানের আগে এ তিনজনই ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন।

২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট ঢাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো: লুৎফুজ্জামান বাবর এবং সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন আদালত।

টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে আবদুস সালাম পিন্টু এক লাখ ৯৮ হাজার ২১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী হুমায়ুন কবির পেয়েছেন ৬০ হাজার ৮৭১ ভোট।

নেত্রকোনা-৪ (মোহনগঞ্জ, মদন, খালিয়াজুরি) আসনে বিএনপির প্রার্থী মো: লুৎফুজ্জামান বাবর বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে এক লাখ ২০ হাজার ৯৬১ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। লুৎফুজ্জামান বাবর ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন এক লাখ ৬০ হাজার ৮০১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো: আল হেলাল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৮৪০ ভোট।

রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম। তিনি মোট এক লাখ ৩৯ হাজার ৬৮০ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার ৭৯ হাজার ৯১০ ভোট পেয়েছেন।

এ টি এম আজহারুল ইসলামকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০১২ সালের ২২ আগস্ট মগবাজারের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি আপিল করেন আজহারুল ইসলাম। আপিলের শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ৩০ অক্টোবর আপিল বিভাগ রায় দেন। ২০২০ সালের ১৫ মার্চ আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর তা পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে ২০২০ সালের ১৯ জুলাই আপিল বিভাগে আবেদন করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানের পর তার আপিলের নতুন করে শুনানি হয়।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা পালিয়ে যান ও আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর আজহারুল ইসলামের আপিল মঞ্জুর করে ২০২৫ সালের ২৭ মে তাকে অভিযোগ থেকে খালাস দেন আপিল বিভাগ।