নতুন সর্বোচ্চ নেতার প্রথম দিনেই যুক্তরাষ্ট্রকে আলটিমেটাম : ৩ দফা দাবি

৩০ দিনেই মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার দাবি ইরানের

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

দায়িত্ব নেয়ার প্রথম দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কঠোর আলটিমেটাম দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আল-উজমা সৈয়দ মুজতবা খামেনি। তার ভাষণকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং এর তাৎণিক প্রতিক্রিয়া পড়েছে বৈশ্বিক অর্থবাজারেও।

সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর দেয়া প্রথম ভাষণে মুজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। সুইজারল্যান্ডের কূটনৈতিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক বার্তার মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে এই দাবিগুলো জানানো হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রকে ৩০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে।

ইরানের দাবিগুলো হলো- (১). ৩০ দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে। (২). ইরানের ওপর আরোপিত সব ধরনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে তুলে নিতে হবে। (৩). ইরানের তির জন্য ৫০০ বিলিয়ন ডলার তিপূরণ দিতে হবে।

দ্রুত আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া : সর্বোচ্চ নেতার ভাষণের মাত্র দেড় ঘণ্টার মধ্যেই চীন আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়। বেইজিং এক বিবৃতিতে ইরানের বৈধ নিরাপত্তা উদ্বেগ স্বীকার করে এবং সম্ভাব্য মার্কিন বা ইসরাইলি সামরিক পদপে থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়। সেই সাথে সব অমীমাংসিত ইস্যুতে কূটনৈতিক সংলাপের ওপর জোর দেয় চীন।

প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাশিয়াও পৃথক বিবৃতিতে ইরানের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানায়। অন্যদিকে, দাবি ঘোষণার প্রায় ৯-১০ ঘণ্টা পার হলেও যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের প থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

দাবি না মানলে ইরানের সম্ভাব্য পদপে : ভাষণে মুজতবা খামেনি সতর্ক করে বলেন, আগামী ১০ এপ্রিলে মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এসব দাবি পূরণ না করলে ইরান তিনটি বড় পদপে নিতে পারে। সেগুলো হলো- ১. হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ করে দেয়া। ২. ইরানের নিরাপত্তার স্বার্থে চীন ও রাশিয়ার সাথে যৌথ সামরিক ও কৌশলগত ব্যবস্থা নেয়া, যার মধ্যে বিদেশী শক্তিকে ইরানের ভূখণ্ডে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি দেয়ার বিষয়টিও থাকতে পারে। ৩. আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় পারমাণবিক সমতা অর্জন এবং শক্তিশালী পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা; প্রয়োজনে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের পথেও অগ্রসর হওয়া।

ভাষণের শব্দচয়ন থেকে অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, ইরানের কাছে ইতোমধ্যে নিজস্ব পারমাণবিক সমতা থাকতে পারে- যদিও সম্ভাব্য অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি।

বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা : ইরানের ঘোষণার পরপরই বৈশ্বিক অর্থবাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৮ শতাংশ বেড়ে ১২১ ডলারে পৌঁছায়। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রায় ৪ শতাংশ কমে যায়। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। বিপরীতে বিটকয়েনের দাম প্রায় ২২ শতাংশ কমে যায়।

হোয়াইট হাউজের গোপন নথি ফাঁস : এই উত্তেজনার মধ্যেই হোয়াইট হাউজের একটি গোপন নথি ফাঁস হয়েছে, যা পরে ওয়াশিংটন পোস্টও প্রকাশ করেছে। ‘ঞঙচ ঝঊঈজঊঞ – গধৎপয ৯’ চিহ্নিত ওই নথিতে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের বিভিন্ন পরিস্থিতি ও ফলাফল মূল্যায়ন করা হয়েছে। নথিতে বলা হয়েছে- চলমান সামরিক অভিযান ইরানের অবকাঠামোর কিছু তি করলেও কৌশলগত কোনো ল্য অর্জন করতে পারেনি। ইরান এখনো দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা চালানোর সমতা ধরে রেখেছে। ইরানের পেণাস্ত্র উৎপাদন সমতা উল্লেখযোগ্যভাবে তিগ্রস্ত হয়নি।

গভীর ভূগর্ভস্থ বাংকারে থাকা পারমাণবিক স্থাপনাগুলোও এখনো অত রয়েছে। নথির উপসংহারে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থল অভিযান ছাড়া এই যুদ্ধ জেতা সম্ভব নয়।

উত্তেজনা কোন দিকে? ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সঙ্কটকে আরো তীব্র করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের প্রতিক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করবে পরিস্থিতি সঙ্ঘাতের দিকে এগোবে, নাকি কূটনৈতিক সমাধানের পথে যাবে।