ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে অনেকেই ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম শুরু করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পর যখন দেখা যায় ওজনের কাঁটা খুব একটা নড়েনি, তখন অনেকেই হতাশ হয়ে ব্যায়াম ছেড়ে দেন। তবে মার্কিন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সম্পূর্ণ একটি ভুল সিদ্ধান্ত। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন প্রকাশিত একটি নতুন বৈজ্ঞানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ওজন না কমলেও স্থূলতায় ভোগা মানুষের স্বাস্থ্যের উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটাতে এবং হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ইউটিহেলথ হিউস্টনের ম্যাকগভর্ন মেডিক্যাল স্কুলের কার্ডিওলজিস্ট ড. জন পি. হিগিন্স বলেন, ‘কার্ডিওলোজির দৃষ্টিকোণ থেকে, একজন রোগীর ওজন কমার আগেই তার শরীর উল্লেখযোগ্যভাবে সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। ব্যায়ামের ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসে, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা বহুমূত্র রোগের ঝুঁকি কমে, উপকারী ‘এইচডিএল’ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ে এবং ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়-যার প্রতিটি পরিবর্তনই মানুষের জীবন বাঁচাতে সক্ষম।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন না এনে কেবল সাধারণ ব্যায়ামের মাধ্যমে ৫ থেকে ১০ শতাংশ ওজন কমানো অসম্ভব। তবে ওজন কমানোর আধুনিক ওষুধ (যেমন: জিএলপি-১) গ্রহণকারী বা বেরিয়াট্রিক (ওজন কমানোর) সার্জারি করা রোগীদের জন্য ব্যায়াম অপরিহার্য। অন্যথায় চর্বির পাশাপাশি পেশির ভর দ্রুত কমে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে।
কতটুকু ব্যায়াম প্রয়োজন?
হৃদযন্ত্রকে সম্পূর্ণ সুস্থ রাখতে প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার অ্যারোবিক পরিশ্রম (যেমন: দ্রুত হাঁটা, নাচ, সাঁতার, বাগান করা বা ধীরগতির সাইকেল চালানো) অথবা ৭৫ মিনিট তীব্র মাত্রার পরিশ্রম (যেমন: দৌড়ানো, পাহাড়ে ওঠা, বা দড়ি লাফ) করা উচিত। এর পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত দুই দিন মাঝারি শক্তির স্ট্রেন্থ-ট্রেনিং বা পেশি গঠনের ব্যায়াম করা প্রয়োজন। তবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সপ্তাহে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ মিনিট পর্যন্ত ব্যায়ামের প্রয়োজন হতে পারে।
ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের স্থূলতা বিশেষজ্ঞ ড. পেমিন্ডা কে. ক্যাবানডুগামা জানান, বড় বড় গবেষণায় দেখা গেছে যে কোনো ডায়েট, ওষুধ বা সার্জারি দুই বছরের বেশি সময় কার্যকর থাকে না, যদি না তার সাথে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম যুক্ত থাকে। তাই বিশেষজ্ঞরা সোফা ছেড়ে আজই আলসেমি ভেঙে অল্প অল্প করে হাঁটা বা নড়াচড়া শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন। লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করা, অলস বসে না থেকে ফোনে কথা বলার সময় হাঁটা, দিনে একবারে ৩০ মিনিট না হেঁটে ১০ মিনিট করে তিনবারে হাঁটা এবং একা না হেঁটে কোনো বন্ধুর সাথে দলবেঁধে হাঁটার মাধ্যমে সহজেই দৈনন্দিন শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা বাড়ানো সম্ভব।



