কাওসার আজম কিশোরগঞ্জের হাওর থেকে ফিরে
- হাওরে ২৫ শতাংশ ধান নষ্ট হয়েছে, সারা দেশে উৎপাদন কম হবে ৫ শতাংশ
- এবার ১০-১৪ লাখ টন চাল উৎপাদন কম হবে : অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম
টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় কিশোরগঞ্জসহ সাত হাওরাঞ্চলে ঘেরা জেলার বোরো ধান। নষ্ট হয় কমপক্ষে ৮০ হাজার হেক্টর জমির ধান। টানা বৃষ্টি শেষে হাওরে এখন ঝলমলে রোদ। কিন্তু সেই রোদেও নেই স্বস্তি। চারদিকে শুধু পচা ধানের গন্ধ, ভেজা খড় আর কৃষকের বোবা কান্না। কোমরসমান পানিতে নেমে কেউ কেটে আনছেন পচতে থাকা ধান, কেউ নৌকায় তুলে ৮-১০ কিলোমিটার দূরে রাস্তা বা উঁচু জায়গায় শুকানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক ধানে অঙ্কুর গজিয়েছে। কোথাও ধান কালচে হয়ে গেছে।
হাওরের কৃষক জানেন, এই ধান আর আগের দামে বিক্রি হবে না। তবু ধান ফেলে যেতে পারছেন না। কারণ এই ধানই ছিল সারা বছরের ভরসা। এই ধান দিয়েই চলার কথা ছিল সংসার। শোধ হওয়ার কথা ছিল সমিতির কিস্তি, এনজিওর ঋণ, মহাজনের টাকা। সন্তানদের লেখাপড়া আর কোরবানির ঈদের স্বপ্নও জড়িয়ে ছিল এই ফসলের সাথে। এখন সেই স্বপ্ন ডুবে আছে হাওরের পানিতে।
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা সদরের ফায়ার সার্ভিস ঘাট থেকে নৌকায় প্রায় দুই কিলোমিটার এগোতেই দেখা যায়, খালের ধারে কয়েকজন কৃষক নৌকা থেকে ধান নামাচ্ছেন। পাশের উঁচু জায়গায় সেই ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজ চলছে। ধানগুলো ভেজা। কোথাও কোথাও অঙ্কুর বেরিয়েছে।
সেখানেই কথা হয় নিকলী সদর ইউনিয়নের মিরহাটি গ্রামের কৃষক আবু তাহেরের সাথে। পাঁচ একর জমি লিজ নিয়ে বোরো আবাদ করেছিলেন তিনি। নিকলী বাজারে ছোট ব্যবসা করতেন। সেই পুঁজি খাটিয়েছিলেন কৃষিতে। জমি লিজ ও আবাদে খরচ হয়েছিল প্রায় তিন লাখ টাকা।
তিনি বলেন, ‘বন্যার আগে আড়াই একর জমির ধান কাটতে পারছিলাম। বাকি জমির ধান পানির নিচে চলে যায়। এখন পানি কমছে। কিন্তু ধানে পচন ধরছে, ট্যাগ জ্বালাইছে। এই ধান কে কিনবো?’
তার ভাষ্য, এমনিতেই ধানের বাজার খারাপ। ভালো ধানও ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে। সেখানে পচা ধান ৩০০ টাকায় বিক্রি করা যাবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ। সব মিলিয়ে এক লাখ টাকার বেশি লোকসান হবে তার।
একই হাওরে আছিম উদ্দিন নামের আরেক কৃষক বলেন, ‘বোরো ধানই আমাদের একমাত্র ফসল। আমরা নিজেরা খাই, দেশের মানুষকেও খাওয়াই। কিন্তু আমাদের কষ্টের খবর কয়জন নেয়? তালিকা হয়, হয়তো কয়েক কেজি বীজ-সার দিবে। এটা দিয়ে কী হবে?’
পাশ থেকে আরেক কৃষক ক্ষোভ নিয়ে বলেন, ‘তালিকাও ঠিকমতো হয় না। প্রকৃত কৃষক বাদ পড়ে যায়। রাজনৈতিক লোকজন ভাগ করে নেয়।’
নিকলী উপজেলা সদর থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা নৌপথ পেরিয়ে মাদলার হাওরে গিয়ে দেখা মেলে মেরাজ মিয়ার। এটি অষ্টগ্রাম উপজেলার মধ্যে পড়েছে। হাওরের মাঝখানে বড় একটি নৌকা। আরেকটি নৌকা থেকে সেখানে ভেজা ধান তোলা হচ্ছে। পরে সেই ধান নিয়ে যাওয়া হবে নিকলী সদরের বেড়িবাঁধে। সেখানে শুকানোর চেষ্টা হবে।
প্রায় ৬৫ বছর বয়সী মেরাজ মিয়া এ বছর ১৮ একর জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন। সব জমিই লিজ নেয়া। ফলনও ভালো হয়েছিল। ক্ষেতের ধান সোনালি হতে শুরু করেছিল। ঠিক তখনই টানা বৃষ্টি আর ঢলের পানিতে সব তলিয়ে যায়। শুধু ধান নয়, তার ৫০০ রাজহাঁসও পানির তোড়ে ভেসে গেছে।
তপ্ত দুপুরে নৌকাতেই ভাত খাচ্ছিলেন তিনি। স্ত্রী-সন্তানসহ সাত সদস্যের পরিবার। সবাই কৃষিকাজের সাথে জড়িত। তিনি জানান, ভোর ৪টায় বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে হাওরে এসেছেন। সাথে শ্রমিকও এনেছেন। ১৮ একরের মধ্যে মাত্র চার একরের ধান কাটতে পেরেছেন। বাকি ধান পানির নিচে ছিল। পরে জেগে উঠলেও ততদিনে পচে গেছে।
মেরাজ মিয়া বলেন, ‘মনে করছিলাম খরচ বাদে কমপক্ষে দুই লাখ টাকা লাভ অইবো। উল্টো এখন সাত লাখ টাকার মতো ক্ষতির মুখে। সমিতি আর মহাজনের কাছ থেকে টাকা নিছিলাম। ধান কাইট্যা শোধ দেওনের কথা ছিল। এখন কী দিয়া শোধ করুম?’
কথা বলতে বলতে চোখ ভিজে ওঠে তার। আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, ‘মনে অয় আর বাড়িত থাকবার পারমু না। ঢাকা বা চট্টগ্রাম যাইতে অইবো।’ সেখানে গিয়ে কী করবেন-জানতে চাইলে বলেন, কী করুম, সেটা তো বলতে পারি না, হয়তো রিকশা চালাইতে অইবো। নইলে তো পাওনাদাররা ঘেরাও করবো।
তার সাথে থাকা এক শ্রমিক বলেন, ‘সব ধান গেজায়া গেছে। লগ্নি তুলতে ক্ষেত বেইচ্যা দিতে অইবো। অহন ঢাহা যাওয়া ছাড়া রাস্তা নাই।’
হাওরজুড়ে এখন একই দৃশ্য। কোথাও রাস্তার ওপর ধান শুকাচ্ছেন কৃষক। কোথাও বাড়ির আঙিনায়। কেউ পলিথিন বিছিয়ে ধান মেলেছেন। কেউ চটের চাটাইয়ে। কেউ আবার সড়কের ওপরই ধান ছড়িয়ে দিয়েছেন। শিশু থেকে বৃদ্ধ-সবাই ব্যস্ত ধান বাঁচানোর লড়াইয়ে। এই ধানের মধ্যে আবার নষ্ট হয়ে যাওয়া ধানও রয়েছে। তবুও চেষ্টা, এই ধান বেঁচে যদি কিছু টাকা পাওয়া যায়!
নিকলী বেড়িবাঁধে কথা হয় কৃষক অজি উল্যাহর সাথে। হাতে তুলে দেখালেন অঙ্কুর বের হওয়া ধান। আক্ষেপ করে বলেন, এই ধান থেকে চারা গজাইছে। মনে হয় এখন আবার রোপণ করা যাবে। বন্যায় সব শ্যাষ, খামু কী? লগ্নি কেমনে দিমু? পোলাপাইনের লেখাপড়া কেমনে চলবো।
কিশোরগঞ্জের নিকলী, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম, ইটনাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্যই চোখে পড়েছে। শুধু যে, ধান নষ্ট হয়ে মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা হুমকিতে পড়েছে তা নয়। বেড়িবাঁধেই কথা হয়, আজহার আলী নামে এক গৃহস্তের সাথে। তিনি বলেন, যেহেতু খেড় নেই, তাই গরু বিক্রি করে দিতে হচ্ছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, হাওরে খুব কম কৃষক নিজের টাকায় চাষ করতে পারেন। মৌসুম শুরুর আগে তারা ঋণ নেন। ফসল উঠলে ধান দিয়ে ঋণ শোধ করেন। এবার সেই ব্যবস্থাই ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকে এখন জমি বা গরু বিক্রির চিন্তা করছেন।
নিকলী সদর উপজেলার মোস্তাকিম কোমরসমান পানিতে দাঁড়িয়ে ধান তুলছিলেন নৌকায়। দিনমজুর নিয়েছেন দৈনিক ১২০০ টাকায়। অথচ ভেজা ধানের দাম ৫০০-৬০০ টাকা মণ। তারপরও ধানের মায়া ছাড়তে পারছেন না। তিনি বলেন, ঘরে যে ধান আছে, তা দিয়া পরিবার চলবো না। পাওনাদার টাকার জন্য চাপ দিতেছে। জমি ছাড়া আর কিছু নাই। এখন মনে হয় সেটাই বিক্রি করতে হবে।
হাওরপাড়ের নারী কৃষকরাও একই দুশ্চিন্তায়। নিকলী হাওরের পাশে কথা হয় এক কৃষাণীর সাথে। প্রায় ১০ বিঘা জমিতে ধান ছিল তার। সব তলিয়ে গেছে। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ঋণ কইরা চাষ করছিলাম। ভাবছিলাম ধান উঠলে সংসারে একটু শান্তি আসবো। এখন কিছুই নাই। নিজের খাওনের ধানও নাই।
কথা হয় আরেক কৃষাণীর সাথে। তিনি বলেন, ‘আর দুই সপ্তাহ পরে পানি আইলে অন্তত কিছু ধান ঘরে তুলতে পারতাম।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হিসাবে, কিশোরগঞ্জে ১৩ হাজার ৪৭৯ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অন্তত ৫২ হাজার ৫০০ কৃষক। আর সাতটি হাওর জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় আড়াই লাখ কৃষক। কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ক্ষতির পরিমাণ ইতোমধ্যে এক হাজার ১১০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
হাওরে ফসলহানিতে খাদ্যনিরাপত্তা শঙ্কা :
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দেশের মোট চাল উৎপাদনের ৬০ শতাংশের বেশি আসে বোরো মৌসুম থেকে। এর মধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি হাওর জেলা থেকে আসে ২০ শতাংশ। কিন্তু এবার আগাম বন্যা, টানা বৃষ্টি হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ বোরো ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৫০ হাজার ৭৩ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেসরকারি সংস্থাগুলোর দাবি, এই ক্ষতির পরিমাণ ৮০ হাজার হেক্টরেরও বেশি। দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধান উৎপাদন অঞ্চলে এই বিপর্যয়ের প্রভাব পড়তে পারে জাতীয় সরবরাহ ব্যবস্থায়ও।
বন্যা-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি এখনো নির্ণয় না হলেও কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সূত্র বলছে, হাওর অঞ্চলের মোট কৃষিজমির ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় আড়াই লাখ কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ফসলের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় এক হাজার ১১০ কোটি টাকা। উৎপাদন কমে যেতে পারে প্রায় দুই লাখ ৫০ হাজার টন বোরো ধান।
এদিকে কৃষকরা অভিযোগ করছেন, অতীতের মতো এবারো শুধু বীজ-সার দিয়ে দায় সারার চেষ্টা হলে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না। নিকলীর কৃষক আব্দুল হামিদ বলেন, ‘বন্যায় যে ক্ষতি হয়, সেই ক্ষত দুই-তিন বছরেও শুকায় না।’
হাওরে ২০১৭ ও ২০২২ সালের আগাম বন্যার ক্ষত এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি অনেক কৃষক। তার ওপর দুই বছর ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ঋণের বোঝা আরো বেড়েছে। এবার সেই বোঝা যেন অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
উৎপাদনে ধাক্কা, বাজারে চাপের আশঙ্কা :
ডিএইর তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে ৫০ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। সরকার এবার দুই কোটি ২৪ লাখ টন বোরো উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু হাওরের বন্যা সেই হিসাবকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হাওরে এবার মাত্র ৫০ শতাংশ ধান কাটার পর বন্যা শুরু হয়েছে। বাকি ৫০ শতাংশের অর্ধেকই নষ্ট হয়ে গেছে, অর্থাৎ মোট ২৫ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে।
তিনি আরো বলেন, এবার সারের দাম বেশি, সরবরাহ কম, ইরিগ্রেশন সঙ্কট, জ্বালানির সঙ্কট-নানা কারণে সারা দেশের উৎপাদন এবার ৫ শতাংশ কম হবে। অন্যান্য বছর দুই কোটি ১০-১৪ লাখ টন চাল উৎপাদন হয় বোরো মৌসুমে। এবার ৫ শতাংশ কম হলে দুই কোটি ৩-৪ লাখ টন উৎপাদন হতে পারে (১০-১৪ লাখ টন কম)। এবার কম উৎপাদন হলে স্বাভাবিকভাবেই খাদ্যনিরাপত্তা বিঘœ সৃষ্টি করবে। খাদ্য ইনফ্লিউশন বাড়িয়ে দেবে। এটা সাধারণ মানুষের কষ্টের কারণ হবে। বাইরে (বিদেশ) থেকে হয়তো কমপক্ষে ১০ লাখ টন খাদ্য আমদানি করতে হবে।
তিনি বলেন, সারা বিশে^ই সঙ্কট। বিশেষ করে সারের দাম বেড়েছে। ফলে সারা বিশে^ই উৎপাদন খরচ বেড়েছে। খাদ্য ইনফ্লিউশন সারা বিশে^ই রয়েছে। সেটার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়বে।
তিনি বলেন, এবার সারা দেশেই উৎপাদন খরচ বেশি। এ পরিস্থিতিতে সরকার যে ধান ক্রয়ের দাম নির্ধারণ করেছে, যৌক্তিক হয়নি। এটা বাড়িয়ে পুনর্নির্ধারণ করা উচিত। অন্যদিকে, হাওরাঞ্চলে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা উচিত।
সামনে আউশ ও আমন মৌসুমকে গুরুত্ব দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, এই মৌসুমে যেন সার ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। কৃষকদের নগদ ও উপকরণ সহায়তা দিয়ে উৎপাদনে উৎসাহিত করতে হবে। বিশেষ করে সার উৎপাদন বাড়ানোসহ সব ধরনের কৃষি উপকরণ নিশ্চিত করতে হবে।
হাওরাঞ্চলের সাত জেলায় কৃষকদের সহায়তায় কাজ করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ‘ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন ইমারজেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্ট (ফ্রিপ)’। প্রকল্প পরিচালক ড. তৌফিকুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় টেকসই কৃষি উৎপাদন নিশ্চিত করতে প্রকল্পটি কাজ করছে।
সাত জেলার ৬৫টি উপজেলায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের মাধ্যমে ফসলের বহুমুখীকরণ, উন্নত সেচব্যবস্থা ও কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। একই সাথে স্বল্প জীবনকালীন উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত, পানিসাশ্রয়ী প্রযুক্তি ও উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদনে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনতে সোলার সেচ ও বারিড পাইপ সেচব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। কৃষিতে শ্রমিকসঙ্কট ও উৎপাদন খরচ কমাতে কৃষক গ্রুপগুলোর মধ্যে ৭০ শতাংশ ভর্তুকিতে বিভিন্ন কৃষিযন্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।



