মিথ্যা তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা শোবিজ তারকাদের

Printed Edition

সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক

বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় গিয়ে দেশে ফিরে না আসা শিল্পীরা সেখানে স্থায়ী হওয়ার আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন। আমেরিকায় অবৈধদের বৈধ হতে আইনি সহযোগিতা দেয়া একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ২৪ এর গণ-আন্দোলনের পর যেসব তারকা আমেরিকা পালিয়েছেন তাদের সবাই সেখানে স্থায়ী হতে যত নথিপত্র দিয়েছেন তার ৯০ শতাংশ তথ্য মিথ্যা। নিজেদের রক্ষায় সেখানে বৈধ হতে তারা নানান সূত্র থেকে ইমিগ্রেশনে সহায়ক এমনসব তথ্যের মিথ্যা কাগজপত্র তৈরি করে তা আবেদনে যুক্ত করে দাখিল করছেন। এতে বেশি সহায়তা করছেন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত তারকা দম্পতি হিল্লোল-নওশীনের এজেন্সি ও সেখানে অবস্থানরত বাংলাভিশনের সাবেক অনুষ্ঠান প্রধান শামীম শাহেদ।

আবেদনকারী শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন, চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ, লিটু আনাম, বাপ্পী চৌধুরী, সাইমন সাদিক, জায়েদ খান, অমিত হাসান, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি, সোনিয়া হোসেন, সাজু খাদেম, রেশমী মির্জা, অপু বিশ্বাস এবং শবনম বুবলী, শাহনূর। আর কানাডায় স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করছেন আরেক নায়িকা অধরা খান। যদিও ইতোমধ্যে সেখানে স্থায়ী হয়েছেন শাবানা, আফরোজা বানু, লুৎফন নাহার লতা, শিরিন বকুল, তৌকীর আহমেদ, বিপাশা হায়াত, মৌসুমী, টনি ডায়েস, প্রিয়া ডায়েস, তমালিকা কর্মকার, হিল্লোল, নওশীন, রিয়া চৌধুরী, রিচি সোলয়ামান, শ্রাবন্তী, বিপ্লব (প্রমিথিউস), মিশা সওদাগর, দিনাত জাহান মুন্নী, কাজী মারুফ, মোনালিসা, রোমানা, ইবরার টিপু, জেকে মজলিশসহ আরো অনেক তারকা। এর বাইরে ভারতে অঞ্জু ঘোষ, কানাডায় শ্রাবস্তী দত্ত তিন্নি, অগ্নীলা, আমব্রিন, অস্ট্রেলিয়ায় শাবনূর, সুইডেনে রয়েছেন তামান্না।

একাধিক সূত্র জানায়, ২৪ এর ৫ আগস্টের পর চলচ্চিত্র জগতের অনেকেই লাপাত্তা হয়ে যান। মাস দুয়েক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্যন্ত পাওয়া যায়নি তাদের। দেশের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন তারা। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন- চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ ও রিয়াজ। ৫ আগস্টে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর অনেকটাই লাপাত্তা হয়ে যান ফেরদৌস। একটি সূত্র মতে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। কিন্তু কিভাবে তিনি সেখানে পাড়ি দিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অন্য দিকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন প্রচারণার নিয়মিত মুখ ছিলেন চিত্রনায়ক রিয়াজ। তিনিও ৫ আগস্টের পর দেশত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। ফেরদৌস যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেখানে স্থায়ী একাধিক তারকা। অন্য দিকে রিয়াজের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ দিকে, যুক্তরাষ্ট্র্রের এক বাংলাদেশী সঙ্গীতশিল্পী জানান, অর্ধশতেরও বেশি শোবিজের মুখ ইতোমধ্যে স্থায়ী হতে আবেদন করেছেন। এ ছাড়া গত সরকারের প্রচারণায় অংশ নেয়া অভিনেত্রী তারিন জাহান বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। তিনিও ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।

এ দিকে ঢাকাই ছবির সুপারস্টার শাকিব খান বেশ আগেই যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনকার্ড পেয়েছেন। তার সাবেক দুই স্ত্রী- চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস এবং শবনম বুবলীও রয়েছেন সেখানে স্থায়ী হতে চাওয়ার তালিকায়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন চিত্রনায়িকা শাহনূরও। তিনিও সেখানে স্থায়ী হতে চাচ্ছেন। আর অধরা খানও এরইমধ্যে কানাডায় স্থায়ী হয়েছেন।

এ ছাড়া গত সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তারও দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেছিলেন, যদিও তাকে বিমানবন্দরে আটকে দেয় ইমিগ্রেশন পুলিশ। বর্তমানে তিনি দেশেই রয়েছেন।