ইংল্যান্ডকে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল ইতালি

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

ইংল্যান্ডের বোলিং ডিপার্টমেন্ট অন্যদের ভয় ধরাতে পারছে না। টি-২০ বিশ্বকাপের সাবেক এই চ্যাম্পিয়নদের জয় যা হয়েছে ব্যাটারদের উপর ভর করেই। এই বোলারদের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে গতকাল তাদের ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল এবারই প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে আসা ইতালিয়ান ব্যাটাররা। কলকাতার ইডেন গার্ডেনে ইতালিয়ান বোলাররাও কম যাননি। টসে হেরে বোলিংয়ে গেলেও তাদের বোলারদের চাপে সেভাবে রান তুলতে পারছিলেন না ইংলিশ ব্যাটাররা। তবে ৭ নম্বর ব্যাটার হিসেবে ক্রিজে আসা জ্যাক উইলসের ২২ বলে ৫৩ রান শেষ পর্যন্ত দলের স্কোর কোনো মতে ২০০ রান করায়। ২০ ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ ছিল সাত উইকেটে ২০২। সেই রান তারা করতে গিয়ে ম্যাচকে বেশ ক্লোজ করে ফেলেছিল ইতালি। বেন মানেত্তির ২৫ বলে ৬০ রান এবং গ্র্যান্ট স্টিয়ার্টের ২৩ বলে ৪৫ রান এবারের বিশ্বকাপে আরেকটি অঘটনের জন্ম দিতে যাচ্ছিল। তবে এদের বিদায়ের পর অন্যরা আর সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেনি। ফল স্বরূপ ২০তম ওভারের শেষ বলে ১৭৮ রানে অল আউট ইতালিয়ানরা। হার মানে ২৪ রানে। এতে সুপার এইটে উঠার সব আশাই শেষ হয়ে গেল টি-২০ বিশ্বকাপের অভিষিক্তদের। অন্য দিকে জিতে সুপার এইটে পৌঁছে গেল হ্যারি ব্রুকের দল।

এই বিশ্বকাপে ইতালির ইতিহাস গড়া জয় নেপালের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে তাদের জয় ছিল ১০ উইকেটে। কাল তাদের আরেকটি ইতিহাস গড়া হলো না। হলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের জয়ের পর আরেকটি অঘটন হতো এই ম্যাচে।

ইংল্যান্ডের বোলাররা এবার সেভাবে আস্থাশীল হতে পারছেন না। তাদের দুর্বলতার কারনেই নেপালের বিপক্ষে কোনোমতে জয়। ইংলিশদের ১৮৪ রানকে একেবারেই ধরে ফেলেছিল নেপাল। শেষ পর্যন্ত ১৮০ পর্যন্ত যেতে পেরেছিল নেপাল। এরপর ইংলিশ বোলারদের তুলোধুনো করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা ছয় উইকেটে ১৯৬ রান তোলে। এই তাড়া করতে গিয়ে ১৬৬তে অলআউট ইংল্যান্ড। পরের ম্যাচে স্কটল্যান্ডও দেড় শ’ পেরুনো স্কোর করে তাদের বিপক্ষে। যদিও সেই ম্যাচে তারা জিততে পেরেছিল ৮ বল হাতে রেখে।

কালও সেই বোলাররা ছিলেন এক অর্থে অসহায়। তা না হলে ইতালির মতো একটি পুচকে দলের ব্যাটাররা কিভাবে ছড়ি ঘোরানো শুরু করেছিল তাদের ওপর। চার ওভারে ২২ রানে তিন উইকেট হারালেও এরপর ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনী। জোফরা আরচারের বলে এক ভাই অ্যান্থনি মস্কা শূন্য রানে আউট হলেও অপর ভাই জাস্টিন মস্কা ৩৪ বলে সাত চারে খেলেন ৪৩ রানের ইনিংস। বেন মানেত্তির সাথে ৯২ রানের জুটি গড়া তার। বেন মানেত্তির ইনিংসে ছিল চারটি বাউন্ডারি ও ছয়টি ওভার বাউন্ডারি। দলীয় ১১৪ রানে বেন মানেত্তির বিদায় হলে দলকে আশা জাগাতে থাকেন জাস্টিন মস্কা। সাথে যোগে দেন গ্র্যান্ট স্টিয়ার্ট। স্টিয়ার্ট পাঁচ ছক্কা আর দুই বাউন্ডারিতে ৪৫ রান তুলে স্যাম কুরানের বলে আউট হন। মানেত্তি ঝড় বইয়ে দিয়েছিলেন স্পিনার উইল জ্যাকসের ওপর। তবে শেষ পর্যন্ত উইল জ্যাকসই প্যাভিলিয়ানে ফেরত পাঠান তাকে। দুই ওভারে ৩৪ রান দেন উইল জ্যাকস। এরপর নবম ব্যাটার জাসপ্রিত সিং এক ছক্কায় ১০ বলে ১২ রান করলেও অন্যরা ছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। আসলে একটি অনভিজ্ঞ দল এভাবেই হারে।

অবশ্য শেষ পর্যন্ত প্রশংসা নিতেই পারেন ইংলিশ বোলাররা। স্যাম কুরান ২২ রানে তিন উইকেট নেন। সমানসংখ্যক শিকার জেমি ওভারটনেরও। তিনি ছিলেন আরো মিতব্যয়ী। ১৮ রানে তার এই অর্জন। পেসার জোফরা আরচার পরের দিকে মার খেলেও ইতালীর প্রথম দুই উইকেট তিনিই নেন। শূন্য রানে ফেরান স্মুথস ও অ্যান্থনি মস্কাকে।

এর আগে ইংলিশ ব্যাটারদের মধ্যে ওপেনার ফিল সল্ট ১৫ বলে ২৮, জ্যাকব বেথেল ২০ বলে ২৩, টম ব্যান্টন ২১ বলে ৩০, স্যাম কুরান ১৯ বলে ২৫ এবং হ্যারি ব্রুক ৯ বলে ১৪ ও জেমি ওভারটন ৯ বলে ১৫ রান করলে ২০২ পর্যন্ত যেতে সক্ষম হয় ইংল্যান্ড। তাদের মতো টেইল এন্ডাররা যদি ইতালিকে সমর্থন দিতে পারতো তাহলে হয়তো এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অঘটনই হতো কাল কলকাতার মাঠে।

ইতালিয়ান বোলারদের মধ্যে গ্র্যান্ট স্টিয়ার্ট ও কালুগামাগে দু’টি করে উইকেট নেন। বল হাতে বর্থ হলেও ঝড়ো ইনিংসের জন্য ম্যাচ সেরা হয়েছেন জ্যাক উইলস।