মাটির নিচে চাপা রেলের কোটি টাকার সম্পদ

Printed Edition
রেললাইনের ওপর দিয়ে পিচ ঢালাই সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। সেই সাথে রেলের সম্পদ দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বাজার  : নয়া দিগন্ত
রেললাইনের ওপর দিয়ে পিচ ঢালাই সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। সেই সাথে রেলের সম্পদ দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বাজার : নয়া দিগন্ত

সাজ্জাতুল ইসলাম ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রেলওয়ের কোটি টাকার সম্পদ মাটির নিচে চাপা দেয়া হয়েছে। কোটি টাকার রেললাইন, যন্ত্রাংশ ও অবকাঠামো পড়ে আছে অযতœ অবহেলায়। কখনো আগাছা-আবর্জনার নিচে, কখনো মাটির স্তরে ঢেকে, আবার কোথাও খোলা আকাশের নিচে মরিচা ধরে অকেজো হয়ে যাচ্ছে এসব রাষ্ট্রীয় সম্পদ।

সরেজমিন শহরের পাটগুদাম এলাকা, রেলওয়ে ইয়ার্ড ও মিন্টু কলেজসংলগ্ন রেলক্রসিং এলাকায় দেখা গেছে, বহু পুরনো রেললাইন বছরের পর বছর ব্যবহার না হওয়ায় মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে। কোথাও অর্ধেক লাইন মাটির নিচে, কোথাও আগাছা ও ময়লার স্তূপে ঢেকে রয়েছে। এমনকি কোনো কোনো স্থানে রেললাইন ভরাট করে কার্পেটিং দিয়ে তৈরি করা হয়েছে পাকা সড়ক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব রেললাইন ও যন্ত্রাংশের অনেকগুলো এখনো পুনঃব্যবহারযোগ্য ছিল। কিন্তু সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো অব্যবহারযোগ্য হয়ে পড়ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেলকর্মী বলেন, এই লাইনগুলো সামান্য যতœ নিলেই ব্যবহার করা যেত। এখন মাটির নিচে ঢুকে নষ্ট হচ্ছে।

বর্ষার পানি ও দীর্ঘ দিনের অবহেলায় ভারী স্টিলের অংশগুলো ক্ষয়ে ভবিষ্যতে বাড়তি ব্যয়ের ঝুঁকি তৈরি করছে। এই অব্যবস্থাপনার সুযোগে রেলওয়ের জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে দোকানপাট, কাঁচাবাজার ও অস্থায়ী বসতি।

সরকারি জায়গা দখল করে এক দোকান নির্মাণকারী বলেন, রেলের জায়গা ফাঁকা দেখে দোকান করেছি। কর্তৃপক্ষ বললে চলে যাব।

স্থানীয় বাসিন্দা নাসরিন আক্তার জানান, রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ বন্ধ হওয়ার পর আবার দখল শুরু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মাঝে মাঝে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে পারছে না; প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় দ্রুতই ফের দখল হয়ে যায় এলাকা।

খোলা জায়গায় পড়ে থাকা যন্ত্রাংশে জং ধরে দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। পুনঃব্যবহারের উদ্যোগ না থাকায় কোটি টাকার সম্পদ অপচয় হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে লোহার অংশ চুরির ঘটনাও ঘটে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। একদিকে যন্ত্রাংশ সঙ্কটে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যবহারযোগ্য সরঞ্জাম নষ্ট হচ্ছে রেলওয়ের কর্তৃপক্ষের অবহেলায়।

জেলা নাগরিক আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক শিব্বির আহমেদ লিটন বলেন, নতুন লাইন করার বদলে পুরনো লাইন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে সক্ষমতা কমে গেছে। তিনি বলেন, অপচয় হওয়া সম্পদ কাজে লাগাতে পারলে বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব।

পুরাকীর্তি সুরক্ষা কমিটির সদস্যসচিব ইমতিয়াজ আহমেদ তানসেন বলেন, সম্পদ নষ্ট হচ্ছে, জায়গা দখল হচ্ছে কিন্তু সবকিছু দেখেও কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকায়। রেলের সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান বলেন, ঊর্ধ্বতন অনুমতি ছাড়া সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ নেই, সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিকল্পনা করতে হবে।