বাঁশখালীতে বিএনপির বিভক্তি, জোটের আশাবাদ

Printed Edition

তাফহীমুল ইসলাম, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) থেকে

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত থাকলেও অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি চাপে পড়েছে। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন দশ দলীয় জোট।

বাঁশখালী আসনে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও চারবারের সংসদ সদস্য জাফরুল ইসলাম চৌধুরী জীবদ্দশায় নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় ঐক্য ধরে রেখেছিলেন। বিতর্কিত দশম ও একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিজয়ী হলেও তিনি রাজনীতির মাঠে বেশ সক্রিয় ছিলেন। তবে ২০২২ সালে তার মৃত্যুর পর বাঁশখালী বিএনপি একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ‘জুলাই বিপ্লব’-পরবর্তী সময়েও এই বিভক্তি নিরসন হয়নি। এ অবস্থায় জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর কনিষ্ঠ সন্তান ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলেও তার জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে দলীয় হাইকমান্ড। কারণ, একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক লেয়াকত আলী। সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি গন্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদও ছেড়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও তাকে নির্বাচন থেকে সরানো সম্ভব হয়নি।

দলীয় ও বিদ্রোহী- দুই প্রার্থীর এই অনড় অবস্থানের সুযোগ নিতে বেশ সত্রিয় হয়ে উঠছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন দশ দলীয় জোট। জোটের প্রার্থী মাওলানা জহিরুল ইসলাম ইতোমধ্যে তার প্রচারণা শুরু করেছেন। ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পূর্ণ প্যানেলে বিজয়ের অভিজ্ঞতা, উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এবং তার বাবা ইসহাক হুজুরের জনপ্রিয়তা তাকে কিছুটা এগিয়ে রেখেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নেজামে ইসলাম পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ মূসা এবং এলডিপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দীন চৌধুরী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে বের হয়ে নিজস্ব প্রার্থী হাফেজ রুহুল্লাহকে মাঠে রেখেছে। ফলে এই আসনে বিএনপির দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং দশ দলীয় জোট প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

দশ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘এই জনপদের পরীক্ষিত খাদেম হিসেবে মানুষ আমাদের ওপর আস্থা রাখবেন। কারণ, কঠিন সময়েও আমরা মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।’ অন্য দিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘তার পিতার মতো তাকেও বাঁশখালীবাসী সেবক হিসেবে গ্রহণ করবেন এবং তিনি তার অসমাপ্ত কাজ শেষ করবেন।’ স্বতন্ত্র প্রার্থী লেয়াকত আলীর প্রত্যাশা, ‘দলীয় মূল্যায়ন না পেলেও ভোটাররা তাকে মূল্যায়ন করবেন এবং সংসদে গিয়ে মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরবেন।’