ফোনালাপসহ নানা প্রমাণে ইনুর বিরুদ্ধে ৮ অভিযোগ : শুনানি ২৯ সেপ্টেম্বর

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিচার মানবতাবিরোধী অপরাধ

ইনু দেশী-বিদেশী গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে অপরাধ চালিয়ে যেতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ১৪ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের উসকানি ও নির্দেশনা দিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক
Printed Edition

কুষ্টিয়ায় সাতজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২-এ প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার এ অভিযোগপত্র জমা দেন। তার সাথে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমান। ৩৯ পৃষ্ঠার এই অভিযোগপত্রে ২০ জন সাক্ষীর তালিকা দেয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো: মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার। মামলার একমাত্র আসামি ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে প্রসিকিউশন জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হলে এ মামলায় আরো চারজনকে আসামি করা হবে।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ : আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম সাংবাদিকদের বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে সারা দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, যার মধ্যে কুষ্টিয়াতেও গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। ইনু দেশী-বিদেশী গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে এসব অপরাধ চালিয়ে যেতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ১৪ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের উসকানি ও নির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, ইনু তৎকালীন সরকারের একজন প্রভাবশালী শরিক দলের প্রধান এবং সাবেক মন্ত্রী হিসেবে ১৪ দলীয় জোটের একাধিক বৈঠকে অংশ নিয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে দমন-নিপীড়নের সিদ্ধান্তে মত দিয়েছেন, সুবিধা দিয়েছেন ও তদবির করেছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের অধীনে এগুলোর প্রতিটিই আলাদা অপরাধ হিসেবে গণ্য।

গ্রেফতার ও প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট : গত বছরের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে ইনুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বিভিন্ন মামলায় হেফাজতে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে।

কৌঁসুলি মিজানুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘শেখ হাসিনার ভাষায় রণক্ষেত্রের সহযোদ্ধা হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আমরা মোট আটটি অভিযোগে ফরমাল চার্জ দাখিল করেছি। মাননীয় ট্রাইব্যুনাল-২ অভিযোগপত্র ও নথিপত্র বিবেচনা করে সেগুলো আমলে নিয়েছেন। আগামী ২৯ তারিখ ইনুকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করেছেন।

ফোনালাপ দাখিল : মিজানুল ইসলাম আরো জানান, ইনু ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক এবং জাসদের প্রধান হিসেবে নিয়মিত শেখ হাসিনার সাথে যোগাযোগ করতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ ও নির্দেশনা দিতেন। স্থানীয় এসপি ও দলীয় ক্যাডারদেরও নির্দেশনা দেয়া হতো।

কৌঁসুলি মিজানুল বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনগুলোর (ছাত্রলীগ, যুবলীগ ইত্যাদি) সশস্ত্র ক্যাডারদের বিভিন্ন অপরাধ সংগঠনের নির্দেশনা দিতে দেখা যায়, এমন ফোনালাপ আমরা গত বুধবার ট্রাইব্যুনাল-১-এ দাখিল করেছি। একই ফোনালাপ বিশেষজ্ঞ মতামত ও ট্রান্সক্রিপ্টসহ ট্রাইব্যুনাল-২-এও দাখিল করা হয়েছে।’

হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আটটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ জাসদ সভাপতি এবং সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে দাখিলকৃত আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রে মোট আটটি অভিযোগ লেখা রয়েছে। অভিযোগগুলোতে তার ফোনালাপ, টেলিভিশন-অনলাইন সাক্ষাৎকার, প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ নির্দেশনা এবং স্থানীয় ঘটনার নথি ও ভুক্তভোগী ও ঘনিষ্ঠ প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

১. ১৮ জুলাই ২০২৪- ইনু মুম্বাইভিত্তিক অনলাইন চ্যানেল ‘মিরর নাও’ এ সাক্ষাৎকারে ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক ট্যাগ দিয়ে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার কথা বলেন এবং আন্দোলন দমন এবং বল প্রয়োগের উসকানি দেন।

২. ১৯ জুলাই ২০২৪- গণভবনে অনুষ্ঠিত ১৪ দলীয় জোটের সভায় (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে) অংশগ্রহণের সময় আন্দোলন দমন ও সর্বোচ্চ বল প্রয়োগ (সেনা মোতায়েন ও কারফিউ সহ) ও ‘শ্যুট অ্যাট সাইট’ নীতি গ্রহণে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ। অভিযোগ অনুসারে, তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ, প্ররোচনা ও বাস্তবায়নে অংশ নিয়েছেন।

৩. ২০ জুলাই ২০২৪- ১২:১৪:৫৭- কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের পুলিশ সুপারের সাথে ফোনালাপে আন্দোলনকারীদের ছবি দেখে তালিকা তৈরি ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান; এর ফলে ১৮ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট ২০২৪ সময়সীমায় কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্নস্থলে গুলিবর্ষণের ঘটনা এবং নামজাদ নিহতদের (শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্টাকিন, মো: উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী, চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ) হওয়া। (বিবরণ অনুলিপি অভিযোগপত্র থেকে)।

৪. ২০ জুলাই ২০২৪- ১৪:০২:৫৬- শেখ হাসিনার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে লেথাল (পরজীবী/ প্রাণঘাতী) অস্ত্র ব্যবহারে, আন্দোলনকারীদের ঘেরাও ও হেলিকপ্টার-বোম্বিং/ ছাত্রীসেনা নামিয়ে হত্যাসহ সংঘটিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে ষড়যন্ত্র, সহায়তা ও উসকানি দেয়ার অভিযোগ। অভিযোগে তার ফোনালাপের সময় উল্লেখিত সময় চিহ্নগুলোর কথা রাখা হয়েছে।

৫. ২৭ জুলাই ২০২৪- ‘নিউজ২৪’ চ্যানেলে সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী, জঙ্গি পরিভাষায় আখ্যায়িত করে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান এবং কারফিউ প্রয়োগ ও লেথাল অস্ত্র ব্যবহারের মধ্য দিয়ে হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনকে কৌশলে সমর্থন করার অভিযোগ।

৬. ২৯ জুলাই ২০২৪- ১৪ দলীয় জোটের এক সভায় উপস্থিত থেকে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বিএনপি/ জামায়াত/ সন্ত্রাসী-লেবেলিং এবং একটি প্রবীণ দল (বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী) নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করে, তা প্রয়োগে উসকানি, নির্দেশ ও সহায়তার মাধ্যমে চলমান হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনকে বৈধতা দেয়ার অভিযোগ।

৭. ৪ আগস্ট ২০২৪-১৬:২৯:০৭- শেখ হাসিনার সাথে ফোনালাপে কারফিউ জারি করে ‘দেখা মাত্র গুলি করে হত্যা’, লেথাল অস্ত্র ব্যবহার, আন্দোলনকারীদের জঙ্গি তকমা দেয়ারমাধ্যমে গুলি, গ্রেফতার ও নির্যাতনের ষড়যন্ত্র ও নির্দেশ প্রদানের অভিযোগ; স্থানীয় দলীয় কর্মীদেরও তাকে নির্দেশদানের কথা অভিযোগে উল্লেখ আছে।

৮. ৫ জুলাই ২০২৪ (কুষ্টিয়া- মার্চ টু ঢাকা) : কুষ্টিয়ায় ঢাকার ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে শামিল হওয়া নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র ও জনতার ওপর পরিকল্পিতভাবে পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে তৎকালীন স্থানীয় রাজনৈতিক ও সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী (কাম ভুক্তভোগী তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা) এবং পুলিশের ছত্রছায়ায় গুলির মাধ্যমে হত্যার ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ইনুর অংশগ্রহণ, ষড়যন্ত্র ও নির্দেশ দেয়ার অভিযোগ। (অভিযোগে নিহতদের নাম ও সময়-স্থানসহ বিস্তারিত দেয়া আছে)।

ফোনালাপ ও অন্যান্য প্রমাণ : প্রসিকিউশন কৌঁসুলি মিজানুল ইসলাম বলেছেন- ইনুর ফোনালাপ, টেলিভিশন ও অনলাইন সাক্ষাৎকার, বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন, ট্রান্সক্রিপ্ট ও স্থানীয় সাক্ষী-নথি অভিযোগপত্রে যুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে দু’টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ চিহ্নিত: একজনকে মাথায় গুলি করে হত্যা এবং ছয়জনকে গুলিতে হত্যা করার অভিযোগ। প্রসিকিউশন জানায়, তদন্ত অব্যাহত থাকায় ভবিষ্যতে আারা আসামি যুক্ত করা হতে পারে।

পরবর্তী ধাপ : ট্রাইব্যুনাল-২ অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের শুনানি এবং প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট–সংক্রান্ত ব্যবস্থার জন্য দিন ধার্য করেছে। ইনু বর্তমানে অন্য মামলায় আটক আছেন; ট্রাইব্যুনাল-এ উপস্থিতকরণ সম্পর্কিত নির্দেশনা জারি হয়েছে।

ফোনালাপ (দ্বিতীয় পর্ব) : ট্রাইব্যুনালে আদালতে বাজানো অডিওর প্রথম পর্ব গতকাল নয়া দিগন্তে প্রকাশ হয়। আজ শেখ হাসিনা ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর মধ্যকার কথোপকথনের দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশ হলোÑ

শেখ হাসিনা : হ্যালো?

হাসানুল হক ইনু : হ্যালো জি স্লামালাইকুম। আমি ইনু বলছিলাম। হ্যালো...

শেখ হাসিনা : হঁতা বলেন।

হাসানুল হক ইনু : জি, না আমি পরিস্থিতি অনুযায়ী একটু উদ্বেগের ভেতরে ছিলাম। তো আমি মনে করি যে সিদ্ধান্তটা খুব সঠিক হয়েছে আর কী। তো আমি যেটা বলতে চাচ্ছিলাম যে কারফিউটা একটু কঠোর কারফিউ আর কী, তো সারা ঢাকা শহরে যদি মাইক নামায়ে দিতো প্রশাসন থেকে যেÑ কারফিউ কি করা উচিত না... তাহলে একটু সুবিধা হতো মনে হয়।

শেখ হাসিনা : আমি হোম মিনিস্টারকে বলছি এখনই, সব জায়গায় মাইকিং করার জন্য... চারজন আহত... জেলায় জেলায় ভিসি অফিস...।

হাসানুল হক ইনু : হ্যাঁ ওইগুলা সব পেয়েছি আমি, ডিসি অফিস, এসপি অফিস, আওয়ামী লীগের বাড়ি, আওয়ামী লীগ অফিস, এইগুলার প্রত্যেকের লিস্ট আমি পেয়েছি...

শেখ হাসিনা : আমি এখন ঢাকায় আসব।

হাসানুল হক ইনু : আচ্ছা তো এখন আমার কথা হচ্ছে যে কারফিউটা মানে এমন হবে যে ঘর থেকে বের হলেই অ্যারেস্ট করবে, গুলি হবে না, সেটা আপনার আমার ভেতরে, গুলি নাই কিন্তু সেনাবাহিনীর ভাবটা এমন হবে, কঠোর মানে কঠোর একেবারে। তো সেইজন্য...

শেখ হাসিনা : আজকে আমি, সত্যি কথা বলতে কী বলি আপনাকে। আমি... কমিটি আছে তো... মিটিং করছিলাম, করার আগেই আমি দিছি... তিন বাহিনীর প্রধানের সাথে বসছিলাম...

হাসানুল হক ইনু : ওটা দেখছি।

শেখ হাসিনা : বললাম যে একটু সিচুয়েশনটা একটু ভালো হচ্ছে। তাহলে আস্তে আস্তে আর্মি, যেসব জেলা শান্ত আছে, ওইখান থেকে ওঠায় ফেলো আর এইখানে আন্তে আস্তে গ্র্যাজুয়ালি তুলে ফেলো। এই ডিসিশনটা দিয়ে দিছি।

হাসানুল হক ইনু : আচ্ছা।

শেখ হাসিনা : মানুষ একটু ইয়ে থাকুক। ওমা, ওইখানে বসা অবস্থায় শুনলাম যে, শুরু হয়ে গেছে।

হাসানুল হক ইনু : ও তো টার্গেটেড। উপজেলা লেভেলেরও ইউএনও অফিস ভাঙচুর করছে...

শেখ হাসিনা : ...পরিণাম শুনলাম তখন আমি বললাম যে ঠিক আছে... তোমরা বলো কী করবা... কারফিউটা আগায় দিচ্ছে আর কি পয়েন্টগুলো যেগুলো ওদের কতগুলো জায়গা ওরা সিলেক্ট করছে যেখানে হামলা করবে... তার প্রটেকশন দিবে আর... র‌্যাব পুলিশ টহল দিবে আর সেনাবাহিনীর অবশিষ্টের মধ্যে... যেখানে যেখানে প্রয়োজন হয় তোমরা টহল দিবা। যেটা বলছ ওইটা ঠিক... ওই প্রেশারটা থাকতে হবে। হাসানুল হক ইনুঃ প্রেশারটা থাকতে হবে, মানে প্রেশারটা থাকতে হবে, আরেকটা হচ্ছে যেটা কালকে আলাপ করছিলাম যে আপনার পার্টি।

নেটওয়ার্কে আমাদের পার্টি নেটওয়ার্কে... রেডি করা যে কারফিউ উঠে গেলে এক লাখ লোক ঢাকা দখল করব আমরা। বসব।

শেখ হাসিনা : ... ওরা জেলায় আসবে, আমাদেরও জেলা থেকে লোক আসতে চাচ্ছে... বলছি ঠিক আছে আসেন।

হাসানুল হক ইনু : হ্যাঁ এটা আনা দরকার আমি মনে করি, এটা কারেক্ট।

শেখ হাসিনা : না আসুক...

হাসানুল হক ইনু : আমি কালকে বলছিলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে শহীদ মিনার, শাহবাগ চত্বর, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে, প্রেস ক্লাবের সামনে, পল্টনে...

শেখ হাসিনা : ... আমাদের নিয়ে নিতে হবে।

হাসানুল হক ইনু : এটা আমরা নিবো, আমরা বসব এইখানে এবং কারফিউ যেদিন রিলাক্স হবে সেদিনই মিছিলের নগরী হয়ে যাবে একেবারে। এবং কিছুই না, শান্তি চাই, শান্তি চাই, ছাত্ররা বাড়ি যাও, ফেরত যাও, ফেরত যাও, সন্ত্রাস দমন করো...

শেখ হাসিনা : আচ্ছা আমি এটা স্কুলে দিতে বলছি। যে তোমরা ছাত্ররা সব ঘরে ফেরো। গার্ডিয়ানদেরকে বলছি এইখানে কিন্তু জঙ্গি হামলা হইছে।

হাসানুল হক ইনু : হ্যাঁ রাইট রাইট।

শেখ হাসিনা : না এইটা আমাকে... বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ইয়ে পাইছি। তারা এইটাকে জঙ্গি হামলা হিসেবে কনসিডার মানে বলতেছে।

হাসানুল হক ইনু : হ্যাঁ, জঙ্গি হামলাই হইছে... এই কার্ডটা খেলব আমরা এখন।

শেখ হাসিনা : না, কার্ড খেলা না, এটা আমি আগে করি নাই কিন্তু আমাকে আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে আমাকে মেসেজটা দিছে যে এটা জঙ্গি হামলা...

হাসানুল হক ইনু : জঙ্গি সন্ত্রাসের মোকাবেলা করছে এখন সরকার।

শেখ হাসিনা : ...তারা আমাকে এইটাই বলছে যে এইটা জঙ্গি হামলা...দিয়ে দিবো পেপারে।

হাসানুল হক ইনু : আচ্ছা এইটা একটা ব্যাপার, আরেকটা হচ্ছে যে, দুইটা ভাগ, একটা হচ্ছে ছাত্রদের কোটা আন্দোলনকারী, একটা হচ্ছে উৎখাতকারী, উৎখাতকারীরা জঙ্গি সন্ত্রাসী হামলায় চলে গিয়েছে। কোটা সংস্কারকারীর ব্যাপারে আপনার আমার সরকারের যা যা আছি সমবেদনা আছে। উৎখাতকারীকে আমি রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করব, কোনো ছাত্র যদি উৎখাতকারীর সঙ্গে জড়িত হয়, সেই দায়িত্ব আমি নিবো না।

শেখ হাসিনা : ...এটা আপনারা বলেন, এটা আপনারা বলেন না কেন?

হাসানুল হক ইনু : আমি তো বলব...

শেখ হাসিনা : আরে আমি তো শত্রু, আপনারা বললে তখন মনে করবে যে অন্যান্য এঙ্গেল থেকে বলা হইছে।

হাসানুল হক ইনু : আমি তো অবশ্যই বলব...

শেখ হাসিনা : বাকি দেখতেছি না, কমিউনিস্ট পার্টি তারা এখন শেষ হয়ে গেছে...

হাসানুল হক ইনু : তো দেখি আমি ওদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করি সেলিম সাবের সঙ্গে।

শেখ হাসিনা : ... কী জানি উনার নাম? সাইফুল হক নাকি?

হাসানুল হক ইনু : সাইফুল সাইফুল। জোনায়েদ সাকি। জোনায়েদ সাকি, সাইফুল হক। আচ্ছা আমি জোনায়েদ সাকি, সাইফুল হকের সাথে একটু লিয়াজু করি।

শেখ হাসিনা : তোমরা কোথায় নিচ্ছো দেশটাকে? ওদের মধ্যে যে সমর্থন দিচ্ছ, তা এখন দেখো পুরা জঙ্গি হামলা হচ্ছে।

হাসানুল হক ইনু : আরেকটা পয়েন্ট কি খেয়াল করছেন আপনি যে আনু মোহাম্মদরা সরি শিক্ষকরা যারা সমর্থন দিছে তারা একটা অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা ফ্লোট করার চেষ্টা করছে যেখানে বলতে চাচ্ছে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শিক্ষার্থীদের নিয়ে হেন-তেন নিয়ে হবে, ছায়া সরকার করবে এবং সংবিধান বাতিল করার জন্য একটা সংবিধান সভা করতে হবে। মানে সংবিধানই বাতিল করে দিবে... হ্যাঁ সংবিধান বাতিল চায়। আমি... ভাইকে একটু আগে বলছি যে মাইনুল ভাই এটা খুবই এলার্মিং কথা, যেখানে বঙ্গবন্ধুর মূর্তি আর ম্যুরাল ভেঙে ফেলতেছে তারমানে আমার পয়েন্টটা নিতে হবে যে এদের এট্যাকটা হচ্ছে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধের বেসিক অর্জনের উপরে। সুতরাং তারা তো খালি সরকার বদল চাচ্ছে না, মানে কোটা আন্দোলন করে কোটা চায়নি তারা সরকার উৎখাত করতে চাইছে। আর এক দফা আন্দোলনের মানে তারা হচ্ছে সরকারের মানে রাষ্ট্রের বেসিক সংবিধান উড়ায় দিতে চাচ্ছে তারা। তারমানে এই জায়গায় পলিটিক্সটা, অ্যাটাক করতে হবে আমাকে, দাঁড় করাইতে হবে এখন।

শেখ হাসিনা : ওই যে সেভেনটি ফাইভের পর করছিল...

হাসানুল হক ইনু : এক্সাক্টলি, তো এখন আপনি কি অ্যাডজাস্ট করবেন এইটা ছোটখাটো পাঁচ দশ মিনিটের... আরো দুইদিন একদিন পরে?

শেখ হাসিনা : আজকের দিনটা যাক দেখি।

হাসানুল হক ইনু : আজকের দিনটা যাক, আমি প্ল্যানগুলা সাজাই আপনাকে আমি আমার বিবেচনা যেগুলা আছে দিবোনি আপনাকে। আর আমি বলি যে কারফিউটা বডি ল্যাংগুয়েজে অনেক কঠোর হবে যে ঘর থেকে বের হলেই এরেস্ট, গুলি না মানে অ্যারেস্ট করে ভেসে আসবে মানে টেলিভিশনে যে শান্তিনিকেতন থেকে ত্রিশজন এরেস্ট হইছে, জেলে পাঠানো হইছে, কিন্তু জেলে পাঠাবো না, থানায় রাখবো, দশ ঘন্টা পরে ছেড়ে দিবেন আরকি। বুঝলেন না?

শেখ হাসিনা : বেশ, আচ্ছা।

হাসানুল হক ইনু : গরিব মানুষই তো। কিন্তু প্রোপাগান্ডা হবে ঘর থেকে বেরোলেই, মানে গুলি হবে, গুলি শব্দ বলবো না, আইনানুগ ব্যবস্থা নিবে কঠোর। কেউ ঘরের বাইরে বেরোবে না। মানে রিল্যাক্স কারফিউ না আর কী। আপনার অফিসের মানে বাসার চার পাশে একটু মানে এই মানিকমিয়া এভিনিউর এখান থেকে প্রোডাকশন বাড়ান...

শেখ হাসিনা :...

হাসানুল হক ইনু : না ওইটা না, ওরা যে ঢাকা চলো বলছে, গণভবন আক্রমণ করবে এইগুলা বলছে...

শেখ হাসিনা : গণভবন, বঙ্গভবন সব আক্রমণ করবে...

হাসানুল হক ইনু : তা ঠিক আছে, আল্লাহ ভরসা। আমি, আমার কথা হচ্ছে যে আমাদের পরে যে জনতার ঢাকা এইটা প্রমাণ করার জন্য হোমওয়ার্কটাই আজকের চব্বিশ ঘণ্টায় করে ফেলতে হবে। এভরি ওয়ার্ডে থেকে দুই হাজার লোক রেডি করতে হবে। এভরি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দুই হাজার রেডি করতে হবে এবং জেলাগুলোতেও আমি আমার যত নেটওয়ার্ক আছে আমি বলছি কারফিউ উঠবে, সাথে সাথে মিছিল বের হবে কুষ্টিয়া শহরে তিন হাজার লোকের পাঁচ হাজার লোকের, রংপুর শহরে, ময়মনসিংহ শহরে, মানে শান্তি চাই, সংঘাত চাই না, শাক্তি চাই, শান্তি চাই, ছাত্ররা ঘরে ফেরত যাও। এই মিছিল দখল করে নিতে হবে।

শেখ হাসিনা : ঠিক আছে, আপনারা আগে বলেন যে ছাত্ররা সরে যাও।

হাসানুল হক ইনু : আমিও বলতেছি, আমি অবশ্যই বলব। কিন্তু আপনার পার্টিটাকে একটু চাঙ্গা করেন।

শেখ হাসিনা : আর্মি স্কুলে দিয়ে দিছে, দেখেন এখন চলে আসছে।

হাসানুল হক ইনু : স্বাচ্ছা ঠিক আছে ওকে। ঠিক আছে।

শেখ হাসিনা : ঠিক আছে। আচ্ছা।