আজান আওয়াইসের অভিষেক সেঞ্চুরি

Printed Edition
জীবনের প্রথম টেস্টে শতরান করার পর পিচের ওপর বসে মুনাজাত আজানের : নাসিম সিকদার
জীবনের প্রথম টেস্টে শতরান করার পর পিচের ওপর বসে মুনাজাত আজানের : নাসিম সিকদার

ক্রীড়া প্রতিবেদক

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিজের টেস্ট অভিষেককে স্মরণীয় করে রাখলেন পাকিস্তানের তরুণ ওপেনার আজান আওয়াইস। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট ম্যাচেই তুলে নিলেন অনবদ্য এক সেঞ্চুরি। তৃতীয় দিনের শুরুতে বাংলাদেশের গতিময় পেসার নাহিদ রানার বলে সিঙ্গেল নিয়ে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছে যান এই বাঁ হাতি ব্যাটার। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ৮৫ রানে অপরাজিত ছিলেন আওয়াইস। তৃতীয় দিনে শুরু থেকেই ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে ধৈর্য, টেকনিক আর শট নির্বাচনের দুর্দান্ত সমন্বয় দেখা গেছে তার ব্যাটিংয়ে। বিশেষ করে স্পিন ও পেস দুই ধরনের আক্রমণই দক্ষতার সাথে সামলেছেন। শেষ পর্যন্ত ১৬৪ বল মোকাবেলা করে ১৪টি চারের সাহায্যে ১০৩ রান করে আউট হন আওয়াইস।

মিরপুরের উইকেটে যেখানে অনেক ব্যাটারই স্বাচ্ছন্দ্য খুঁজে পাননি, সেখানে আওয়াইস দেখিয়েছেন অসাধারণ ধৈর্য ও মানসিক দৃঢ়তা। তার এই শতক শুধু ব্যক্তিগত মাইলফলক নয়, পাকিস্তানের ক্রিকেটে নতুন এক সম্ভাবনারও বার্তা হয়ে থাকল।

টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ১১২ জনের বেশি ক্রিকেটার তাদের অভিষেকে সেঞ্চুরি করেছেন। প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এই কীর্তি গড়েন ১৮৭৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার চার্লস ব্যানারম্যান। ২০০০ সালে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট অভিষেকে সেঞ্চুরি করেছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আবুল হাসান। সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে ২০০১ সালে বাংলাদেশের মোহাম্মদ আশরাফুল (১৭ বছর ৬১ দিন) অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করেছেন।

দিন শেষে আজান বলেন, ‘খুব ভালো একটা অনুভূতি, কারণ এটা আমার অভিষেক ম্যাচ। আর আমি আমার দেশের জন্য খুব ভালো খেলেছি। যখন ব্যাটিং করতে যাচ্ছিলাম, তখন কিছুটা নার্ভাস ছিলাম; কিন্তু আমি আমার দলের জন্য ভালো খেলতে পেরেছি।’

বাংলাদেশের গতিময় পেসার নাহিদ রানার প্রথম বলটা গতকাল লেগেছিল আজানের হেলমেটে। কনকাশন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ম্যাচ বন্ধ ছিল মিনিট পাঁচেক। আজানের জন্য কেমন ছিল ওই অভিজ্ঞতা? তিনি বলেছেন, ‘আমি নার্ভাস হইনি; কিন্তু যখন বলটা হেলমেটে লাগল, মিনিট পাঁচেকের মতো মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছিলাম। এরপর বুঝতে পারলাম, আমি কে, তা দেখিয়ে দেয়ার এটাই সময়।’