মাথাব্যথা নিয়ে বড়ই মাথা ঘামান অনেকে। গরমের দিনে তা আরো বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে দেখা দেয় আরও এক সমস্যা, যার নাম ‘ব্রেন ফগ’। মাথা ঝিমঝিম করা, চিন্তাভাবনা গুলিয়ে যাওয়া, কিছুক্ষণ আগের ঘটনা ভুলে যাওয়া অথবা স্মৃতিশক্তি কমতে থাকা ‘ব্রেন ফগে’র লক্ষণ। মস্তিষ্ক এমন ধোঁয়াশার কবলে কেন পড়ে, তার কারণ খুঁজতে গিয়ে গবেষকেরা জানিয়েছে, এর সাথে পরিবেশ ও আবহাওয়ার একটা যোগসূত্র আছে। গরমে অত্যধিক ঘামের ফলে শরীর থেকে পানি ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান বা ইলেকট্রোলাইট (সোডিয়াম, পটাশিয়াম) বেরিয়ে যায়। ফলে রক্তচাপ কমে যায়, যে কারণে মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছতে পারে না।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ঘন ঘন পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন মস্তিষ্কের কোষকে সাময়িকভাবে সঙ্কুচিত করে যা ‘ব্রেন ফগ’-এর কারণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে তখন মাথাযন্ত্রণা, মাথাঘোরার সমস্যা শুরু হয়, মনোসংযোগের অভাব ঘটে। আচমকা ভাবনাচিন্তা শ্লথ হয়ে যাওয়া, মনোযোগের অভাব, স্মৃতিলোপের মতো নানা ধরনের সমস্যা ব্রেন ফগের উপসর্গ। মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশটি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রক বা থার্মোস্ট্যাট হিসেবে কাজ করে। বাইরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে, তখন শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাইপোথ্যালামাসকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। ফলে তার অন্যান্য কাজগুলো যেমন সিদ্ধান্ত নেয়া, চিন্তাভাবনা ও স্মৃতি ধরে রাখার ক্ষমতা সাময়িকভাবে কমে যায়। সে কারণেই ঝিমুনি আসে, ক্লান্তি বাড়ে। প্রচণ্ড গরমে আবার ডোপামিন হরমোনের ক্ষরণেও অসামঞ্জস্য আসে। ফলে দিনের বেলাতেও ক্লান্তি আসে, মাথা ধরে যায়, শরীর অস্থির লাগে। ‘ব্রেন ফগ’ এড়াতে হলে পরিমিত আহার করতে হবে। গরমের সময়ে বাইরের খাবার, ভাজাভুজি বা বেশি তেলমসলা দেয়া খাবার খাওয়া চলবে না। বেশি চিনি আছে এমন পানীয় এড়িয়ে যেতে হবে। প্রতি দিন পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে এবং তরল খাবার ডায়েটে রাখতেই হবে। লক্ষ রাখতে হবে- কোনোভাবেই যেন শরীর পানিশূন্য না হয়ে পড়ে। ইন্টারনেট।



