পুলক চক্রবর্তী রাঙ্গামাটি
ঈদুল আজহার টানা ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় আবারো মুখর হয়ে উঠেছে পাহাড় ও হ্রদের শহর রাঙ্গামাটি। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা হাজারো পর্যটকের ভিড়ে জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য। পর্যটকদের আগমনে চাঙা হয়ে উঠেছে স্থানীয় হোটেল-রিসোর্ট, নৌযান, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ পর্যটননির্ভর বিভিন্ন খাত।
ঈদের ছুটির শুরু থেকেই রাঙ্গামাটির অন্যতম আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতু, কাপ্তাই হ্রদ, সুবলং ঝরনা, পলওয়েল পার্ক, আরণ্যক রিসোর্ট, রাঙ্গাদ্বীপ রিসোর্ট, মায়াবী দ্বীপ ও ভার্গী লেকে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। পাহাড়, হ্রদ ও সবুজ প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা এসব স্থানে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে সময় কাটাতে দেখা যায় পর্যটকদের।
রাঙ্গামাটির প্রতীক হিসেবে পরিচিত ঝুলন্ত সেতু এলাকায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছিল উপচেপড়া ভিড়। একইভাবে আসামবস্তি এলাকার আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সেতুতেও ভ্রমণপিপাসু মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ পরিবার নিয়ে আনন্দঘন মুহূর্ত কাটাচ্ছেন।
পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ কাপ্তাই হ্রদে নৌভ্রমণ। সকাল থেকেই পর্যটকরা ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ট্যুরিস্ট বোট ভাড়া করে হ্রদের বুকে ঘুরে বেড়ান। নৌপথে তারা সুবলং ঝরনাসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করেন। পর্যটকদের ভিড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন নৌযান ব্যবসায়ী ও মাঝিরা।
পর্যটকের চাপ বেড়ে যাওয়ায় জেলার আবাসন খাতেও ব্যস্ততা দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টে কক্ষের আগাম বুকিং বেড়েছে। পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, ছুটির বাকি দিনগুলোতেও পর্যটকের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সমন্বয়ে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, ঈদের ছুটিতে প্রায় ২০ হাজার পর্যটক রাঙ্গামাটি ভ্রমণ করবেন। তাদের মতে, পর্যটকদের এই ব্যাপক আগমন শুধু পর্যটন খাত নয়, স্থানীয় অর্থনীতির বিভিন্ন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দীর্ঘদিন পর এমন প্রাণচাঞ্চল্যে আশাবাদী ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সামনের পর্যটন মৌসুমেও এ ধারা অব্যাহত থাকলে রাঙ্গামাটির পর্যটনশিল্প নতুন গতি পাবে।



