অটোমেশন ও আসন সঙ্কটে বুটেক্স লাইব্রেরি

Printed Edition

বুটেক্স প্রতিনিধি

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের প্রধান জ্ঞানকেন্দ্র হলেও সময়সূচির জটিলতা, তীব্র আসন সঙ্কট, পুরনো বইয়ের সংগ্রহ এবং আধুনিক অটোমেশন ব্যবস্থার অনুপস্থিতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিন দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলো সকাল ৮টার আগেই ক্যাম্পাসে পৌঁছালেও লাইব্রেরি খোলে ৯টায়। ফলে দূর থেকে আসা শিক্ষার্থীদের দিনের প্রথম এক ঘণ্টা কাজে লাগানোর সুযোগ থাকছে না। অন্যদিকে জ্বালানি সঙ্কটকালীন সরকারি সিদ্ধান্তে লাইব্রেরির সমাপ্তি সময় আগের বিকেল ৫টা থেকে কমিয়ে ৪টা করা হয়েছে, যা এখনো বহাল রয়েছে। দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্বের সময়সূচিতে, এমনকি দুই শিফটে রাত পর্যন্ত লাইব্রেরি সেবা চালু থাকলেও বুটেক্সে সেই সুবিধা নেই।

৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফারদিন বিন আমান বলেন, ‘পরীক্ষার সময় সকাল ৮টা থেকে ৯টার এই এক ঘণ্টা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য লাইব্রেরি সকাল ৮টা থেকে খোলা রাখা জরুরি।’ লাইব্রেরির অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। পড়ার স্থান ও কম্পিউটার সেকশন একই কক্ষে থাকায় প্রায়ই শব্দদূষণ ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইকরামুল হাসান বলেন, ‘কম্পিউটার সেকশনটি আলাদা কক্ষে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীর তুলনায় লাইব্রেরির পরিসরও অপ্রতুল।’

বইয়ের সংগ্রহ নিয়েও হতাশ শিক্ষার্থীরা। ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ সিয়াম জানান, অনেক বই পুরনো ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এবং একাডেমিক বইয়ের বাইরে সাহিত্যিক বইয়ের সংগ্রহও সীমিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চুয়েট ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজিটাল বুক সার্চ ও ই-রিসোর্স সুবিধা চালু থাকলেও বুটেক্সে অটোমেশন না থাকায় শিক্ষার্থীদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে সময় ব্যয় করে বই খুঁজতে হচ্ছে।

লাইব্রেরি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সেখানে প্রায় ২৩ হাজার বই রয়েছে এবং প্রতি বছর চাহিদা ও বিভাগীয় তালিকার ভিত্তিতে নতুন বই সংযোজন ও পুরনো বই মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে মাত্র তিনজন কর্মী দিয়ে পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় সেবা সম্প্রসারণে বাধা তৈরি হচ্ছে।

বারবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েও স্থায়ী লাইব্রেরিয়ান নিয়োগ না হওয়ায় বর্তমানে লাইব্রেরির দায়িত্ব অতিরিক্ত হিসেবে পালন করছেন ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এস এম ফারহানা ইকবাল। তিনি বলেন, ‘অটোমেশনের কাজ প্রক্রিয়াধীন। একজন শিক্ষক হিসেবে এই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে।’ তিনি আরো জানান, শিক্ষার্থীদের একটি অংশের মধ্যে বই পড়ার অনীহা রয়েছে, যা নতুন বইয়ের চাহিদা নির্ধারণেও প্রভাব ফেলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো: শরীফুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সুবিধা প্রশাসনের অগ্রাধিকার। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত লাইব্রেরি খোলার বিষয়ে আমরা ইতিবাচক। তবে এ জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব প্রয়োজন, যা সিন্ডিকেট সভায় চূড়ান্ত করা হবে।’ তিনি আরো জানান, ইউজিসির অনুমোদন সাপেক্ষে স্থায়ী লাইব্রেরিয়ান নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান অটোমেশন প্রকল্প সম্পন্ন হলে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর অনেকটাই সমাধান হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।