শ্যামনগরে খাবারে চেতনানাশক মিশিয়ে কোটি টাকার সম্পদ লুট

Printed Edition
শ্যামনগরে ডাকাতরা ঘরের জিনিসপত্র তছনছ করে রেখে যায়  : নয়া দিগন্ত
শ্যামনগরে ডাকাতরা ঘরের জিনিসপত্র তছনছ করে রেখে যায় : নয়া দিগন্ত

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে খাবারের সাথে চেতনানাশক মিশিয়ে পরিবারের সবাইকে অজ্ঞান করে প্রায় এক কোটি ২৮ লাখ টাকার মালামাল লুট করেছে দুর্বৃত্তরা। গত শনিবার রাতে উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের সোরা গ্রামে ব্যবসায়ী আরব আলী গাজীর বাড়িতে এ দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। লুণ্ঠিত মালামালের মধ্যে ৪০ লাখ টাকা ও ৪০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি তেল সঙ্কটের কারণে তদারকি করতে ব্যবসায়ী আরব আলী গাজী ও তার ছেলে মতিউর রহমান নান্টু শনিবার রাতে শ্যামনগর সদরে তাদের নিজস্ব পেট্রল পাম্পে ছিলেন। বাড়িতে ছিলেন আরব আলীর স্ত্রী শামসুন্নাহার (৬০), পুত্রবধূ রুনা, নাতনি মারিয়ানা (১০) ও নাতি সিফাত (৪)। দুর্বৃত্তরা কৌশলে রান্নাঘরের জানালা দিয়ে খাবারের ওপর চেতনানাশক স্প্রে করে দেয়। রাত ৯টার দিকে ওই খাবার খেয়ে পরিবারের চার সদস্যই অচেতন হয়ে পড়েন।

এই সুযোগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুর্বৃত্তরা রান্নাঘরের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা আলমারি ও লকার ভেঙে ৪০ লাখ টাকা এবং ৪০ ভরি ওজনের স্বর্ণের গয়নাসহ মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে চম্পট দেয়। রাত ১২টার দিকে বাড়ির পুরুষ সদস্যরা ফিরে দেখেন, ঘরের আসবাব তছনছ করা এবং পরিবারের সবাই অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে শামসুন্নাহার ও মারিয়ানা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং বাকিদের বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

মতিউর রহমান নান্টু বলেন, বাড়িতে ফিরে দেখি সব শেষ হয়ে গেছে। মা ও সন্তানদের অবস্থা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। তেলের সঙ্কটের কারণে আমরা পাম্পে ব্যস্ত ছিলাম, সেই সুযোগটাই নিয়েছে তারা। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের ধারণা, দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পনা করেই এই দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

খবর পেয়ে গতকাল রোববার সকালে শ্যামনগর থানার ওসি খালিদুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে এবং লুট হওয়া টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।