নিজস্ব প্রতিবেদক
ফ্যাসিস্ট আমলে ২৬টি মামলার শিকার হয়েছেন। দিনের পর দিন পালিয়ে বেড়িয়েছেন। গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছেন। ৬ বছর ছিলেন চাকরিচ্যুত। শুধু তিনি নন, তার বাবা-ভাইসহ আত্মীয়-স্বজন অনেকের নামেই ডজনে ডজন মামলা হয়েছে। সরকারি চাকরি করেও যিনি আওয়ামীবিরোধী প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে সামনের সারিতে ছিলেন। জুলাই বিপ্লবে যিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, সেই গোলাম কিবরিয়াকে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই সাময়িক বরখাস্ত করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। তিনি দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি।
ডিএসসিসি একাধিক সূত্র বলেছে, আধিপত্য বিস্তারের জন্য ফ্যাসিস্ট আমলের কিছু কর্মকর্তা মিলে উপর মহলের কান ভারী করে গোলাম কিবরিয়াকে তাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
ফ্যাসিস্ট আমলে গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে মোট ২৬টি মামলা দায়ের হয়। এসব মামলায় ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল গ্রেফতার হয়ে তিনি ৪ মাস ৬ দিন জেল খাটেন। ২০১৩ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে শ্যামপুর থানায় ২টি, ওয়ারী থানায় ২টি, যাত্রাবাড়ী থানায় ২টি, পল্টন থানায় ৮টি, শাহবাগ থানায় ৪টি এবং রমনা থানায় ৮টি মামলা দায়ের হয়।
তার সেজ ভাইয়ের বিরুদ্ধে ছিল ২৯টি মামলা, বাবার বিরুদ্ধে ছিল ২টি মামলা। এই মামলায় তার বাবা-ভাইয়েরাও মাসের পর মাস জেল খেটেছেন। এরপরেও সব সময় তিনি ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনের সামনের সারিতেই ছিলেন। জুলাই বিপ্লবের সময়ও তিনি ছাত্র-জনতার কাতারেই ছিলেন।
এবার তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্তের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বিভিন্ন বিশ্বস্ত সূত্র থেকে তার বিরুদ্ধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সব ধরনের টেন্ডার কাজ নিয়ন্ত্রণ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন মার্কেটের দোকান বরাদ্দ ও পরিচালনায় নানা অনিয়মসহ দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সুস্পষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে এ বিভাগের একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। উক্ত তদন্তকার্য সুস্পষ্টভাবে পরিচালনা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সদর দফতরে সংযুক্ত করে সাময়িক বরখাস্ত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’ যেখানে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ উল্লেখ করা হয়নি।
একটি সূত্র বলেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে এখন আধিপত্য বিস্তারের লড়াই চলছে। ফ্যাসিস্ট আমলে যারা দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন তারা সব জোট হয়েছে। ফ্যাসিস্টবিরোধী যেসব কর্মকর্তা কর্মচারীরা ছিলেন তারা এখন অনেকটাই কোনঠাসা। এই অবস্থায় সংস্থার অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিকে তাড়াতে পারলে তাদের পোয়াবারো। এ ব্যাপারে গোলাম কিবরিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, অভিযোগের তদন্ত হচ্ছে; এই মুহূর্তে আমি কিছু বলবো না।



