নয়া দিগন্ত ডেস্ক
গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু সাড়ে চারশ জন ছাড়িয়েছে। গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরো ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে চারজনের। আর উপসর্গে আটজনের।
এ নিয়ে হাম ও উপসর্গে দুই মাসে কমপক্ষে ৪৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৭৪ জনের। আর সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭৭ জন।
গতকাল বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ মে পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে তারা মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন সাত হাজার ৪১৬ জন। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৫ হাজার ৬১১ জন। আর হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪০ হাজার ১৭৬ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছেন ৩৬ হাজার ৫৫ জন।
মাদারীপুরে হামে আক্রান্ত পৌঁছাল ৩৬৫ জনে
মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, মাদারীপুরে হামে আক্রান্ত ছাড়িয়েছে ৩৬৫। ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে তিন শিশুসহ হাসপাতালে ভর্তি আছে ৩২ শিশু। আর ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল ত্যাগ করেছে ১৪ জন।
গতকাল সকালে মাদারীপুর জেলা হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হামের উপসর্গ নিয়ে চলতি মৌসুমে জেলার সবচেয়ে বড় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৬৫ রোগী। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে এক শিশুর। উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ৩৬ জনকে। হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য আলাদা একটি ইউনিট খোলা হয়েছে। ভর্তি হওয়া রোগীদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দিচ্ছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
শহরের ইটেরপুল থেকে শিশু আরশির দাদা সাঈদ মুন্সি বলেন, হঠাৎ কাশি তার সাথে বমি শুরু হয়। শরীরে দেখা দেয় গুঁড়ি গুঁড়ি ঘামাচি। প্রথমে প্রাইভেট হাসপাতাল, পরে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসি। ৪ দিন ধরে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, সে এখন কিছুটা সুস্থ।
লঞ্চঘাট এলাকার হামে আক্রান্ত শিশু জোবায়েরের মা ইসরাত জাহান বলেন, পাঁচদিন ধরে মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালের বিছানায়। দুই দিন ধরে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। টিকা দেয়ার পরও আক্রান্ত হওয়ায় প্রথমে মেয়েকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম।
মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: অখিল সরকার জানান, শিশুদের শরীরে হামের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে ভয় আর আতঙ্কিত না হয়ে তাৎক্ষণিক হাতের কাছে সরকারি হাসপাতালে ছুটে আসতে হবে। পাশাপাশি শিশুদের তরলজাত খাবার খাওয়াতে হবে। এ ছাড়া এই রোগের প্রতিরোধক টিকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।



