হাকালুকি হাওরে ঐতিহ্য অর্থনীতি ও প্রকৃতির মেলা

Printed Edition
হাকালুকি হাওর পাড়ে মাছ কেনাবেচা হচ্ছে : নয়া দিগন্ত
হাকালুকি হাওর পাড়ে মাছ কেনাবেচা হচ্ছে : নয়া দিগন্ত

আব্দুল হামিদ কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার)

পৌষ সংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে দেশের বৃহত্তম হাওর হাকালুকিতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী ও বিশাল আকারের মাছের হাট। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত হাকালুকি হাওরের ফিংলার বিলে এ হাট এখন শুধু বেচাকেনার স্থান নয়, এটি গ্রামবাংলার সংস্কৃতি, জীবিকা ও অর্থনীতির এক প্রাণবন্ত উৎসবে পরিণত হয়েছে।

১৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, ঘন কুয়াশায় মোড়া হাওরের নৈসর্গিক দৃশ্য। ভোরের নীরবতা ভেঙে জেলের নৌকার ছলাৎছল শব্দ, জালে মাছ তোলার ব্যস্ততা আর পাখির কলতানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বিস্তীর্ণ বিল, সবুজ মাঠ ও পানির মেলবন্ধনে হাকালুকি হাওর যেন প্রকৃতির এক জীবন্ত ক্যানভাস।

ফিংলার বিলে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণ করে উৎসবমুখর পরিবেশে মাছের হাট পরিচালিত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের ভিড়ে জমজমাট হাটে ডাকের মাধ্যমে নিলামে মাছ বিক্রি করা হচ্ছে। সকাল থেকে জেলেরা নৌকায় করে বোয়াল, চিতল, রুই, কাতলা, ঘাঘট, টেংরাসহ নানা প্রজাতির বড় আকারের দেশী মাছ আহরণ করছেন। বিক্রেতারা জানান, বড় বোয়াল মাছের দাম ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতি তিন বছর পরপর ফিংলার বিলে এই মাছের হাট বসে। দীর্ঘদিন ধরে পোনা অবমুক্তকরণ, নিয়মিত খাবার সরবরাহ ও দিনরাত পাহারার মাধ্যমে মাছ লালন-পালন করা হয়। তাদের হিসেবে প্রতিদিন নিলামে ৫০ লাখ টাকারও বেশি মাছ বিক্রি হচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ক্রেতারা বলছেন, হাকালুকি হাওরের মিঠাপানির মাছের সুনাম সারা দেশে। এখান থেকে পাঁচ থেকে ১০ লাখ টাকার মাছ কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে তারা লাভবান হচ্ছেন। অন্যদিকে হাওরপাড়ের কৃষক ও জেলেদের জীবিকাও মাছের হাটকে ঘিরে নতুন গতি পাচ্ছে।

সব মিলিয়ে, পৌষ সংক্রান্তিকে ঘিরে হাকালুকি হাওরের মাছের হাট শুধু একটি বাণিজ্যিক আয়োজন নয়; এটি গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জীবিকাভিত্তিক অর্থনীতির এক অনন্য ও জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।