নয়া দিগন্ত ডেস্ক
- গাজায় ফের ইসরাইলি বিমান হামলায় নারী-শিশুসহ নিহত সাত
- পশ্চিমতীরে থামছে না ইসরাইলি তাণ্ডব
- ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ এখনো শেষ হয়নি : জাতিসঙ্ঘ
ইসরাইলকে তাদের কাছে আটকে থাকা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) করের অর্থের একটি অংশ ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদে দেয়ার জন্য অনুরোধ করার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অর্থ যুদ্ধপরবর্তী গাজা পুনর্গঠন পরিকল্পনায় ব্যবহার করা হবে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত পাঁচটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন এখনো ইসরাইলকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায়নি। এ বিষয়ে ইসরাইলের সাথে মার্কিন প্রশাসনের আলোচনার বিষয়ে অবগত তিনটি সূত্র এ কথা বলেছে। অন্য দু’টি ফিলিস্তিনি সূত্র এই আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে। তাদের মতে, করের অর্থের একটি অংশ গাজার মার্কিন-সমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকারকে দেয়া হবে। বাকি তহবিল পাবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ)। তবে এ জন্য তাদের কিছু সংস্কার করতে হবে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ইসরাইল তাদের প্রায় ৫০০ কোটি ডলারের কর আটকে রেখেছে। ফিলিস্তিনিদের নিজেদের করের অর্থই ট্রাম্পের গাজা পুনর্গঠন পরিকল্পনায় ব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অথচ এ পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) কোনো মতামত নেয়া হয়নি। এতে পশ্চিমা সমর্থিত পিএ আরো কোণঠাসা হয়ে পড়তে পারে। এমনিতেই ইসরাইল করের অর্থ আটকে রাখায় অধিকৃত পশ্চিমতীরে তীব্র আর্থিক সঙ্কট তৈরি হয়েছে। পিএ পশ্চিমতীরে সীমিত স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে। তবে ২০০৭ সালে হামাসের সাথে সংক্ষিপ্ত গৃহযুদ্ধের পর পিএ গাজা থেকে উৎখাত হয়। এর পর থেকে সেখানে তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।
দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইসরাইলি যুদ্ধে গাজা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। গাজা নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনাটি বর্তমানে থমকে আছে। পাশাপাশি ইসরাইলি বাহিনী অনবরত হামলা চালাচ্ছে। এসব কারণে গত অক্টোবরে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি ব্যাহত হচ্ছে।
ফিলিস্তিনিদের করের অর্থ ব্যবহারে ইসরাইলের কাছে প্রস্তাব দেয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদ। এই পর্ষদের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্পের গাজা পুনর্গঠন পরিকল্পনায় সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকেই নিজেদের সম্পদ ও অর্থ কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রায় সাত হাজার কোটি ডলার খরচ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, এর মধ্যে পিএ এবং ইসরাইলও রয়েছে। ব্যাংকে পড়ে থাকা অর্থ প্রেসিডেন্টের ২০ দফা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনো কাজে আসছে না।
ব্যাংকে পড়ে থাকা অর্থ বলতে এই কর্মকর্তা মূলত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সেই করের অর্থকে বুঝিয়েছেন, যা দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইল আটকে রেখেছে। ইসরাইলের কারাগারে থাকা ফিলিস্তিনিদের পরিবারগুলোকে দেয়া ভাতা নিয়ে বিরোধের জেরে এই অর্থ আটকে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিনের একটি ব্যবস্থার আওতায় পিএর হয়ে আমদানি পণ্যের ওপর কর আদায় করে ইসরাইল। পরে সেই অর্থ পিএর কাছে হস্তান্তর করার কথা। সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও বিভিন্ন জনসেবা খাতে এই অর্থ ব্যবহার করে পিএ।
তবে ওয়াশিংটন ঠিক কী পরিমাণ অর্থ ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদে দিতে ইসরাইলকে অনুরোধ করতে পারে, সে বিষয়ে কিছু জানায়নি সূত্রগুলো। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর, ইসরাইল সরকার বা পিএ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে পিএর ওপর চাপ দিয়ে আসছে, যাতে ইসরাইলের কারাগারে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দী এবং ইসরাইলি বাহিনীর হাতে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারগুলোকে দেয়া ভাতা বন্ধ করা হয়। তাদের দাবি, এই অর্থ সহিংসতাকে উৎসাহিত করে। তবে ফিলিস্তিনিদের কাছে এই ভাতা সামাজিক সহায়তার অংশ। তারা বন্দীদের জাতীয় বীর হিসেবেই দেখে।
মার্কিন চাপের মুখে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিএ জানায়, তারা ভাতা দেয়ার পদ্ধতিতে সংস্কার আনছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, সেই পরিবর্তন যথেষ্ট নয়। এর জেরে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে পিএর হয়ে আদায় করা করের অর্থ আটকে রাখে ইসরাইল।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের মতে, আটকে থাকা এই অর্থের পরিমাণ এখন প্রায় ৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা পিএর বার্ষিক বাজেটের অর্ধেকের বেশি। এর ফলে পশ্চিমতীরে তীব্র আর্থিক সঙ্কট তৈরি হয়েছে। পিএ হাজারো সরকারি কর্মচারীর বেতন কমাতে বাধ্য হয়েছে।
গাজায় ফের ইসরাইলি বিমান হামলায় নারী-শিশুসহ নিহত ৭
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ফের ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। শুক্রবার গাজা শহরের রিমাল এলাকায় চালানো দু’টি পৃথক হামলায় এক শিশুসহ অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো অন্তত ৫০ জন। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের। স্থানীয় চিকিৎসাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে রয়টার্স জানায়, কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই ঘনবসতিপূর্ণ একটি বহুতল আবাসিক ভবনে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। মুহূর্তেই ভবনটির একটি বড় অংশ ধসে পড়ে এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে চার দিকে। আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন বাসিন্দারা।
প্রথম হামলার কিছুক্ষণ পর নিকটবর্তী একটি সড়কে চলমান একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দফা হামলা চালানো হয়। এতে হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়ে। গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, হামলার শিকার ভবনটিতে শত শত মানুষ বসবাস করছিলেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরো অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা আগুন ও ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে লাশ ও আহতদের বের করে আনতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সালমিয়া সিএনএনকে জানিয়েছেন, নিহত সাতজনের মধ্যে তিন নারী ও একটি শিশুর লাশ হাসপাতালে পেয়েছেন তারা। বিমান হামলায় নিহত হয়েছে হামাসের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ সামরিক নেতা ইজ্জ আল-দিন আল-হাদাদ। হামাসের দুই কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, শুক্রবার গাজা সিটিতে একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ও একটি বেসামরিক গাড়িতে চালানো ইসরাইলি হামলায় হাদ্দাদ নিহত হন। হামাসের সশস্ত্র শাখার আরেক সদস্যও পৃথকভাবে তার মৃত্যুর বিষয়টি এএফপিকে নিশ্চিত করেছেন। এ দিকে চলমান সঙ্ঘাতের কারণে গাজার ২০ লাখের বেশি মানুষ চরম মানবিক সঙ্কটে দিন কাটাচ্ছেন। অর্ধেকের বেশি এলাকা এখন ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। খাদ্য, পানি ও চিকিৎসাসেবার সঙ্কটে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জীবন।
পশ্চিমতীরে থামছে না ইসরাইলি তাণ্ডব
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ পশ্চিমতীরের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে নতুন করে ব্যাপক অভিযান এবং হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি সেনা ও কট্টরপন্থী ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা। খবর মিডল ইস্ট আই-এর। শুক্রবার ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সালফিত, হেব্রন, রামাল্লা, বেথলেহেম এবং জেনিন গভর্নরেটের বেশ কিছু এলাকায় এই একযোগে তাণ্ডব চালানো হয়। অভিযানের সময় সাধারণ মানুষের ঘরবাড়িতে ভাঙচুর ও তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি নির্বিচারে গুলি এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে ইসরাইলি সেনারা, যার ফলে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, সালফিতের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত আজ-জাওয়িয়া শহরে আচমকা প্রবেশ করে ইসরাইলি সৈন্যরা একের পর এক বাড়িতে তল্লাশি চালায়। এ সময় তারা বাসিন্দাদের ঘর থেকে বের করে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং এলাকার প্রধান সড়কটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। অন্য দিকে হেব্রনের নিকটবর্তী আধ-ধাহিরিয়া এলাকায় ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, এক উগ্রপন্থী ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীর ছোড়া গুলিতে এক ফিলিস্তিনি যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। গুলিটি তার উরুতে লেগেছে এবং তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সহিংসতার এই ধারা রামাল্লার নিকটবর্তী শুকবা গ্রামেও দেখা গেছে, যেখানে উগ্র ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের মালিকানাধীন দু’টি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং আরো চারটি গাড়ি মারাত্মকভাবে ভাঙচুর করে। এ ছাড়া বেথলেহেমের নাহালিন এলাকা থেকে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি বাসিন্দাকে গ্রেফতার করেছে ইসরাইলি বাহিনী।
এরপর সেনারা ধেইশেহ শরণার্থী শিবিরে প্রবেশ করলে স্থানীয় ফিলিস্তিনি যুবকদের সাথে তাদের তীব্র সংঘর্ষ বেধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইসরাইলি সৈন্যরা ব্যাপক হারে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে, যার ফলে অনেকেই শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন। একই রাতে জেনিনের নিকটবর্তী জাবা শহরেও সামরিক যান নিয়ে প্রবেশ করে ইসরাইলি বাহিনী। সেখানে তারা সাময়িক চেকপোস্ট বসিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি চালায় এবং চালকদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে। এ সময় ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিহত ব্যক্তির নাম ৩৪ বছর বয়সী নূর আল-দীন ফাইয়াদ বলে জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানায়, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক ব্যক্তিকে জেনিন শিবিরের ভেতর থেকে হাসপাতালে নেয়া হয়। তার উরুতে গুলি লেগেছিল। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার বরাতে আনাদোলু জানিয়েছে, পশ্চিম জেনিনের ওয়াদি বুরকিন এলাকার বাসিন্দা ফাইয়াদ জেনিন শরণার্থী শিবিরে প্রবেশের চেষ্টা করলে ইসরাইলি সেনারা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের এই যৌথ হামলাকে নিয়মতান্ত্রিক নিপীড়নের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে। আন্তর্জাতিক মহলের চোখ যখন গাজার দিকে, তখন পশ্চিমতীরেও ফিলিস্তিনিদের ওপর এই ধরনের হামলা ও গ্রেফতারি অভিযান ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অধিকৃত পশ্চিমতীরে অন্তত ২৩ হাজার ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করেছে ইসরাইলি বাহিনী। এ ছাড়া গাজা থেকেও হাজারো মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রিজনার’স সোসাইটি। খবর মিডলিস্ট মনিটরের।
সংগঠনটি বলেছে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে নারী, শিশু, আহত ব্যক্তি ও সাবেক বন্দীরাও রয়েছেন। গাজা থেকে আটক বহু মানুষের অবস্থান এখনো গোপন রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। সংগঠনটির মতে, ফিলিস্তিনি জনগণের সামাজিক ও জাতীয় কাঠামো ভেঙে দিতে ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে গ্রেফতারকে ঔপনিবেশিক নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তাদের অভিযোগ, গাজা যুদ্ধের পর কারাগারগুলো ‘সংগঠিত নির্যাতন, অনাহার, অপমান ও চিকিৎসা বঞ্চনার কেন্দ্রে’ পরিণত হয়েছে। ধীরগতিতে হত্যা, যৌন নির্যাতন, অনাহার ও চিকিৎসা না দেয়ার মতো ঘটনা বেড়েছে বলেও দাবি করা হয়। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮৯ জন ফিলিস্তিনি বন্দীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ নির্যাতনে, কেউ অনাহারে, আবার কেউ চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন।
ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ এখনো শেষ হয়নি -জাতিসঙ্ঘ
ফিলিস্তিনিদের নাকবা বা মহাবিপর্যয়ের বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনিদের চলমান দুর্ভোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসঙ্ঘ। জাতিসঙ্ঘ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় যে গণউচ্ছেদ ও বাস্তুচুতি শুরু হয়েছিল, তার প্রভাব এখনো অব্যাহত রয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির। অনুষ্ঠানে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি আনালেনা বেয়ারবক বলেন, নাকবা এমন এক ঐতিহাসিক বেদনা, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বহন করে চলেছেন ফিলিস্তিনিরা। তিনি বলেন, মানুষকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল, তাদের জীবন ও জীবিকা ধ্বংস করা হয়েছিল। পুরো একটি জনগোষ্ঠী ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। বেয়ারবক আরো বলেন, গাজায় চলমান মানবিক সঙ্কট দেখিয়ে দেয় যে ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ এখনো শেষ হয়নি। গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পরও সেখানে শিশু হত্যাসহ সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক জাতিসঙ্ঘের সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারি বলেন, গাজার বর্তমান পরিস্থিতি ভয়াবহ বিপর্যয়ে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধবিরতি এখনো অত্যন্ত নাজুক এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে।



