বাজিতপুর (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে একের পর এক দস্যুতার ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। বাজিতপুরের সরারচরে কয়েকটি আলোচিত ডাকাতির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নিকলীর একটি নির্জন বিলপাড়ের বাড়িতে ভয়াবহ দস্যুতার ঘটনা ঘটে। মহিষ বিক্রির টাকা লুট করতে গিয়ে দস্যুরা পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালায়। এ সময় তারা তিন বছরের একটি শিশুকে হত্যা করার হুমকি দিয়ে নগদ দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
গত ১ জুন সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে নিকলী উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামের রোয়া বিলপাড়ের শান্তিপুর এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় আহত হৃদয় (২৫), তার মা ও স্ত্রী বর্তমানে বাজিতপুরের ভাগলপুরে অবস্থিত জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জানা যায়, ঘটনার রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকাকালে মুখোশধারী চার দস্যু ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় আরো কয়েকজন বাইরে পাহারায় ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘরে ঢুকেই তারা পরিবারের সদস্যদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে এবং মহিষ বিক্রির টাকা কোথায় রাখা আছে, তা জানতে চায়।
পরিবারের সদস্যরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাড়ির প্রধান ব্যক্তি হৃদয়ের ওপর শুরু হয় নির্যাতন। লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। তার বিধবা মায়ের মাথায় কুপিয়ে জখম করা হয় এবং স্ত্রী স্বপ্নাকে মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়। একপর্যায়ে হৃদয়ের তিন বছরের শিশুপুত্রকে পা ধরে উল্টো করে তুলে হত্যা করার হুমকি দেয় দস্যুরা। সন্তানের প্রাণ বাঁচাতে বাধ্য হয়ে হৃদয় ঘরে থাকা দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা তাদের হাতে তুলে দেন।
নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মারধর ও অর্থ লুটের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মামলা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।



