- সাড়ে ৩ বছরের প্রকল্প এখন ১১ বছরে যাচ্ছে
- আট বছরে খরচ বাড়বে ২০২.৮৫ কোটি টাকা
- ঠিকাদার ও পরামর্শকের আয়কর খাতে বাড়তি ৫১ কোটি টাকা
এনালগ গতিতে চলছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপের মাধ্যমে ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়ন। সাড়ে তিন বছরের প্রকল্প ৭ বছরে অগ্রগতি মাত্র ৫৮ শতাংশ। প্রকল্পটি এখন প্রায় এক যুগে করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। সব মিলে এখন খরচ বাড়বে ২০২ কোটি ৮৫ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। ঠিকাদার ও পরামর্শকের আয়কর দিতে অতিরিক্ত ব্যয় ৫১ কোটি টাকা। সাত বছরে মাত্র ৫৮টি ডিজিটাল সার্ভে মৌজা সম্পন্ন হয়েছে। নির্ধারিত ডিজিটাল সার্ভে মৌজা সংখ্যা ৬৩৪টির মধ্যে ৫৭৬টিই বাকি। ৪৮টি খাতে ব্যয় বাড়ছে ১৬০ কোটি টাকার বেশি।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের পাঠানো প্রকল্প প্রস্তাবনা দলিলের তথ্য থেকে জানা গেছে, দেশের ভূমি জরিপ এখনো পুরনো পদ্ধতিতে হচ্ছে। এতে করে অনেক ত্রুটি থেকে যাচ্ছে। জনবহুল বাংলাদেশে ভূমি একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। বর্তমান ভূমি রেকর্ড ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রথাগত হওয়ায় নানাবিধ সমস্যা রয়েছে। ভূমি ব্যবস্থাপনা ও পদ্ধতিতে জনসাধারণকে কাক্সিক্ষত সেবা প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ভূমি প্রশাসনকে গতিশীল, টেকসই ও জনকল্যাণমুখী করে গড়ে তোলা আবশ্যক। এ লক্ষ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতর ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপের মাধ্যমে ৩টি সিটি করপোরেশন, ১টি পৌরসভা এবং ২টি গ্রামীণ উপজেলার ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি স্থাপন (ইডিএলএমএস) প্রকল্পটি ২০১৮ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেয়া হয়। অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৩৫১ কোটি ৮৬ লাখ ২২ হাজার টাকা। এখানে জিওবি ৭০.৮৩ কোটি এবং প্রকল্প ঋণ ২৮১.০৪ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য একনেক থেকে অনুমোদন দেয়া হয়।
প্রকল্পের উদ্দেশ্য : মন্ত্রণালয় বলছে, ডিজিটাল সার্ভে, ম্যাপ ও খতিয়ান ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে ভূমি মালিকদের মালিকানা নিশ্চিতকরণসহ ভূমি বিরোধ হ্রাসকরণ এবং ভূমি হতে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করত: সরকারের ভূমি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা অর্জন করার পরিকল্পনা নেয়া হয়। ভূমি ব্যবস্থাপনায় সর্বাধুনিক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি ব্যবহার করে নিরবচ্ছিন্ন ও স্বচ্ছ ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলাই উদ্দেশ্য ।
প্রকল্প এলাকা : নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, ধামরাই উপজেলা (পৌরসভাসহ), মানিকগঞ্জ পৌরসভা, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, রাজশাহী সিটি করপোরেশন এবং কুষ্টিয়া সদর উপজেলা (পৌরসভাসহ)
এই প্রকল্পের আওতায় কাজগুলো হলো, ৬৩৪টি ডিজিটাল সার্ভে মৌজা সম্পন্ন করা। ৮৮ হাজার ৮৩৪টি অস্থায়ী কন্ট্রোল পয়েন্ট স্থাপন সম্পন্ন করা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা। ড্রোন/এরোপ্লেন ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল ভূমি জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা।
বাড়ছে খরচ ও মেয়াদ : প্রকল্প দলিলের তথ্য বলছে, দুই দফায় সংশোধনীতে প্রকল্পের মেয়াদ সাড়ে ৪ বছর বাড়ানো হয়। সেই সাথে বাড়ে ৪২ কোটি ৫২ লাখ টাকা। কাজ অর্ধেকও আগায়নি। এখন আবার সংশোধনীর প্রস্তাব দিয়ে মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে তিন বছর। এতে করে মেয়াদ দাঁড়াবে ১১ বছরে। আর খরচ মোট ২০২ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৫৫৪.৭২ কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এখানে জিওবি ১৮৫.৭৪ কোটি টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৩৬৮.৯৮ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ ৩ বছর বৃদ্ধি অর্থাৎ জুলাই ২০১৮ হতে জুন ২০২৯ পর্যন্ত সময়ে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রকল্পের অগ্রগতি : বেশির ভাগ কাজই বাকি : দ্বিতীয় দফায় ব্যয় বাড়ানোর পর প্রকল্পের মোট ব্যয় ৩৯৪.৩৮ কোটি টাকার মধ্যে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সাত বছরে খরচ হয়েছে ১৯৮.১২ কোটি টাকা। এখানে জিওবি ৪৩.৬৬ কোটি টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ১৫৪.৪৬ কোটি টাকা। এই আর্থিক অগ্রগতি ৫০.২৩ শতাংশ থেকে বাস্তব অগ্রগতি মাত্র ৫৮ শতাংশ।
কাজের মধ্যে সাত বছরে হয়েছে, নির্ধারিত ডিজিটাল সার্ভে মৌজা ৬৩৪টির মধ্যে ৫৭৬টি মৌজার সার্ভেই হয়নি। এ ছাড়া, প্রকল্পের নির্ধারিত অস্থায়ী কন্ট্রোল পয়েন্ট স্থাপনের সংখ্যা ৮৮ হাজার ৮৩৪টির মধ্যে ১২ হাজার ৯৩৩টি স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট ৭৫ হাজার ৯০১টি অস্থায়ী কন্ট্রোল পয়েন্ট স্থাপন বাকি আছে।



