বাঁচানো গেল না কায়সার হামিদের মেয়ে কারিনাকে

Printed Edition

সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক

উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে নিয়ে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেল না প্রখ্যাত ফুটবলার কায়সার হামিদের মেয়ে কারিনাকে। মাত্র ৩১ বছর বয়সেই বিদায় নিলেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর, চিত্রনাট্যকার ও তরুণ অভিনেত্রী কারিনা কায়সার। লিভার ও ফুসফুসের জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। শুক্রবার রাতে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কারিনা। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার বাবা কায়সার হামিদ বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়কও ছিলেন তিনি। কারিনার দাদী বাংলাদেশের দাবা জগতের আইকন লেডি খ্যাত রানী হামিদ। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী আন্তর্জাতিক দাবা মাস্টার।

তিন ভাইবোনের মধ্যে কারিনাই ছিলেন একমাত্র মেয়ে এবং সবার বড়।

কারিনার আকস্মিক বিদায় সংবাদে দেশের শোবিজ অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রথমে সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত হলেও পরে কারিনার শরীরে মারাত্মক সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সাথে হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ই-জনিত জটিলতার কারণে তার লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ১১ মে রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে নেয়া হয়। চিকিৎসকরা প্রথমে তার ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের চিকিৎসা শুরু করেন এবং লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট বা প্রতিস্থাপনের প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন।

কায়সার হামিদ বলেন, ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেয়ার সময় হঠাৎ করেই কারিনার রক্তচাপ (প্রেশার) অনেক নিচে নেমে যায়। এরপর চিকিৎসকরা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে তরুণদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন কারিনা কায়সার। কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও সাম্প্রতিক সময়ে তিনি নিজেকে একজন দক্ষ অভিনেত্রী ও চিত্রনাট্যকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছিলেন। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং ছোটপর্দায় তিনি নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখছিলেন। তার অভিনীত ও লেখা উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক আলোচিত ওয়েব সিরিজ ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।

কারিনার এই অকাল মৃত্যুতে অভিনেতা-অভিনেত্রী, তার সহকর্মী, নির্মাতা ও ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছেন। পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনেও গভীর শোকের নেমে আসে।