পথচলার ৫৫ বছর পেরিয়ে হায়াত-শিরীন দম্পত্তি

Printed Edition
পথচলার ৫৫ বছর পেরিয়ে হায়াত-শিরীন দম্পত্তি
পথচলার ৫৫ বছর পেরিয়ে হায়াত-শিরীন দম্পত্তি

বিনোদন প্রতিবেদক

একুশে পদকপ্রাপ্ত জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেতা, নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক আবুল হায়াত এই সময়ে এসেও অভিনয়ে নিয়মিত। নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি মাঝে মধ্যে নাটক নির্মাণও করেন। কিছু দিন আগেই তিনি রাবেয়া খাতুনের গল্পে নির্মাণ করেছেন ‘সখিনা’ নামের একটি নাটক যা আগামী ঈদে চ্যানেল আইতে প্রচার হবে। এদিকে গত ৪ ফেব্রুয়ারি ছিল আবুল হায়াত ও তার স্ত্রী শিরীন হায়াতের বিবাহিত জীবনের ৫৬তম বর্ষ। সুখের দাম্পত্য জীবনের ৫৫ বছর পেরিয়ে ৫৬-তে পা রাখলেন তারা। ১৯৭০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি আবুল হায়াতের সাথে শিরীন হায়াতের আকদ হয়েছিল খুলনাতে। তাদের দুই যোগ্য কন্যা একজন বিপাশা হায়াত, অন্যজন নাতাশা হায়াত। বিপাশা হায়াত বহু নাটক-সিনেমাতে অভিনয় করে এদেশের মানুষের ভালোবাসায় নিজেকে ধন্য করেছেন। যদিও বা এখন তিনি পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। কিন্তু তার ভক্ত দর্শকরা এখনো তাকে খুব মিস করে। এদিকে নাতাশা হায়াত অভিনয়ে নিজেকে সম্পৃক্ত করলেও কিন্তু এখন তিনি নিজের ব্যবসায় নিয়েই বেশি মনোযোগী। রাজধানীর বনানীতে তার একটি ফ্যাশন হাউজ রয়েছে। দুই মেয়ের সুন্দর জীবন গড়ে দিয়েছেন আবুল হায়াত ও শিরীন হায়াত। শিরীন হায়াতের সাথে দীর্ঘদিনের এই পথচলা প্রসঙ্গে আবুল হায়াত বলেন, ‘দেখতে দেখতে কেমন করে যে আমরা ৫৫টি বছর পার করেছি, তা ভাবতেই অবাক লাগে। শিরীনের মতো একজন জীবনসঙ্গী পাওয়াটাও ভাগ্যের ব্যাপার। সবসময় তাই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি এবং মনে মনে বলি- প্রত্যেকটি মানুষই যেন তাদের দাম্পত্য জীবন আমাদের মতোই সুখে-দুঃখে মিলেমিশে আনন্দে কাটিয়ে দিতে পারে। একটা সময় আমাদেরও অর্থকষ্ট ছিল; কিন্তু একটা বিষয় আমি মেনে চলেছি যে, জীবনে কখনো অন্যায় পথে অর্থ আয় করব না। আমার দুই মেয়েকে মানুষের মতো মানুষ করার দায়িত্ব কিন্তু আমার স্ত্রীই নিয়েছে। আমি আমার কাজ করে গেছি সে বাচ্চাদের মানুষ করার কাজ করে গেছে। এই যে মাঝে এতগুলো দিন কীভাবে যে কেটে গেছে, মনে হচ্ছে স্বপ্নেরই মতো। দুজনের প্রতি দুজনের আস্থা-বিশ্বাস আর প্রবল ভালোবাসা ছিল বলেই ৫৫টি বছর সুন্দরভাবে কাটাতে পেরেছি।’ বিয়ের আগে আবুল হায়াত ও শিরীন হায়াতের কিছুটা বোঝাপড়া ছিল তারপরও উভয় পরিবারের আলোচনার পর আকদ হয়। শিরীন হায়াতের চার ভাই , দুই বোনের মধ্যে শিরীন ও তার এক ভাই বেঁচে আছেন। আবুল হায়াতের চার বোনের মধ্যে দুই বোন মারা গেছেন। শিরীন হায়াত বলেন, ‘আমাদের দাম্পত্য জীবনের শুরুতে আমার স্বামীর যে রোজগার ছিল তা অল্প থাকলেও তাতে সুখ ছিল, শান্তি ছিল। সংসার জীবনে আমি যে স্বাধীনতা পেয়েছি, এমন স্বাধীনতা হয়তো কাউকে দেয়া হয় না, কেউ পায়ও না। এমন একজন মহান মানুষের স্ত্রী আমি, এটিই আমার শান্তি- এটিই আমার অনেক অনেক ভালো লাগার। এখন যদি আমি মরেও যাই, আমার আর কোনো দুঃখ থাকবে না।’ প্রসঙ্গত আবুল হায়াতের বাবার নাম আব্দুস সালাম, শিরীন হায়াতের বাবার নামও আব্দুস সালাম। আবুল হায়াতের মায়ের নাম মিসেস শামসুন্নাহার, শিরীন হায়াতের মায়ের নাম মিসেস মহিতুন্নেসা।