গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা

শর্তারোপ ছাড়া দাওরায়ে হাদিসের সনদের স্বীকৃতি বাস্তবায়ন করতে হবে

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

কোনো ধরনের শর্তারোপ ছাড়া সরকারকে দাওরায়ে হাদিসের সনদের স্বীকৃতি বাস্তবায়ন করতে হবে। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়, জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো নীতিমালা-২০২৬ অনুসারে এনএসডিএ প্রণীত এনএসসি লেভেল-১ থেকে লেভেল-৬ পর্যন্ত কারিগরি শিক্ষার কোর্সগুলো অন্তর্ভুক্ত করে এবং সানাবিয়্যা ও সানাবিয়্যা উলইয়া স্তরে কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর শিক্ষাধারা পরিবর্তনের সুযোগ রেখে সানাবিয়্যা, সানাবিয়্যা উলইয়া ও ফজিলত স্তরকে স্বীকৃতি ও সমমান প্রদানের যে পরিকল্পনা করছে, তা কওমি শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ধ্বংসাত্মক বলে মনে করেন কওমি আলেমরা।

গতকাল আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে আলেমরা এ কথা বলেন। আল-হাইআতুল উলয়ার সদস্য মাওলানা মাহফুজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বক্তারা কয়েকটি দাবি তুল ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে-দাওরায়ে হাদিসের সনদ দিয়ে ১. ধর্মীয় পদগুলোতে চাকরির সুযোগ দিতে হবে যেমন : ক) প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ; খ) ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বিভিন্ন ইসলামী গবেষণা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ; গ) মডেল মসজিদসহ সরকারি মসজিদ এবং সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মসজিদের ইমাম ও খতিব পদে নিয়োগ; ঘ) সামরিক, আধাসামরিক বাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীতে ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ, ঙ) জেলখানার ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ। ২. দাওরায়ে হাদিসের সনদ দ্বারা উচ্চশিক্ষার সুযোগ দিতে হবে। যেমন : ক) দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ ছাড়া যেকোনো বিষয়ে মাস্টার্সে ভতির সুযোগ; খ) দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে এমফিল ও পিএইচডির সুযোগ।

৩. ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবির স্নাতকোত্তর সনদ দিয়ে দেশে যেসব ক্ষেত্রে চাকরির সুযোগ আছে সর্বক্ষেত্রে দাওরায়ে হাদিসের সনদ দ্বারা কওমি মাদরাসা উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের দেশসেবার সুযোগ দিতে হবে। ৪. সরকারি বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসাবে ‘দাওরায়ে হাদিস’কে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যেমন-গুএড়া প্ল্যাটফর্মে কওমি সনদকে অঢ়ড়ংঃরষষব পদ্ধতিতে সত্যায়ন, কাবিননামা, জন্ম-মৃত্যু রেজিস্ট্রেশন ইত্যাদি।

মাওলানা অছিউর রহমানের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে আলোচনা করেন, মাওলানা শরীফ মুহাম্মাদ, মুফতি মুঈনুল ইসলাম, মাওলানা যুবায়ের আহমদ, মাওলানা তৈয়ব আশরাফ, মাওলানা ইমরানুল বারী সিরাজী, মাওলানা লুৎফুর রহমান ফারায়েজী, মাওলানা রেজাউল করীম আবরার প্রমুখ।