বাড়তে পারে লিটারে ১০ টাকা

আইএমএফের ঋণের কিস্তি পেতে তেলের দাম বৃদ্ধির চিন্তা

আইএমএফ’র ঋণের পরবর্তী কিস্তিু পেতে সীমিত পর্যায়ে হলেও তেলের দাম বাড়ানোর চিন্তা করছে সরকার। এ ক্ষেত্রে লিটার প্রতি জ্বালানি তেলের দাম ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হতে পারে। চলতি মাসের ১৩ তারিখে ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ’র বসন্তকালীন বৈঠক শুরু হতে যাচ্ছে। এতে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্বে দেবেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ বৈঠকে নির্ধারিত হবে আইএমএফ ঋণের ষষ্ঠ ও সপ্তম কিস্তি কবে নাগাদ ছাড় করা হবে। তাই বৈঠকের আগেই শর্ত অনুযায়ী তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানা গেছে।

সৈয়দ সামসুজ্জামান নীপু
Printed Edition

প্রতিদিন জ্বালানি খাতে সরকারকে ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

আইএমএফ’র ঋণের পরবর্তী কিস্তিু পেতে সীমিত পর্যায়ে হলেও তেলের দাম বাড়ানোর চিন্তা করছে সরকার। এ ক্ষেত্রে লিটার প্রতি জ্বালানি তেলের দাম ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হতে পারে। চলতি মাসের ১৩ তারিখে ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ’র বসন্তকালীন বৈঠক শুরু হতে যাচ্ছে। এতে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্বে দেবেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ বৈঠকে নির্ধারিত হবে আইএমএফ ঋণের ষষ্ঠ ও সপ্তম কিস্তি কবে নাগাদ ছাড় করা হবে। তাই বৈঠকের আগেই শর্ত অনুযায়ী তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানা গেছে।

ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে চলতি এপ্রিল মাসে তেলের দাম বাড়ানো হবে না। কিন্তু ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়া এবং আইএমএফ’র কাছ থেকে ঋণের কিস্তি দ্রুত ছাড় করা এবং বর্ধিত সহায়তা পাওয়ার জন্য অনেকটা বাধ্য হয়েই তেলের দাম বাড়ানো সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আইএমএফ’র বৈঠকের বিষয়ে গত শুক্রবার অর্থমন্ত্রীর বাসায় এক প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে গত শুক্রবার চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশে এখনো তেলের কোনো সঙ্কট তৈরি হয়নি। তবে উচ্চমূল্যে এনে তেল ও গ্যাস কতদিন এভাবে চালানো সম্ভব হবে, তা চিন্তার বিষয়। তাই শিগগিরই তেলের দামের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। আমাদের প্রথম লক্ষ্য হলো জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এক্ষেত্রে কোনো আপস করার সুযোগ নেই।

জানা গেছে, তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সম্মতি থাকলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ন্যস্ত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে একটি ধারণাপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে বলে জ¦ালানি ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়া গেলেই দ্রুতই জ¦ালানি তেলের দাম সমন্বয় (বাড়ানো) করা হবে। সেটি চলতি সপ্তাহের যেকোনো দিন ঘটতে পারে বলে সূত্র জানায়। এর আগে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, প্রতিদিন জ্বালানিখাতে সরকারকে ১৬৭ কোটি টাকা ভতুর্কি দিতে হচ্ছে।

অর্থ বিভাগসূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চলমান ৫৫০ কোটি ডলার ঋণ কর্মসূচির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিমাসে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করতে হবে। গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশ সে শর্ত মেনেই তেলের দাম সমন্বয় করে আসছিল। কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে সে শর্ত পরিপালন করা হয়নি। এ বিষয়ে আইএমএফ’র পক্ষ থেকে অসন্তোষও প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বর্তমান সরকার মাত্র এক মাসের কিছু বেশি সময় ধরে দায়িত্বে আছে। এখন তেলের দাম বৃদ্ধি করা হলে সাধারণ জনগণের মনে এক বিরূপ ধারণার সৃষ্টি হবে। এর পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির ওপর এর একটি নেতিবাচক প্রভাব পরবে। তাই এ মুহূর্তে তারা তেলের দাম সমন্বয় করতে চায় না। কিন্তু যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারের তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে আইএমএফ’র কিস্তিু অর্থ দ্রুত পাওয়ার আশায় সরকারকে অনেক বাধ্য হয়ে ঘাটতি মোকাবেলায় তেলের বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে বলে সূত্র জানায়।

উল্লেখ্য, আইএমএফের সাথে বাংলাদেশের ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচি শুরু হয় ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত বছরের জুনে ৮০ কোটি ডলার বেড়ে ঋণ কর্মসূচির আকার ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। আইএমএফ থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ পেয়েছে ৩৬৪ কোটি ডলারের ঋণসহায়তা। বাকি আছে ১৮৬ কোটি ডলার। গত ডিসেম্বরে ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ পাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি। আইএমএফ’র পক্ষ থেকে তখন বলা হয়,নির্বাচিত সরকারের সাথে আলোচনা করে তারা ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড় করবে। সম্প্রতি সংস্থাটি ইঙ্গিত দিয়েছে আগামী জুনে তারা ঋণের ষষ্ঠ ও সপ্তম কিস্তি একবারে ছাড় করতে পারে। তবে এর আগে বাংলাদেশকে বেশ কয়েকটি শর্ত মানতে হবে। বিদ্যুৎসহ সব ধরনের জ্বালানি পণ্য’র মূল্য সমন্বয়, কর-জিডিপি’র অনুপাত বাড়ানো, টাকা-ডলারের মূল্যমান পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়া এই শর্তগুলো ছিল অন্যতম। কিন্তু এ শর্তের কোনোটিই পুরোপুরি পরিপালন করা সম্ভব হয়নি বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

এখন আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব এ বিষয়ের ওপর একটি বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে না পারলে ঋণের পরবর্তী কিস্তি পেতে বাংলাদেশকে বেগ পেতে হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।