আবার ইউরোপসেরা পিএসজি

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল সবশেষ টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি হয়েছিল ২০১৬ সালে। সেবার অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় ১-১ গোলে সমতায় থাকার পর টাইব্রেকারে ৫-৩ গোলে জয়ী হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। মিলানের সান সিরোর সেই ফাইনালের পর এক দশক কেটে যাওয়ার পর আবার নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময় পেরিয়ে টাইব্রেকার দেখল ইউরোপ সেরার প্রতিযোগিতা। এতে টাইব্রেকারে আর্সেনালকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখে প্যারিস সেন্ট জার্মেই।

হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে গত পরশু কাই হাভার্টজের গোলে শুরুতে এগিয়ে যায় আর্সেনাল। দ্বিতীয়ার্ধে পিএসজিকে সমতায় ফেরান উসমান দেম্বেলে। এরপর নির্ধারিত সময় অতিরিক্ত সময় ১-১ গোলে শেষ হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। পিএসজির হয়ে প্রথম শটে জালের দেখা পান গনসালো রামোস। প্রথম শটে গোল করেন আর্সেনালের গায়কেরেস। এরপর দিজেরি দুয়ে গোল করলেও গানারদের হয়ে শট নিতে এসে বাইরে মারেন এবেরেচি এজে। তৃতীয় শটে এবার নুনো মেন্ডিসের শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন ডেভিড রায়া। আর আর্সেনালকে গোল করে সমতায় ফেরান ডেকলান রাইস। চতুর্থ শটে জালের দেখা পান আশরাফ হাকিমি ও গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি। পঞ্চম শটে লুকাস বারালদো গোল করে ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে নেন পিএসজিকে। শেষ শট নিতে এসে প্রবল চাপের মুহূর্তে লক্ষ্যেই রাখতে পারেননি গ্যাব্রিয়েল। উড়িয়ে মারেন আকাশে! ক্রসবারের ওপর দিয়ে ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডারের শট গেল গথ্যালারিতে। আরো একবার ইউরোপ সেরা হওয়ার স্বপ্নটাও উড়ে যায়। হতাশায় নুয়ে পড়ল আর্সেনাল। আর তাতেই ৪-৩ ব্যবধানে জিতে শিরোপা উৎসবে মেতে উঠল পিএসজি। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপসেরার মুকুট ঘরে তুলল পিএসজি।

পুসকাস অ্যারেনায় ম্যাচের ৫ মিনিটেই এগিয়ে যায় আর্সেনাল। মাঝমাঠের একটু সামনে কিছুটা সৌভাগ্যের ছোঁয়ায় ফাঁকায় বল পেয়ে যান হাভার্টজ। বিনা বাধায় এক ছুটে ডি-বক্সে ঢুকে দুরূহ কোণ থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন জার্মান তারকা। ২০২০-২১ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে হাভার্টজের একমাত্র গোলেই ম্যানচেস্টার সিটিকে হারিয়ে শিরোপা উৎসব করেছিল চেলসি। আর জার্মানির তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের একাধিক ফাইনালে গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন তিনি।

১-০তে এগিয়ে যাওয়ার পর বল দখলে রাখতে পারছিল না আর্সেনাল। এগিয়ে যাওয়ার পর রক্ষণ সামলে পাল্টা আক্রমণ নির্ভর ফুটবল খেলতে থাকে গানাররা। বিপরীতে পজিশন ধরে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালালেও আর্সেনালের জমাট রক্ষণের সামনে সুবিধা করতে পারছিল না পিএসজি। শেষ পর্যন্ত সুফল আসে ম্যাচের ৬৪ মিনিটে। সফল স্পট কিকে পিএসজিকে ম্যাচে সমতা ফেরান দেম্বেলে। ক্রিস্টিয়ান মোসকেরার ফাউলের শিকার হন খাভিচা কাভারাৎস্খেলিয়া। তাতে পেনাল্টি পায় ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা।

নির্ধারিত সময় ১-১ সমতার পর অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে গোলের তেমন নিশ্চিত সুযোগ তৈরি করতে পারেনি কোনো দলই। দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি একটু বাড়ে। গোলের সুযোগও তৈরি করে পিএসজি। কিন্তু রায়াকে পরাস্ত করতে পারেননি ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগে শিরোপা জিতলেও ইউরোপ সেরার মঞ্চে শিরোপা অধরাই রয়ে গেল আর্সেনালের।

এ দিকে নাটকীয় পেনাল্টি শুটআউটে আর্সেনালকে হারানোর পর পিএসজির শিরোপা জয়ের উদযাপনে প্যারিসের শঁজেলিজে এলাকায় জড়ো হয়েছিল প্রায় ২০ হাজার মানুষ। পুলিশ জানিয়েছে, গত বছর যুবকরা শঁজেলিজে ও অন্যান্য রাস্তায় দোকানপাট ভাঙচুর করেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ফ্রান্স জুড়ে প্রায় ২২ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। শুধু প্যারিসেই ছিল ৮ হাজার পুলিশ। ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে এবার ম্যাচের আগেই অনেক দোকান জানালায় বোর্ড লাগিয়ে রেখেছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্যারিসের ট্রাম সার্ভিস বন্ধ রাখা হয়, বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেয়া হয় এবং বাস চলাচল বন্ধ ছিল কিছু এলাকায়। এরপরও থামানো যায়নি সংঘর্ষ। প্যারিসের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ নামলে এবারো সহিংস সংঘর্ষ শুরু হয়। এই সংঘর্ষে আটক হয়েছেন ২৮৩ জন।

ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সারা দেশে মোট ৪১৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে প্যারিসে আটক হয়েছেন ২৮৩ জন। তাদের মধ্যে আরো কতজনকে তদন্তের জন্য হেফাজতে রাখা হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।