নিজস্ব প্রতিবেদক
গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলো। বিভাগীয় শহরে সমাবেশের পাশাপাশি জেলা শহরেও কর্মসূচি পালন করবে তারা। এ ছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ প্রত্যেকটি মহনগরী ও বিভিন্ন জেলায় পেশাজীবী, সিভিল সোসাইটির সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী ও নাগরিক প্রতিনিধির সাথে মতবিনিময় করবে ১১ দলীয় ঐক্য। এর সাথে ঢাকায় বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় করবে দলগুলো। পাশাপাশি দলীয় ব্যানারেও শরিকগুলো গোলটেবিল বৈঠক, সমাবেশ, বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহতভাবে পালন করবে। গত নির্বাচনে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটি গঠিত হয়েছিল। এবার আন্দোলনকে কেন্দ্র জেলা পর্যায়ে লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হবে। স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে জেলাভিত্তিক সফর করবেন কেন্দ্রীয় নেতারা।
গতকাল রাজধানীর মগবাজারের জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ এসব তথ্য জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালউদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র ও সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল জলিল, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন প্রমুখ।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নতুন কর্মসূচি অনুযায়ী সাতটি বিভাগীয় শহরে পাশের জেলাগুলো নিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ের সমাবেশ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। কর্মসূচিগুলো হলো : ১৬ মে রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশ, ১৩ জুন চট্টগ্রামে, ২০ জুন খুলনায়, ২৭ জুন মোমেনশাহীতে, ১১ জুলাই রংপুরে, ১৮ জুলাই বরিশালে এবং ২৫ জুলাই সিলেটে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষ অক্টোবরে ঢাকায় মহাসমাবেশ করা হবে।
নতুন কর্মসূচির বিষয়ে হামিদুর আযাদ বলেন, আমাদের বিভিন্ন মহানগরীতে সেমিনার কর্মসূচি চলমান আছে, যা পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য আমরা প্রতিমাসেই কর্মসূচি রেখেছি। ঈদের আগে একটি কর্মসূচি পালিত হবে। এসব সমাবেশে সিটি করপোরেশন ও আশপাশের জেলাগুলোকে সম্পৃক্ত করে ব্যাপক লোক সমাগম করা হবে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের মূল দাবি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জনদুর্ভোগ নিরসন, জ্বালানি সঙ্কট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ। এ ছাড়াও দাবির মধ্যে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, দখলদারিত্ব, স্বাস্থ্যখাতের সমস্যা সমাধান, স্বাস্থ্য-শিক্ষায় দুর্নীতি ও শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস বন্ধ করে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করে দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনা, যা গণতন্ত্র বিকাশের জন্য অপরিহার্য।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবারো দখলদারিত্ব ও নৈরাজ্য হচ্ছে, অশুভ পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ক্যাম্পাসগুলো থেকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্ররা ৫ আগস্টে এসব মুক্ত করেছিল। এখন ছাত্রলীগের শূন্যতা পূরণ করতে ছাত্রদলকে প্রতিস্থাপিত করার জন্য সরকারি উপায়-উপকরণ, বিভিন্ন এজেন্সি ও পক্ষকে ব্যবহার করা হচ্ছে। অশুভ পাঁয়তারা রুখে দিতে হলে ছাত্র সমাজকে সজাগ থাকতে হবেÑ এজন্য ছাত্রদের সাথে একটি মতবিনিময় অনুষ্ঠান করা হবে।



