বিলুপ্তির পথে পুষ্টিগুণে ভরপুর বনকচু

Printed Edition

কলারোয়া (সাতীরা) থেকে সংবাদদাতা

একসময় গ্রামবাংলার আঙিনা, েেতর আইল, ডোবা ও জলাবদ্ধ নিচু জমিতে স্বাভাবিকভাবেই জন্মাত পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ বনকচু। বর্তমানে আবাসন সম্প্রসারণ, জলাশয় ভরাট এবং কৃষিজমির পরিবর্তিত ব্যবহারের কারণে এই উপকারী উদ্ভিদটি ক্রমেই বিরল হয়ে পড়ছে। অনেক এলাকায় বনকচু এখন বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

বনকচুর পাতা, ডাঁটা, মুখি ও লতি; সবই খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। স্বাদে অনন্য এই সবজিটি গ্রামীণ জনপদে দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় একটি খাদ্য উপাদান হিসেবে পরিচিত। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি ‘বুনোকচু’ নামেও পরিচিত। তবে সঠিকভাবে রান্না না করলে বনকচু খাওয়ার পর গলা চুলকানো বা অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে তেঁতুল বা অন্যান্য টকজাতীয় খাবার খেলে উপশম পাওয়া যায়। এরপরও এর স্বাদ ও পুষ্টিগুণের কারণে বনকচুর প্রতি মানুষের আগ্রহ কমেনি।

খাদ্য ও ভেষজ গুণাগুণের জন্য বনকচু বিশেষভাবে সমাদৃত। এর পাতা ও কাণ্ড বিভিন্ন ধরনের রান্নার পাশাপাশি লোকজ চিকিৎসাতেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। প্রধানত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে এ কচুর বিস্তার বেশি দেখা যায়। স্থানীয়দের মতে, গ্রামাঞ্চলের ডোবা, খাল ও জলাবদ্ধ নিচু জায়গা ভরাট হয়ে যাওয়ায় বনকচুর স্বাভাবিক আবাসস্থল দ্রুত সঙ্কুচিত হচ্ছে। ফলে একসময় সহজলভ্য এই উদ্ভিদ এখন অনেক এলাকায় খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

পুষ্টিবিদদের তথ্যমতে, বিশ্বে প্রায় ৩০০ প্রজাতির বনকচু রয়েছে, যার মধ্যে ৮৭টি প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে। বনকচুর পাতা রান্নার আগে গরম পানিতে সিদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে নিতে হয়। এরপর মরিচ, লবণ, তেল, হলুদ ও পর্যাপ্ত রসুন দিয়ে রান্না করলে এর স্বাদ ও গুণাগুণ আরো বৃদ্ধি পায়। মুখি বা লতি রান্নায় নারিকেলের দুধ ব্যবহার করলে তা আরো সুস্বাদু হয়ে ওঠে। প্রকৃতির ভারসাম্য ও খাদ্য বৈচিত্র্য রায় বনকচু সংরণের উদ্যোগ নেয়া জরুরি।