নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় বেশি হলেও সংরক্ষণের সঙ্কটের কারণে প্রতি বছর কয়েক লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। এই পরিস্থিতি বদলাতে কৃষক পর্যায়ে নতুন করে আরো ১৫ হাজার এয়ার ফো মেশিন দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, সংরণ সমতা বাড়ানো গেলে পেঁয়াজ আমদানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে রফতানির সুযোগও তৈরি হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের পেঁয়াজ উৎপাদন এলাকায় পরিবর্তিত জলবায়ুর প্রতিকূল প্রভাব প্রশমনে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরণের অভিযোজন প্রকল্প’-এর জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো: আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সচিব ড. মো: রফিকুল ই মোহামেদ। বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত সচিব মাহমুদুর রহমান, বি এ আর সির চেয়ারম্যান ড. মো: আবদুছ ছালাম প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক ড. মো: মাহফুজুর রহমান।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় বেশি হলেও পর্যাপ্ত সংরণ সুবিধার অভাবে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। তাই সরকার সংরণ সমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে আমদানি বন্ধ করে ভবিষ্যতে উৎপাদন বৃদ্ধি ও রফতানির পথ তৈরি করা হবে।
মূল প্রবন্ধে প্রকল্প পরিচালক ড. মো: মাহফুজুর রহমান জানান, বর্তমানে দেশে বছরে চার থেকে সাত লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। অথচ ১০ ফুট বাই ১০ ফুটের একটি ইটের ঘরে এয়ার ফো মেশিন ব্যবহার করে দীর্ঘদিন পেঁয়াজ সংরণ করা সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, এ পদ্ধতি বাস্তবায়ন হলে বছরে প্রায় ৩৭৫ কোটি টাকার পেঁয়াজ সংরণ করা সম্ভব হবে। মূলত তাহেরপুরী জাতের পেঁয়াজ দীর্ঘদিন সংরণে সবচেয়ে উপযোগী।



