নিজস্ব প্রতিবেদক
প্যাকেট খাবারে লবণ, চিনি ও চর্বির অতিরিক্ত অংশ ঘোষণার দাবি জোরালো হচ্ছে। এই ব্যাপারে অবশ্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ একটি আইন তৈরির কাজ করছে। জানা গেছে, আইনটি এখন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে রয়েছে অনুমোদনের অপেক্ষায়।
অতিরিক্ত তেল-চর্বি, লবণ ও চিনি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এর ফলে দেশে বাড়ছে অসংক্রামক রোগের প্রকোপ। তরুণদেরও উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস হচ্ছে। বয়স ৪০ পেরুনোর আগে হার্ট অ্যাটাক, ব্রেইন স্ট্রোকে অনেকেই পঙ্গুত্ববরণ করছে, জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের ব্যবহার এই ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ভোক্তাদের সচেতন করার জন্য খাদ্যপণ্যের প্যাকেটের সামনের অংশে সহজবোধ্য সতর্কবার্তা বা ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) চালুর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। এই ব্যবস্থায় ক্রেতা বুঝতে পারবেন কোনো খাদ্যে অতিরিক্ত লবণ, চিনি বা সম্পৃক্ত চর্বি কতুটুকু আছে। পণ্যটির গায়ের ঘোষণা দেখে নিজেই নিজের সুস্বাস্থ্যের জন্য ঠিক করবেন এটা কিনবেন কি না।
এ ব্যাপারে গত ১৫ ও ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনে ‘বাংলাদেশে ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) : প্রয়োজনীয়তা, অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক সাংবাদিক কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা পণ্যের সামনের দিকে সতর্কবার্তা যোগ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। ইতোমধ্যে বিশ্বের ৪৪টি দেশ পণ্যের গায়ে স্পষ্ট ঘোষণা বাস্তবায়ন করেছে এবং তারা অসংক্রামক রোগ কমাতে ভূমিকা রাখছে। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহায়তায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এই কর্মশালার আয়োজন করে এতে ২৯ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে অসংক্রামক রোগ এবং অকাল মৃত্যু হচ্ছে। অতিরিক্ত চিনি, লবণ, ক্ষতিকর চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণের কারণে স্থূলতা, উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ছে। বাংলাদেশেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। দেশে প্রতি বছর প্রায় পাঁচ লাখ ৭০ হাজার মানুষ অসংক্রামক রোগে মারা যান, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ। তারা আরো বলেন, দেশের প্রায় ৯৭ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে অন্তত একবার প্যাকেটজাত খাদ্য খায়। কিন্তু এসব পণ্যের পেছনে থাকা পুষ্টির তথ্য অধিকাংশ ভোক্তার জন্য বোঝা কঠিন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে এই ধরনের লেবেলিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে। মোট ৪৪টি দেশে এফওপিএল ব্যবহৃত হচ্ছে, যার মধ্যে ১০টি দেশে এটি বাধ্যতামূলক। এসব দেশে ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ার পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ কমেছে বলে জানানো হয়।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব জানান, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে সরকার এফওপিএল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে এবং শিগগিরই তা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে আরো বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক জেমস পি গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট আবু আহমেদ শামীম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডায়েট-সংক্রান্ত ঝুঁকিবিষয়ক প্রোগ্রাম অফিসার সামিনা ইসরাত, জিএইচএআইয়ের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস। এ কর্মশালায় আরো উপস্থিত ছিলেন অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্সের (আত্মা) কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ ও মিজান চৌধুরী এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের।



