অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ন্যায়সঙ্গত পুঁজিবাজার গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন নেতৃত্ব। একই সাথে অন্যান্য স্টেকহোল্ডারের স্বার্থের সুরক্ষার কথাও জানিয়েছেন তারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিএসইসিতে এক সংবাদ সম্মেলনে পুঁজিবাজার নিয়ে নিজেদের ভাবনা, লক্ষ্য ও নতুন কমিশনের নীতিমালার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছে সংস্থাটির নতুন কমিশন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান মো: মাসুদ খান। এ সময় তিন কমিশনার নাফিজ আল তারিক, নাহিদ মাহতাব ও তানভীর হাবিব রহমান তার পাশে ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালকসহ দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, ‘আমরা এমন একটি পুঁজিবাজার চাই যা বিনিয়োগকারীদের জন্য ন্যায়সঙ্গত, ইস্যুকারীদের জন্য আকর্ষণীয়, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে সম্মানিত হবে। বাংলাদেশ এমন একটি পুঁজিবাজারের যোগ্য, যেখানে দেশের অর্থনীতির শক্তি, স্থিতিশীলতা এবং সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করে।
এর আগে দুপুরে অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ খ্যাতনামা চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট ক্রাউন সিমেন্টের গ্রুপ সিইও মো: মাসুদ খানকে চার বছরের জন্য বিএসইসির চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। একই সাথে ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের এমডি নাফিজ আল তারিক, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাহিদ মাহতাব ও আশা ইন্টারন্যাশনালের ফাইন্যান্স ডিরেক্টর তানভীর হাবিব রহমানকে কমিশনার নিয়োগ দেয়া হয়। দুপুরেই তারা বিএসইসিতে গিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে বাজার নিয়ে তাদের ভাবনা ও ভিশন তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাসুদ খান বলেন, বিগত বছরগুলোতে আমাদের পুঁজিবাজার প্রবৃদ্ধি ও আশাবাদের অনেক সময় অতিক্রম করেছে। তবে একই সাথে এমন কিছু চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা দুর্বল করেছে, ভালো মানের কোম্পানিগুলোকে বাজারে আসতে নিরুৎসাহিত করেছে, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কমিয়েছে এবং বৃহত্তর অর্থনীতিতে পুঁজিবাজারের অবদানকে সীমিত করেছে। অনেক বিনিয়োগকারী ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। অনেক ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারের বাইরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একসময় বাংলাদেশকে সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা বিদেশী বিনিয়োগকারীরা এখন আরো সতর্ক। মিউচুয়াল ফান্ড শিল্প, যা আমাদের পুঁজিবাজারের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি হওয়ার কথা ছিল, সেটিও বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করতে পারিনি। তিনি এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ও পুঁজিবাজারকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সংক্ষিপ্ত পরিকল্পনা ও ভিশন তুলে ধরেন।
বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের ভিশন অত্যন্ত স্পষ্ট। আমরা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে খুচরা বিনিয়োগকারী-নির্ভর একটি সীমান্ত বাজার (ফ্রন্টিয়ার মার্কেট) থেকে এমন একটি ইমার্জিং মার্কেটের দিকে নিয়ে যেতে চাই যা বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ এবং প্রাাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ-নির্ভর পুঁজিবাজারে রূপান্তর লাভ করবে যা দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য দীর্ঘমেয়াদি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মূলধন সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে।



