চেয়ারম্যান ও স্থানীয় নেতাদের দ্বন্দ্বে চাল বঞ্চিত ১৪ হাজার জেলে

Printed Edition

মাকসুদুর রহমান পারভেজ লালমোহন (ভোলা)

ভোলার লালমোহনে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞার ৩৬ দিন পার হলেও এখনো প্রথম কিস্তির ভিজিএফ চাল পায়নি ৯টি ইউনিয়নের হাজার হাজার জেলে। ঈদুল ফিতরের আগে জনপ্রতি ৮০ কেজি করে চাল বিতরণের কথা থাকলেও দায়িত্বপ্রাপ্তদের সমন্বয়হীনতায় তা ঝুলে আছে। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম খাদ্য সঙ্কটে পড়েছেন নিবন্ধিত জেলেরা।

অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় নেতাদের তালিকা প্রণয়ন এবং যাচাই-বাছাইয়ের দ্বন্দ্বে এই বিলম্ব ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত জেলেরা বাদ পড়ে প্রভাবশালী ও সচ্ছলদের নাম তালিকায় স্থান পাওয়ার অভিযোগও পুরনো। তবে বদরপুর ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুল্লাহর দাবি, তালিকা প্রস্তুত করতে দেরি হওয়ায় বিতরণ করা সম্ভব হয়নি, যা আগামী সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হবে।

ইলিশের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে মার্চ ও এপ্রিল- এই দুই মাস নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ সময় কর্মহীন জেলেদের জীবনধারণের জন্য সরকার চার ধাপে মোট ১৬০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়। তবে লালমোহন উপজেলায় মোট ২৪ হাজার ৭০০ জন নিবন্ধিত জেলে থাকলেও সরকারি বরাদ্দ এসেছে মাত্র ১০ হাজার ১০০ জনের জন্য। অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি জেলে সরকারি সহায়তা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত।

বরাদ্দ কম হওয়ার বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমেদ আখন্দ জানান, এটি সরকারি সিদ্ধান্ত। তবে তারা প্রতিবছরই বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠিয়ে থাকেন। এদিকে বরাদ্দকৃত সেই চাল বিতরণেও দেখা দিয়েছে চরম অনিয়ম ও ধীরগতি। লর্ডহার্ডিঞ্জ ও পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নে আংশিক বিতরণ শুরু হলেও বাকি ইউনিয়নগুলোতে এখনো চাল পৌঁছায়নি।

মেঘনা পাড়ের জেলে মোবারক মাঝি ও মোছলেম মাঝি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে আয়-রোজগার বন্ধ। ধারদেনা করে আর এনজিওর কিস্তি দিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সরকারি চালই ছিল আমাদের শেষ ভরসা, কিন্তু রমজান ও ঈদ চলে গেলেও চালের দেখা নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক এ বিষয়ে জানান, মৎস্য অফিসকে দ্রুত তালিকা চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব ইউনিয়নে চাল বিতরণ সম্পন্ন করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।