মির্জাগঞ্জে জরাজীর্ণ সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

Printed Edition
মির্জাগঞ্জের ঝাটিবুনিয়া এলাকার লোহার ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ : নয়া দিগন্ত
মির্জাগঞ্জের ঝাটিবুনিয়া এলাকার লোহার ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ : নয়া দিগন্ত

উত্তম গোলদার মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘ দিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকা একটি লোহার সেতু দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চালকেরা। উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝাটিবুনিয়া এলাকায় ধোপাবাড়ি সংলগ্ন খালের ওপর নির্মিত এই সেতুটি এখন প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, দক্ষিণ ঝাটিবুনিয়া মহাসড়ক থেকে ফকিরহাট সড়কের সংযোগস্থলে অবস্থিত ধোপাবাড়ি এলাকার এই লোহার সেতুটি প্রায় দুই দশক আগে নির্মাণ করা হয়। তবে দীর্ঘ ছয় বছরের বেশি সময় ধরে সেতুটি সংস্কার বা রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় এর বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়েছে। সেতুর বেশ কয়েকটি সিøপার ও পিলার খালে পড়ে গেছে। ফলে পুরো কাঠামোটি এখন নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, সেতুর অনেক অংশ ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় লোকজন নিজেরাই গাছ দিয়ে পাটাতন বসিয়ে অস্থায়ীভাবে মেরামত করে পারাপারের ব্যবস্থা করেছেন। তবে এতে ঝুঁকি কমেনি। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই সেতু দিয়ে চলাচল করছেন। বিশেষ করে কলেজ শিক্ষার্থী, ঝাটিবুনিয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ঝাটিবুনিয়া এনডব্লিউ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত এই সেতু ওপর দিয়ে যানবাহনে অথবা পায়ে হেঁটে উপজেলা শহরে যাতায়াত করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইদ রেজা বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে এলাকাবাসীর চলাচলের সুবিধার জন্য সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণের পর থেকে এ পর্যন্ত কোনো সংস্কার করা হয়নি। ফলে ধীরে ধীরে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, আমরা এই সেতু দিয়েই কৃষিপণ্য পরিবহন করি। কিন্তু এখন এতটাই ভাঙা যে কোনো গাড়ি এই সেতুর ওপর দিয়ে যেতে চায় না। কখন যে সেতুটি ভেঙে পড়ে, সেই ভয় নিয়ে নিজে মালামাল বহন করে সেতু পার হতে হয়।

আবু হাসান নামে স্থানীয় আরেকজন বলেন, বিষয়টি উপজেলা এলজিইডি বিভাগকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সামনে ঈদ উপলক্ষে সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়বে। তাই জনস্বার্থে ঈদের আগেই সেতুটি সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।

ঝাটিবুনিয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আবদুল গাফফার বলেন, বহু বছর ধরে সেতুটি ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার করা হলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত নিরাপদ হবে এবং এলাকার মানুষের ভোগান্তিও কমবে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলোর নতুন করে তালিকা তৈরির কাজ চলছে। সরেজমিন পরিদর্শনের পর নতুন সেতু নির্মাণের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হবে।