খুলনা ব্যুরো
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দেশে অর্থনৈতিক মন্দা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, চাঁদাবাজি, খুন, ধর্ষণ ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির ফলে বিএনপি সরকার জনগণের আস্থা হারাচ্ছে। দুই-তিন মাস যেতেই পারেনি, মন্ত্রীদের কোথাও গেলে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান শুনতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেখানেই যাচ্ছেন সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন।
তিনি আরো বলেন, জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার কারণেই সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে। সরকারকে এ অবস্থা থেকে শিক্ষা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক লুটপাট বন্ধ করতে হবে। দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি বাদ দিয়ে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সাথে রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে সরকারকে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে।
গত শনিবার সকালে ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে উপজেলার খর্ণিয়ার টিপনা মাদরাসা অডিটোরিয়ামে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। উপজেলা আমির ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা মোক্তার হোসেনের সভাপতিত্বে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি আব্দুর রশীদ বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- খুলনা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্যা ও বাবু কৃষ্ণ নন্দী। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন- ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির গাজী মো: সাইফুল্লাহ ও মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা ফরহাদ আল মাহমুদ, মাওলানা হাফিজুর রহমান, মাওলানা শফিকুর রহমান, মাওলানা সাইদুল্লাহ হোসাইন, বি এম আলমগীর হোসাইন, মো: আমান উল্লাহ আমান, ডুমুরিয়া সদর থানা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান প্রমুখ।
গত শুক্রবার ফুলতলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে শিরোমনি খানজাহান আলী আদর্শ মহাবিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ঈদ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতায় রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। গণভোটে যেসব বিষয়ে জনগণ মতামত দিয়েছে, সেগুলো সংবিধানের তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হলে চলমান সঙ্কট অনেকটাই নিরসন হতে পারে। তিনি বলেন, সরকারের সামনে এখনো সময় আছে। চাইলে তারা বাজেট অধিবেশন শুরুর আগেই উদ্যোগ নিতে পারে। সংসদকেই সব রাজনৈতিক আলোচনা ও সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু বানাতে হবে। রাজপথে সঙ্ঘাতমুখী পরিস্থিতি তৈরি করা সমীচীন হবে না।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামী গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চায়। আমরা আগের মতো জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর, হরতালের রাজনীতিতে ফিরতে চাই না।
সরকার বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিতরণ, কার্ড কার্যক্রম ও উন্নয়ন প্রকল্পের নামে দলীয়করণ করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, শুরুতেই ভাগবাটোয়ারা, নিজেদের মধ্যে হানাহানি, মারামারি ও লুটপাট শুরু হয়ে গেছে।
প্রশাসনে দলীয় প্রভাব বিস্তার করে বদলি, পোস্টিং এবং ওএসডি করার মাধ্যমে প্রশাসনকে দলীয়করণের চেষ্টা চলছে। সচিবালয় থেকে উপজেলা প্রশাসন পর্যন্ত ব্যাপক রদবদল হচ্ছে। এটা অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। যে অফিসার সৎ, ঘুষ খায় না, নামাজ পড়ে তাকেও সরিয়ে দেয়া হচ্ছে শুধু রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে। এটা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার জন্য অশনি সঙ্কেত।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খানজাহান আলী থানা আমির ও ফুলতলা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী সৈয়দ হাসান মাহমুদ টিটো। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইন ও সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান।



