বাংলাদেশ ল ইয়ার্স কাউন্সিলের আলোচনা সভা

নির্বাচনে সূক্ষ্ম কারচুপির পরও সঙ্ঘাতে যায়নি জামায়াত : গোলাম পরওয়ার

Printed Edition
বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের ইফতার মাহফিলে বক্তব্য রাখেন মিয়া গোলাম পরওয়ার :  নয়া দিগন্ত
বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের ইফতার মাহফিলে বক্তব্য রাখেন মিয়া গোলাম পরওয়ার : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘নির্বাচনে সূক্ষ্ম কারচুপির পরও জামায়াতে ইসলামী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে ফলাফল মেনে সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে’। কারণ জামায়াতে ইসলামী সঙ্ঘাত-সহিংসতা চায় না। দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য হচ্ছে সরকারি দল ও বিরোধীদল সমন্বিতভাবে একে অপরকে সহযোগিতার মাধ্যমে এক নতুন ব্যবস্থার রাজনীতি গড়ে তুলে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা।

গতকাল সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ ল ইয়ার্স কাউন্সিল আয়েজিত জাকাত ও রমাদান শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি উপস্থিত আইনজীবীদের উদ্দেশে জাকাত ও রমাদানের তাৎপর্য তুলে ধরে যথাযথভাবে হিসেব করে জাকাত পরিশোধের আহ্বান জানান।

গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা সারা দেশে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের টার্গেট করে হামলা চালাচ্ছে। বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ চালিয়ে আসছে। এতো সহিংসতার পরও জামায়াতে ইসলামী পাল্টা জবাব না দিয়ে সংযত থেকে সরকারকে বারবার সহিংসতা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে। সরকার নিজ দলের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হতে পারে। তাই সরকারকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং বাংলাদেশ ল ইয়ার্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, বাংলাদেশ এক অন্ধকার অধ্যায় পেরিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে বিচার আঙ্গনে এমন বিপর্যয় পৃথিবীর আর কোথায় হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের বিচার বিভাগের একটা সম্মান ও মর্যাদা ছিল। সেই সময়ে কারো মুখের দিকে তাকিয়ে বিচার করা হতো না। তখন সরকারের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক অনেক রায় আমরা দেখতে পেয়েছিলাম। কিন্তু আমরা আজকে বলতে বাধ্য হচ্ছি, সেই বিচার ব্যবস্থা আজ আর নেই। আমাদের একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি তিনি নিজের লেখা বইয়ে উল্লেখ করেছেন এক বিশেষ জায়গা থেকে রায়ের নির্দেশ আসত। এই ধরনের বিচার ব্যবস্থা থেকে আমরা বেরিয়ে আসার একটা পথ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা যদি একটি সভ্য জাতিতে রূপান্তরিত হতে চাই তবে অবশ্যই আমাদের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। যেই দেশগুলো উন্নত এবং সভ্য সেই দেশগুলোতে আইনের শাসন এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা ব্যতিত কোনো রাষ্ট্রকে সভ্য এবং উন্নত রাষ্ট্র বলা যায় না।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, রমজান মাস ব্যক্তি, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে পরিশুদ্ধ ও পবিত্র করার মাস। ব্যক্তি-সমাজ এবং রাষ্ট্রকে পরিশুদ্ধ করার মাধ্যমে একটি বসবাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব। যদি কোনো ব্যক্তি তাকওয়া অর্জন (আল্লাহর ভয়) করে তবে তার দ্বারা দুর্নীতি-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি, অন্যের অধিকার নষ্ট করা, অন্যায় এবং অশ্লীলতার থেকে দূরে থাকা সহজ হবে। ব্যক্তির মধ্যে আল্লাহর ভয় যখন থাকে, তখন দুনিয়ার কোনো লোভ-লালসা তাকে অস্থির করে না। তাই তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিশুদ্ধি সম্ভব। তিনি আরো বলেন, আজকে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দুর্নীতি বন্ধ করা। দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্বের প্রয়োজন। সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অন্যতম আরেকটি চ্যালেঞ্জ। দুর্নীতি এবং সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করতে হলে খোদাভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

বাংলাদেশ ল ইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো: জসীম উদ্দীন সরকারের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তৃতা করেন- ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি, বাংলাদেশ ল ইয়ার্স কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্ট বার ইউনিট সভাপতি অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন মিন্টু, সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট ড. গোলাম রহমান ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল বাতেন, কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মো: আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট মো: সাইফুর রহমান প্রমুখ।