বিনোদন প্রতিবেদক
আইনূন পুতুল, বাংলাদেশের নাটক ও সিনেমার একজন দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী। মাঝে মধ্যে তিনি উপস্থাপনাও করেন। নন্দিত এই অভিনেত্রী এর আগে ‘ঘেটুপুত্র কমলা’, ‘বৃহন্নলা’, ‘কৃষ্ণপক্ষ’, ‘ব্ল্যাক ওয়্যার’, ‘বিলডাকিনি’ ও ‘রাতজাগা ফুল’ সিনেমায় পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। তবে সেসব সিনেমাতে অভিনয় করেও আইনূন পুতুল দর্শকের মন ছুঁয়ে যেতে পেরেছিলেন। পার্শ্ব চরিত্র থেকে এবার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেই তিনি ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কারে ভূষিত হলেন। গত ২৯ জানুয়ারি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। আর এই তালিকাতেই কে এম হালিমুজ্জামান (খন্দকার সুমন) পরিচালিত ‘সাঁতাও’ সিনেমাতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে ঘোষিত হয়েছেন। আইনূন পুতুল বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার খবরটি শোনার পর থেকে সারাটা রাত আমার এমনভাবেই পার হয়েছে যে, মনেই হচ্ছিল- আমি স্বপ্ন দেখছিলাম। আমি আমার স্বামী রফিককে বলছিলাম, হয়তো এটি জন্মদিনের শুভেচ্ছার মতো কিছু একটা, রাত ১২টার পর তা শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু শেষমেশ আমি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে সম্মাননা পেয়েছি, এটি বিশ্বাস করতেই কষ্ট হচ্ছে। সত্যিই আজ আব্বুর কথা ভীষণ ভীষণ মনে পড়ছে। আব্বু বেঁচে থাকলে তিনিই সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। আমার মা দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ, তিনি অন্তত আমার এই প্রাপ্তি দেখে যেতে পারলেন, এটিই আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই জুরি বোর্ডে যারা ছিলেন, তারা আমাকে যোগ্য মনে করেছেন বলেই আমাকে নির্বাচিত করেছেন। বিশেষ ধন্যবাদ জানাই সাঁতাওয়ের পরিচালক খন্দকার সুমন ভাইসহ পুরো টিমকে। যাদের নিরলস শ্রম, চেষ্টায় সাঁতাওয়ের আজ এই প্রাপ্তি।’ প্রসঙ্গত সাঁতাওয়ের পরিচালকও শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে (এককভাবে) জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। ২০০৪-০৫ সেশনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আইনূন পুতুল নাটকেই এমফিল করে এখন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক চলচ্চিত্রে পিএইচডি করছেন। ২০০৬ সালে তিনি বাংলাভিশনে প্রচারিত ‘ঘাটের কথা’ নাটকে প্রথম অভিনয় করেন। এতে তিনি কেন্দ্রীয় কুসুম চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।



