চোখের শুষ্কতা দূর করতে প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী লুব্রিকেটিং আই ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে গ্লুকোমা রোগীদের এই সময়ে নিয়মিত ওষুধ সেবন ও চিকিৎসকের ফলোআপে থাকা বাধ্যতামূলক

শীতে চোখের যতœ

Printed Edition
শীতে চোখের যতœ
শীতে চোখের যতœ

ডা. জাকিয়া সুলতানা

শীতে শুষ্ক আবহাওয়া ও ধুলাবালু আমাদের শরীরের সবচেয়ে সংবেদনশীল অঙ্গ চোখের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। শীতকালীন শুষ্কতা, ঠাণ্ডা বাতাস ও প্রখর সূর্যালোকের কারণে বর্তমানে অনেকের মধ্যেই চোখের নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

সচেতনতা ও কিছু সহজ অভ্যাসের মাধ্যমে এই সময়ে চোখকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

শীতকালে চোখের সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা হলো ‘ড্রাই আই সিনড্রোম’ বা চোখের শুষ্কতা। আর্দ্রতা কমে যাওয়ার ফলে চোখের পানির স্তর শুকিয়ে যায়, যার ফলে চোখে জ্বালাপোড়া, চুলকানি কিংবা লাল ভাব দেখা দিতে পারে। এছাড়া বাতাসে ধুলাবালু বেড়ে যাওয়ায় অ্যালার্জির প্রকোপ বৃদ্ধি পায়।

অনেক ক্ষেত্রে ভাইরাসজনিত সংক্রমণের কারণে চোখ ওঠা বা কনজাংটিভাইটিসের সমস্যাও প্রকট হয়। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো গ্লুকোমা।

শীতকালে চোখের ভেতরের চাপ বা ইন্ট্রাঅকুলার প্রেশার ওঠানামা করার প্রবণতা থাকে, যা গ্লুকোমা রোগীদের জন্য নীরব বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বাইরে বের হওয়ার সময় সানগ্লাস বা প্রোটেকটিভ চশমা ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি, যা সরাসরি ঠাণ্ডা বাতাস ও ধুলাবালু থেকে চোখকে রক্ষা করে। অপরিষ্কার হাত বারবার চোখে লাগানো থেকে বিরত থাকতে হবে এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করে শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখতে হবে।

চোখের শুষ্কতা দূর করতে প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী লুব্রিকেটিং আই ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে গ্লুকোমা রোগীদের এই সময়ে নিয়মিত ওষুধ সেবন ও চিকিৎসকের ফলোআপে থাকা বাধ্যতামূলক।

চোখে তীব্র ব্যথা, হুট করে দৃষ্টি কমে যাওয়া কিংবা দীর্ঘমেয়াদি লাল ভাবের মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। পরিবারের শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকায় তাদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার প্রয়োজন।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট