ক্রীড়া ডেস্ক
নোভাক জোকোভিচ পেরেছেন! ১১তম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে উঠেছেন! রেকর্ড-ব্রেকিং ২৫তম গ্র্যান্ডসø্যাম একক শিরোপা থেকে আর এক ম্যাচ দূরে সার্বিয়ান এই কিংবদন্তি। ইতালির তারকা জেনিক সিনারকে সেমিফাইনালের ম্যারাথন ম্যাচে ৩-৬, ৬-৩, ৪-৬, ৬-৪ ও ৬-৪ গেমে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন জোকোভিচ।
সিনারকে চার ঘণ্টা ৯ মিনিটে হারিয়ে নিজেই বিশ্বাস করতে পারছেন না। কোর্টে হাঁটু গেড়ে বসেন ও তারপর নিজের চেয়ারে গিয়ে মাথায় হাত নিয়ে বসে থাকেন তিনি। ম্যাচ নির্ধারক সেটে আটটি ব্রেক পয়েন্ট সেভ করেন জোকোভিচ।
২০২৪ সালে উইম্বলডনের পর এটি হবে প্রথম গ্র্যান্ডসø্যাম ফাইনালে অংশগ্রহণ জোকোভিচের। শিরোপা লড়াইয়ে জয়ী হলে ২০২৩ সালের ইউএস ওপেনের পর এটি হবে তার প্রথম মেজর শিরোপা। আর ২০২৩ সালের পর এটিই প্রথমবারের মতো তিনি পরাজিত করলেন জেনিক সিনারকে।
জয়ের পর কোর্টে জোকোভিচ বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমার ভাষায় কথা বলার ভাষা নেই। এটা অবাস্তব লাগছে, চার ঘণ্টা ধরে খেলা, প্রায় রাত ২টা। আমি ২০১২ সালের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছি, যখন আমি ফাইনালে রাফা (নাদাল) এর সাথে খেলি। প্রায় ৬ ঘণ্টা; কিন্তু টেনিসের তীব্রতা ও মান অত্যন্ত বেশি ছিল। এটাই ছিল তার বিরুদ্ধে আমার একমাত্র সুযোগ।’
তিনি যোগ করেন, ‘সে (সিনার) আমার বিপক্ষে শেষ পাঁচটি ম্যাচ জিতেছিল। তার কাছে আমার মোবাইল নম্বর ছিল, তাই আজ রাতের (গতকাল) জন্য আমাকে আমার নম্বর পরিবর্তন করতে হয়েছিল! আমাকে অন্তত একটি সুযোগ দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। তার প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা আছে, সে একজন অবিশ্বাস্য খেলোয়াড়। তার পারফরম্যান্সের জন্য সে এক দফা করতালির দাবিদার।’
এ দিকে দিনের প্রথম সেমিফাইনালে শারীরিক অসুস্থতা ও তীব্র চাপের মধ্যেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন কার্লোস আলকারাজ। আলেকজান্ডার জভেরেভকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে উঠেছেন এই স্প্যানিয়ার্ড। পাঁচ ঘণ্টা ২৭ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস সেমিফাইনালে স্পেনের বিশ্বের এক নম্বর জিতেছেন ৬-৪, ৭-৬ (৭-৫), ৬-৭ (৩-৭), ৬-৭ (৪-৭) ও ৭-৫ ব্যবধানে। এ জয়ে সব ধরনের গ্র্যান্ডসø্যামের ফাইনালে উঠা সবচেয়ে তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে নাম লিখালেন আলকারাজ।
ম্যাচের শুরুতে প্রথম দুই সেট জিতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই এগোচ্ছিলেন আলকারাজ। তবে তৃতীয় সেটে ৪-৪ গেমে সার্ভ করতে গিয়ে হঠাৎই পায়ে টান ধরে যায় তার। ঠিকভাবে দৌড়াতে বা সার্ভ করতেও হিমশিম খেতে থাকেন তিনি। তখন মেডিক্যাল টাইমআউট নেন আলকারাজ, যা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তৃতীয় বাছাই জভেরেভ। শারীরিকভাবে ভেঙে পড়লেও ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরেন আলকারাজ, ম্যাচ গড়ায় পঞ্চম সেটে।
চূড়ান্ত সেটে শুরুতেই ব্রেক পেয়ে ৫-৪ ব্যবধানে ম্যাচ সার্ভ করার সুযোগ পান জার্মান তারকা। কিন্তু তখনই দর্শকদের সমর্থনে উজ্জীবিত হয়ে অসাধারণভাবে ঘুরে দাঁড়ান আলকারাজ। ব্রেক ফিরিয়ে ম্যাচে সমতা আনেন তিনি। এরপর ৬-৫ গেমে জভেরেভের সার্ভ ভেঙে ম্যাচ জিতে মেলবোর্নের দর্শকদের উল্লাসে ভাসান স্প্যানিশ তরুণ।
এই জয়ে টিকে রইল ২২ বছর বয়সী স্প্যানিশ তরুণের ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন। রোববারের ফাইনালে জিতলে তিনিই হবেন সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড়, যিনি ক্যারিয়ার গ্র্যান্ডসø্যাম পূর্ণ করবেন।
এ দিকে নারী এককে শিরোপার লড়াইয়ে আজ রড লেবার এরিনাতে বেলা ২.৩০ মিনিটে বেলারুশের আরিনা সাবালেঙ্কার মুখোমুখি হবেন কাজাক তারকা এলিনা রিবাকিনা।


