রফিকুল হায়দার ফরহাদ
এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে বাংলাদেশের স্বর্ণ, রৌপ্য এবং ব্রোঞ্জ সবই আছে। তবে এই গেমসে বাংলাদেশের প্রথম পদক জয় ১৯৮৬ সিউল এশিয়ান গেমসে। তা এসেছিল বক্সিংয়ে। মোশাররফ হোসেন এই পদক আনেন দক্ষিণ কোরিয়ার মাটি থেকে। আর বাংলাদেশের হয়ে স্বাধীনতার পর প্রথম পদকও এই বক্সিংয়ে। যা ১৯৭৭ সালে জাকার্তা এশিয়ান বক্সিংয়ে জিতেছিলেন আবদুল হালিম। পরবর্তীতে এস এ গেমসে বাংলাদেশ একাধিকবার স্বর্ণ জিতেছিল বক্সিংয়ে। অবশ্য এখন এস এ গেমসে এই স্বর্ণ জয়টা বেশ কঠিনই হয়ে গেছে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের হ্যাংজু এশিয়ান গেমসে বক্সার সেলিম অল্পের জন্য ব্রোঞ্জ জিততে পারেননি। তুমুল লড়াইয়ের পর জাপানি প্রতিপক্ষের কাছে হারতে হয়েছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই বক্সারকে। এ বছর বাংলাদেশ অংশ নেবে চারটি গেমসে। এশিয়ান গেমস, কমনওয়েলথ গেমস, মার্শাল আর্ট গেমস ও যুব অলিম্পিক গেমস। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জুলাই-আগস্টের গ্লাসগো এশিয়ান গেমস ও সেপ্টেম্বর- অক্টোবরের আইচি নাগোয়া এশিয়ান গেমস। এই এশিয়ান গেমসে ফের পদক জিততে বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের চোখ এখন ইংল্যান্ড-প্রবাসী ইউসুফ উদ্দিনকে ঘিরে। ক্যারিয়ারে কোনো ম্যাচে না হারা এবং পাঁচটি আসরে স্বর্ণ জয় বা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব এই ২৩ বছর বয়সী বক্সারের।
গতকাল থেকে বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশন শুরু করেছে এশিয়ান গেমস এবং কমনওয়েলথ গেমসের জন্য বক্সিং দলের ক্যাম্প। এ ক্যাম্পে যোগ দিতে জুলাইয়ে বাংলাদেশে আসবেন ইউসুফ উদ্দিন। বক্সিং ফেডারেশন সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য। ৫১ কেজিতে লড়বেন ইউসুফ। অবশ্য তাকে বাংলাদেশে এসে ট্রায়াল দিতে হবে। কারণ অতীতে প্রবাসী এমন বেশ কয়েকজন বক্সার এসেছিলেন; কিন্তু ব্যর্থ হয়েছেন প্রত্যাশা পূরণে। এর মধ্যে ১৯৯৩ সালের ঢাকা সাফ গেমসে ইংল্যান্ড প্রবাসী ব্রায়ান আহমেদের পারফরম্যান্স চরমভাবে হতাশার জন্ম দিয়েছিল। ফেডারেশনের বর্তমান সেক্রেটারি এম এ কুদ্দুস খান যখন নির্বাচিত সেক্রেটারি ছিলেন তখন ইংল্যান্ড-প্রবাসী আল সাফওয়ান উদ্দিন বাংলাদেশে কুদ্দুসের ক্লাবের হয়েই খেলেছিলেন। স্বর্ণও জিতেছিলেন। যদিও পরে তাকে উপেক্ষা করে ফেডারেশনের পরবর্তী দায়িত্বশীলরা। তাই এবার ইউসুফ উদ্দিনকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে তাকে বাংলাদেশে এসে স্থানীয় বক্সারদের সাথে ট্রায়ালে অংশ নিতে হবে। তবে ফেডারেশন কর্মকর্তাদেরর্ আশাবাদ যেহেতু ইউসুফ উদ্দিন ইংল্যান্ডে বড় হয়েছেন সেখানেই তার বক্সিংয়ে হাতেখড়ি, শারীরিক গঠনটাও প্রকৃতপক্ষে একজন বক্সারের মতো তাই তাকে দিয়ে কিছু একটা হতে পারে এশিয়ান গেমসে। উল্লেখ্য, সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে নাম এন্ট্রি করা যাচ্ছে না ইউসুফ উদ্দিনের। ফলে তিনি এশিয়ান গেমসেই খেলবেন। যেহেতু বয়স মাত্র ২৩ বছর তাই বক্সিং ফেডারেশনের আশা যদি ইউসুফ উদ্দিন তার ফর্মটা ধরে রাখতে পারেন তাহলে তার কাছে আগামী ১০ বছর পর্যন্ত সার্ভিস পাবে বাংলাদেশ।
ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-৫০ কেজি ওজন শ্রেণীতে ১ নম্বর র্যাংকিংধারী বক্সার তিনি। সোজা কথা এলিট শ্রেণীর বক্সার। তা জুনিয়র, যুব এবং বর্তমানে সিনিয়র তিন লেভেলেই। বাবা সিরাজ উদ্দিনের দুই ছেলের একজন এই ইউসুফ উদ্দিন। তার অপর ভাই হামজা উদ্দিনও বক্সার। ইউসুফ জায়গা করে নিয়েছেন ইংল্যান্ড জাতীয় দলেও। তিন বছর ধরে আছেন ইংলিশ জাতীয় দলে। এর মধ্যে তিনি ৫ বার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। ৪টি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক গলায় তুলেছেন। ২০২৩ সালে জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে সেরা হন। এরপর ২০২৪ সালে ইয়ুথ ওপেন ও ন্যাশনাল ইয়ুথকে স্বর্ণ জয় করেন। গত বছর সিনিয়র ন্যাশনালে চ্যাম্পিয়ন হয়ে এরপর সিনিয়র এলিট ন্যাশনালেও স্বর্ণ জিতেছেন।
এ দিকে গত জাতীয় বক্সিংয়ে স্বর্ণ জিতে যাওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-প্রবাসী জিনাত ফেরদৌসও এশিয়ান গেমস ও কমনওয়েলথ গেমসে ট্রায়াল দিতে বাংলাদেশে আসছেন। ফেডারেশন কর্মকর্তাদের আশাবাদ জিনাত যে মানের বক্সার তাতে তার পক্ষে কমনওয়েলথ গেমসে পদক জেতা সম্ভব। তা ছাড়া মধ্য এশিয়ান বক্সাররা নেই কমনওয়েলথ গেমসে। তাই জিনাতকে ঘিরে স্বপ্ন। অবশ্য তাকেও স্থানীয়দের সাথে ফাইট করে জাতীয় দলে ডাক পেতে হবে। গত এশিয়ান গেমসে অল্পের জন্য ব্রোঞ্জ জিততে ব্যর্থ হওয়া সেলিমও আছেন ক্যাম্পে।
এ বছর জানুয়ারিতে হওয়ার কথা ছিল এস এ গেমস। সে জন্য কিরগিজস্তান থেকে কোচও এনেছিল বক্সিং ফেডারেশন। এখন এশিয়ান গেমস ও কমনওয়েলথ গেমসের জন্য বিদেশী কোচ আনার চেষ্টা চলছে। জানান সেক্রেটারি এম এ কুদ্দুস।



