আবুল কালাম
এখন টিভির লোগোযুক্ত একটি ফটোকার্ড সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি এমডি কামরুজ্জামান নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ফটোকার্ডটি শেয়ার করা হয়। তাতে লেখা, ‘আপনারা ভোট দিয়ে দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের সংসদে পাঠাবেন, আর তারপর আমাদের কাছে নিরাপত্তা চাইবেন? এটা কেমন কথা’? ‘সেনাপ্রধান’।
ফটোকার্ডটি ছড়িয়ে পড়ার পার ফ্যাক্ট চেক করার উদ্যোগ নেয় ‘বুম বাংলাদেশ’। প্রতিষ্ঠানটি বলছে তথ্য যাচাইয়ে এর সত্যতা মেলেনি। তাদের ভাষ্য, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া আলোচ্য পোস্টের ফটোকার্ডটি এডিটেড। বেসরকারি সম্প্রচার মাধ্যম এখন টিভির লোগোযুক্ত ভিন্ন একটি ফটোকার্ডকে এডিট করে আলোচ্য ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফেসবুক পেজেও পোস্ট করে আলোচ্য ফটোকার্ডটি ভুয়া বলে জানানো হয়েছে।
ফ্যাক্ট চেকে আলোচ্য ফটোকার্ডটির কি-ওয়ার্ড সার্চ করে এখন টিভির ফেসবুক পেজে বা নির্ভরযোগ্য কোনো গণমাধ্যমে আলোচ্য ফটোকার্ডে থাকা তথ্যসহ কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে পরবর্তীতে কি-ওয়ার্ড সার্চ করে এখন টিভির অনলাইন ভার্সনে ১ ফেব্রুয়ারি ‘খেলাধুলার সাথে জড়িত কোনো খেলোয়াড়কে কখনো খারাপ কাজে দেখিনি : সেনাপ্রধান’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, খেলাধুলার সাথে জড়িত কোনো খেলোয়াড়কে কখনো খারাপ কাজে লিপ্ত হতে দেখিনি। আমাদের দেশের যুবকদের চরিত্র গঠনের জন্য অন্যতম মাধ্যম খেলাধুলা, তাই যুবকদের আমরা বেশি বেশি খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে চাই। ১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ময়মনসিংহের ত্রিশালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রায় ১৭৩ একর জমিতে অলিম্পিক কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এ ছাড়াও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায়। ওই পোস্টের ক্যাপশনে আলোচ্য ছবিটির ব্যাপারে বলা হয়, ‘সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি’।
এতে বলা হয়, সম্প্রতি একটি স্বার্থান্বেষী মহল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ঘিরে এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট ও বিভ্রান্তিকর ফটোকার্ড সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করছে। এ ধরনের অপতথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে সংবাদ মাধ্যমের ভেরিফাইড পেজগুলো অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
অর্থাৎ আলোচ্য পোস্টের ফটোকার্ডটি এডিটেড। এখন টিভির ফেসবুক পেজে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের বক্তব্য নিয়ে প্রচারিত এখন টিভির লোগোযুক্ত ভিন্ন একটি ফটোকার্ডকে এডিট করে ওই ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে। সুতরাং সেনাপ্রধানের বক্তব্য বলে দাবি করে এডিটেড ফটোকার্ড প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে যা বিভ্রান্তিকর।



